ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়েছিলেন পরিচালক উডি অ্যালেন। উৎসবে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হলো তার ৫০তম সিনেমা ‘ক্যু দে চান্স’-এর। হতে পারে এটিই তার পরিচালিত শেষ সিনেমা। উডি অ্যালেন গত বছরই ঘোষণা দিয়েছিলেন পরিচালনা থেকে অবসর নিচ্ছেন। তবে ৮৭ বছর বয়সেও সিনেমা নিয়ে তার আগ্রহ কমেনি। সময়ের সঙ্গে তিনি বদলেছেন নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। পাশাপাশি খোঁজ রেখেছেন সিনেমা জগতের কোথায় কী হচ্ছে। বর্তমানে চলতে থাকা নানা বিষয়ে তার রয়েছে নিজস্ব মত। এর মধ্যে সিনেমা নির্মাণ প্রসঙ্গে ভ্যারাইটির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মাথায় অনেক সিনেমারই পরিকল্পনা আছে। প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় হলেই সিনেমাগুলো নির্মাণ করা যায়। কিন্তু কথা হচ্ছে এখন সেই অর্থ জোটানোর মতো শক্তি আমার হবে কিনা।’
কেবল বয়স নয়, আরো কিছু বিতর্কের কারণে সিনেমায় অর্থ পাওয়া বা প্রযোজনার ক্ষেত্রে তার সমস্যা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে সিনেমা নির্মাণ করেছেন তিনি। এর আগে নির্মিত সিনেমাগুলো তাকে বৈশ্বিক সিনেমার একজন আইকনে পরিণত করেছে। শেষ সিনেমাটি তিনি ফ্রান্সে নির্মাণ করেছেন। ফ্রান্সকে কেন বেছে নিলেন সে প্রশ্ন করলে অ্যালেন বলেন, ‘নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠার সময় যে সিনেমাগুলো দেখতাম তার অনেকগুলো নির্মিত হয়েছিল সুইডেন, ইতালি ও ফ্রান্সে। আমার জন্ম ফ্রান্সে হয়নি কেন তা ভাবতাম আর ফরাসি সিনেমা নির্মাতা হতে চাইতাম। ত্রুফো আর গদারের ভক্ত হয়ে উঠেছিলাম। এদের সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। এমনকি গদারের সঙ্গে কাজও করেছি। অন্যান্য নামি নির্মাতার মতো হতে চাইতাম। কিন্তু আমি ছিলাম নিউইয়র্কের নির্মাতা। তাই এবারের সিনেমা ফ্রান্সে নির্মাণ করা।’
সিনেমায় প্যারিসে বসবাসকারী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের গল্প বলা হয়েছে। কিন্তু অভিনয়ের ক্ষেত্রে কাস্ট করা হয়েছে ফরাসি শিল্পীদের। একপর্যায়ে সিনেমাটি অনেকটাই হয়ে উঠেছে ফরাসি জীবনযাপনের কাল্পনিক কিন্তু আরাধ্য চিত্র। এ প্রসঙ্গে উডি অ্যালেন বলেন, ‘বিষয়টা আমার মধ্যে অনেক আগে থেকেই ছিল। মিডনাইট ইন প্যারিসে আমি সে কাজটা করেছি। নিউইয়র্কের ক্ষেত্রেও আমার মনোভাব একই রকম। শহর বিষয়টাই ফ্যান্টাসির। আমি সেভাবেই শহরের প্রেমে পড়ি, যেভাবে বহু নির্মাতা তার সিনেমার নায়িকাদের প্রেমে পড়ে। তবে শুধু নিজের গল্পে নয়, আমি অন্য নির্মাতাদের দেখানো শহরেরও প্রেমে পড়েছি। যেমন স্পাইক লির নিউইয়র্ক বা মার্টিন স্করসেসির। বহু বছর আমি নিউইয়র্কের প্রেমে বুঁদ হয়ে ছিলাম।’
‘ক্যু দে চান্স’ মুক্তির মাধ্যমে উডি অ্যালেনের মোট সিনেমার সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৫০ এবং একসময় অ্যালেন বলেছিলেন, সিনেমা নির্মাণের সময় অভিনেত্রীদের কাছ থেকে কখনো অভিযোগ আসেনি। এখনো একই কথা বলবেন কিনা সে প্রশ্নের জবাবে অ্যালেন বলেন, ‘আমার সিনেমায় সবসময় নারীদের জন্য বেশ বড় রোল থাকে। এছাড়া পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও অভিনেতা ও অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা হয় না। শত অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করেছি, তারাও অভিযোগ করেনি। আমি তাদেরই নিয়ে কাজ করি, যারা সিনেমার চরিত্রের জন্য সেরা কাজটি করতে পারবে।’
অ্যালেন এ কথা বললেও তার বিরুদ্ধে উঠেছিল হয়রানির অভিযোগ। এ নিয়ে বেশ জল ঘোলা হয়েছিল। ফলে উডি অ্যালেনকে বাতিল করার একটি রবও উঠেছিল সে সময়। বাতিল করার বিষয়টি নিয়ে নির্মাতা বলেন, ‘আমার মনে হয় কোনো ক্ষেত্রে বাতিল হয়ে যাওয়ার মতো সম্ভাবনা তৈরি হলে ওই বিষয়কেই বাতিল করে দিতে হবে। আমার কাছে বিষয়টিকে খুব বোকাটে বলে মনে হয়। বছরখানেক পেরোনোর পর আমার জন্য সবকিছু আগের অবস্থায়ই ফিরে এসেছে। এসব নিয়ে আর চিন্তা করি না। বাতিল করা বলতে কী বোঝায়, সেটাই আসলে বুঝি না। এখনো সে আগের নিয়মেই সিনেমা নির্মাণ করি। চিত্রনাট্য লিখি, সিনেমা নির্মাণের জন্য অর্থ কে দেবে তা খুঁজি, পেয়ে গেলে শুটিং শুরু করি। আমার ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে কেবল গল্প বলার ধরনে। আর সময়ের সঙ্গে এ বদল স্বাভাবিক।’
উডি অ্যালেন সিনেমা নির্মাণ থেকে অবসর নিচ্ছেন এমন কথাই সবার জানা। হয়তো ‘ক্যু দে চান্স’ই তার শেষ সিনেমা। কিন্তু তিনি সিনেমা নির্মাণ করতেও পারেন, কেননা তার মাথায় অনেক আইডিয়া আছে। ভ্যারাইটি তার কাছে জানতে চেয়েছিল, সিনেমাটি কোন শহরে নির্মাণ করবেন। এর উত্তরে উডি অ্যালেন বলেন, ‘যদি আরেকটি সিনেমা নির্মাণ করি, নিউইয়র্কেই করব। আমার মাথায় মূল যে গল্পটা আছে তা নিউইয়র্কেই ভালো হবে।’
ভ্যারাইটি অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান










