বছরের শেষের দিকে এসে টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং পর্দায় আসছে নানা ধরনের চমক। আলোচিত হচ্ছে কমেডি, থ্রিলার ও ঐতিহাসিক ড্রামা থেকে শুরু করে জাপানের সামুরাই যুগের অ্যাকশন ধারার সিরিজ। প্রতিটি গল্পই সমকালীন প্রেক্ষাপট ও আলাদা আবহে তৈরি। নভেম্বরে বিশ্বব্যাপী দেখা যেতে পারে—এমন পাঁচটি আলোচিত সিরিজের সংক্ষিপ্ত আলোচনা নিয়ে এ আয়োজন

আই লাভ এলএ

কমিক ধারার ‘শিভা বেবি’ ও ‘বটমস’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে র‍্যাচেল সেন্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এবার হাজির হয়েছেন নতুন এক টিভি সিরিজের প্রধান চরিত্র হিসেবে। গল্পটি একদল বন্ধুর পুনর্মিলনকে কেন্দ্র করে, যারা লস অ্যাঞ্জেলেসে একত্রিত হয়। যদিও তাদের মধ্যে কয়েকজনের মধ্যে সে ইচ্ছা ছিল না। এইচবিও ম্যাক্সের অফিশিয়াল বর্ণনায় বলা হয়, ‘এক উচ্চাভিলাষী বন্ধুবৃত্ত এলএ শহরে জীবন ও প্রেমের পথে এগিয়ে চলে। সম্পর্কের টানাপড়েন ও কৌতুকের ভেতর দিয়ে এগোয় কাহিনী।

সেন্ট অভিনয় করছেন মাইয়া চরিত্রে, আর ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ তারকা জশ হাচারসন তার প্রেমিক ডিলান। ট্রেলারে দেখা যায়, মাইয়ার পুরনো বন্ধু টালুলা (ওডেসা আজিওন) হঠাৎ হাজির হলে মাইয়ার বিরক্তি শুরু হয়। সেন্টের আগের কাজের মতোই এখানে তীক্ষ্ণ, হাস্যরসাত্মক সংলাপ ও বন্ধুত্বের জটিল আবেগ আছে। এইচবিও ম্যাক্সে সিরিজটির প্রিমিয়ার হয়েছে ২ নভেম্বর।

অল’স ফেয়ার

রায়ান মারফির প্রযোজনায় নতুন সিরিজ অল’স ফেয়ারে প্রধান চরিত্রে রয়েছেন কিম কার্দাশিয়ান। সিরিজে তাকে এক ডিভোর্সি আইনজীবী হিসেবে দেখা যাবে। তিনি পুরুষ শাসিত একটি প্রতিষ্ঠান ছেড়ে তৈরি করেন সম্পূর্ণ নারীদের আইনি সংস্থা। অবশ্য বাস্তব জীবনেও কার্দাশিয়ান সম্প্রতি আইন পড়ার কোর্স শেষ করেছেন—তাই এ চরিত্রে এক ধরনের নিজের গল্পও আছে। রায়ান মারফির স্টাইলে প্রচুর গ্ল্যামার, নাটকীয়তা ও কৌতুক বিভিন্ন দৃশ্যে। আছে ঝগড়া, সংঘাত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সিরিজটির ট্রেলার ইউটিউবে এরই মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। ৪ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে এর প্রিমিয়ার হয়েছে।

অল হার ফল্ট

সাকসেশনের চরিত্র থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকায় সারা স্নুক অভিনয় করেছেন মারিসা আয়ারভিন নামে এক সফল নারী উদ্যোক্তা ও পাঁচ বছরের সন্তানের মা হিসেবে। গল্পে তিনি যখন ছেলেকে এক বন্ধুর বাড়ি থেকে আনতে যান, তখন বুঝতে পারেন ঠিকানাটি ভুল, আর তার ছেলে মাইলোকেও পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ঘটনার মাধ্যমে রহস্যময় থ্রিলারটি আবর্তিত হয়। বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে জটিল সম্পর্ক, অপরাধবোধ ও সন্দেহের গল্প আছে। অভিনয়ে আছেন জেক লেসি (মারিসার স্বামী পিটার), অ্যাবি ইলিয়ট, ড্যানিয়েল মঙ্কস এবং অন্যরা। থ্রিলারটি ৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের পিকক ও ৭ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের স্কাইয়ে প্রিমিয়ার হলো এর।

ডেথ বাই লাইটনিং

জেমস গারফিল্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অল্প পরিচিত প্রেসিডেন্ট। ১৯৮৮ সালে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ‘ডেথ বাই লাইটনিং’ নামে ঐতিহাসিক ড্রামা সিরিজে মাইকেল শ্যানন অভিনয় করছেন গারফিল্ডের চরিত্রে, আর ম্যাথিউ ম্যাকফেডিয়ান তার আততায়ী চার্লস গুইটো চরিত্রে অভিনয় করেন। ম্যাথিউ ম্যাকফেডিয়ান অবহেলার প্রতিশোধ নিতে প্রেসিডেন্টকে গুলি করেন।

বেটি গিলপিন আছেন ফার্স্ট লেডির ভূমিকায় এবং নিক অফারম্যান ভাইস প্রেসিডেন্ট চেস্টার আর্থারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি পরে প্রেসিডেন্ট হন।

সিরিজটি তৈরি হয়েছে ক্যান্ডিস মিলার্ডের বই ‘ডেসটিনি অব দ্য রিপাবলিক’ (২০১১)-এর ওপর ভিত্তি করে। পরিচালনা করেছেন মাইক মাকাওস্কি। ৬ নভেম্বর নেটফ্লিক্সে সিরিজটির প্রিমিয়ার হয়েছে।

লাস্ট সামুরাই স্ট্যান্ডিং

নেটফ্লিক্সের এ জাপানি অ্যাকশন সিরিজটি ১৮৭৮ সালের জাপানে সামুরাই যুগের শেষ দিকের ঘটনা অবলম্বনে। এ সময়ে সামুরাইরা ধন, ক্ষমতা ও মর্যাদার জন্য নতুন প্রতিযোগিতায় অংশ নিত। সিরিজের পরিসরও বিশাল। এক হাজারের বেশি অভিনেতা ও ক্রু সদস্য এতে কাজ করেছেন। গল্পে একটি সারভাইভাল প্রতিযোগিতা রয়েছে। কাহিনীর শুরু যখন ২৯২ জন অবশিষ্ট সামুরাই কিয়োটোর একটি মন্দিরে একত্রিত হয়। প্রতিটি খেলোয়াড়কে একটি কাঠের টোকেন দেয়া হয়। প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো যেকোনো মারাত্মক পদ্ধতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীর টোকেন ছিনিয়ে নেয়া। যিনি সবচেয়ে বেশি টোকেন নিয়ে টোকিও পৌঁছেন, তিনি জিতে যাবেন একটি বিশাল সম্পদ এবং সবচেয়ে বড় পুরস্কার—বেঁচে থাকার সুযোগ। সিরিজের মূল চরিত্রে শুজিরো অভিনয় করেছেন। তিনি একজন অপরাজিত সামুরাই। অসুস্থ স্ত্রী ও সন্তানের জন্য অর্থ প্রয়োজন—এ কারণে তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সিরিজটি শুধু অ্যাকশননির্ভরই নয়, বরং এতে সেই যুগের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নেটফ্লিক্সে এর প্রিমিয়ার হবে আগামী ১৩ নভেম্বর।

সূত্র : বিবিসি