মন্দাভাব কাটিয়ে ফের চাঙ্গা হয়ে উঠেছে জাপানের বক্স অফিস, যা বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ। এর প্রতিফলন ঘটেছে ২০২২ সালে। ২০২১ সালের তুলনায় এ বছর মোট ব্যবসা ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৬৪ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। জাপানি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২১ হাজার ৩০০ কোটি ইয়েন। ঊর্ধ্বমুখী এ প্রবণতায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে জাপানের অ্যানিমেশন সিনেমা ও হলিউডের সিনেমা। তথাপি অতিমারী পূর্ববর্তী ২০১৯ সালের তুলনায় এ আয় এখনো কম। মোশন পিকচার্স প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব জাপান (এমপিপিএজি) প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৯ সালে দেশটির বক্স অফিস তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড ২৬ হাজার ১০০ কোটি ইয়েন আয় করেছিল (বর্তমান বিনিময় হারে তা ২০০ কোটি ইউএস ডলার)।

জাপানের বক্স অফিসের তালিকায় শীর্ষ স্থানটি অ্যানিমেশন সিনেমা ‘ওয়ান পিস ফিল্ম: রেড’-এর দখলে। জাপানি অ্যানিমেশন স্টুডিও টোয়েই কর্তৃক নির্মিত সিনেমাটি মোট ১৫ দশমিক ১ কোটি ইউএস ডলার আয় করেছে (১৯৭০ কোটি ইয়েন)। তালিকার শীর্ষ পাঁচের চারটিই জাপানের অ্যানিমেশন সিনেমা। একমাত্র লাইভ অ্যাকশন সিনেমা হিসেবে হলিউডের টপ গান: ম্যাভেরিক জাপানে ব্লকবাস্টার হিটের ন্যূনতম মাইলফলক ৭ দশমিক ৭ কোটি ডলার (১০০০ কোটি ইয়েন) অতিক্রম করেছে। গত বছর জাপানে এ সিনেমার মোট আয় ছিল ১০ দশমিক ৪  কোটি ডলার। তালিকায় এটি দ্বিতীয় স্থানে আছে। শীর্ষ ১০-এ থাকা আরেকটি লাইভ অ্যাকশন সিনেমা হলো স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম। এর অবস্থান অষ্টম। সেরা ১০-এ থাকা বাকি তিনটি আমদানীকৃত অ্যানিমেশন সিনেমা। জুরাসিক ওয়ার্ল্ড ডোমিনিয়ন, ফ্যানটাস্টিক বিস্টস: দ্য সিক্রেটস অব ডাম্বলডোর এবং মিনিয়নস: দ্য রাইজ অব গ্রু সিনেমা তিনটি যথাক্রমে ৪ দশমিক ৮, ৩ দশমিক ৫ ও ৩ দশমিক ৪  কোটি ডলার আয় করে।

জাপানে ২০২২ সালে মোট ১ হাজার ৪০২টি সিনেমা মুক্তি পায়। ২০২১ সালে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৪৩। বিদেশী সিনেমার ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ৪৬৯ থেকে ৫০৯-এ উন্নীত হয়েছে। তবে স্ক্রিন নাম্বারের ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় খানিকটা পতন হয়েছে। ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬৪৮। ২০২২-এ তা কমে হয় ৩ হাজার ৬৩৪। টিকিটের গড় মূল্যও কিছুটা কমে ১ হাজার ৪০২ ইয়েন হয়েছে। ২০২১ সালে এ পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪১০ ইয়েন। দর্শকদের আকর্ষণ করতে থিয়েটারগুলো অতিরিক্ত ডিসকাউন্ট দেয়ার কারণে এমনটা ঘটেছে। 

২০২২ সালে জাপানের বক্স অফিসে হলিউডের অংশ ছিল ৩১ দশমিক ২ শতাংশ। আমদানীকৃত সিনেমার ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় এ হার প্রায় দ্বিগুণ হলেও অতিমারী পূর্ববর্তী ২০১৯ সালের তুলনায় তা অনেক কম। ২০১৯ সালে জাপানের বক্স অফিসের মোট আয়ের ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছিল আমদানীকৃত সিনেমা থেকে।

জাপানের থিয়েটার কোম্পানি তোহো সিনেমা এবং এমপিপিএজির বর্তমান প্রধান ইয়োশেশিগে সামাতানি জানান, ২০২২ সালে তোহোর বক্স অফিস আয়ের অর্ধেকেরও বেশি এসেছে অ্যানিমেশন থেকে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বছর জাপানে আলোচিত শব্দ হবে জিবলি ও গডজিলা।’ চলতি বছর মুক্তি পেতে যাওয়া জাপানের জিবলি স্টুডিও কর্তৃক নির্মিত অ্যানিমেশন সিনেমা ‘হাউ ডু ইউ লাইভ?’ এবং লিজেন্ডারির গডজিলা ভার্সাস ‘‌কং টু’ ও অ্যাপল টিভির ‘‌গডজিলা অ্যান্ড দ্য টাইটানস’ সিরিজের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এ উক্তি করেন। 


সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার