যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে শুরু হয়েছিল গল্পটা। তুর্কি শিল্পী তুবা আহসান ও ইস্তানবুলের সিমাল আর্ট গ্যালারির শিল্পী বন্ধুরা মিলে একটি প্রদর্শনী করছিলেন। তখনই তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে ঘটে ভয়াবহ ভূমিকম্প। ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ সে ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উত্তর ও পশ্চিম সিরিয়া এবং দক্ষিণ ও মধ্য তুরস্ক। সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হয় তুরস্ক। দেশটিতে প্রাণহানি ছাড়ায় ৫০ হাজার, আহত এক লাখেরও বেশি। যা দেখে মানবতাবাদী মানুষের মতোই তুবা ও তার বন্ধুরা স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। ভাবতে থাকেন ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের কীভাবে সহায়তা করা যায়।
সে ভাবনা থেকেই তুবার মাথায় আসে, তিনি যা ভালো পারেন, সে শিল্পের মাধ্যমেই সাহায্য করতে পারেন আর্ত মানুষদের। ‘রাইজিং ফ্রম দ্য অ্যাশেজ’ নাম দিয়ে শুরু করেন তারা প্রদর্শনী। তুবা ও তার বন্ধু শিল্পীদের দল প্রদর্শনী থেকে শিল্পকর্ম বিক্রয়লব্ধ অর্থের একটা বড় অংশ দিয়ে তুরস্কে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বানিয়ে দেন। এমনকি নিজেদের কাজে অসাধারণ দক্ষ এ শিল্পীরা পরিবেশবান্ধব এসব বাড়ির নকশাও করে থাকেন। টেকসই এ বাড়িগুলো এমনভাবে বানানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে ভূমিকম্প প্রতিরোধ করতে পারে।
শুক্রবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে আলোকি গ্যালারিতে তুরস্ক ও বাংলাদেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রদর্শনীটি উদ্বোধন হয়। প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান। আজই এ প্রদর্শনীর শেষ দিন।
রাইজিং ফ্রম দ্য অ্যাশেজ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের এক ঝাঁক প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ শিল্পী। এ আয়োজনে থাকছে আজিজি খান, নাজিয়া আহসান চৈতি, রাকিবুল আনোয়ার, সাদিয়া খালিদ রীতি, জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তি, হৃদিতা আনিশা, মাসুদা খান, অনন্যা মেহপার আজাদ, সুবর্ণা মোরশেদা, অন্তরা মাহরুখ আজাদ, তায়ারা ফারহানা তারেকের শিল্পকর্ম। চিত্রশিল্পীদের শিল্পকর্ম ছাড়াও থাকছে আলোকচিত্রী রাহুল রায়ের ফটোগ্রাফিও।
বাংলাদেশ-তুরস্কের এ মেলবন্ধনে তুবা আহসান বলেন, ‘ভূমিকম্প আমাদের ভাবনা-চিন্তা পুরোপুরি পাল্টে দেয়। বারবার মনে হচ্ছিল শিল্পী হিসেবে কী করতে পারি। এভাবেই শুরু। আর এখানে প্রদর্শনী করতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে। এখানে দারুণ সব শিল্পী আছেন। আমি চাই তারা আরো বেশি আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করুক। দেশের বাইরে প্রদর্শনী করুক।’
বাংলাদেশে এ প্রদর্শনীর আয়োজক হিসেবে তুবার সঙ্গে আছেন সামিরা জুবেরী হিমিকা। তিনি বলেন, ‘তুবার এ মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পেরে ভালো লাগছে। এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ শিল্পীরা। তাদের সুযোগ করে দিতে পেরেও আমরা আনন্দিত। আশা করছি এ ধরনের সমন্বিত প্রদর্শনীগুলোর মধ্য দিয়ে আমাদের শিল্পযাত্রার পরিধি আরো বিস্তৃত হবে।’
তুরস্কের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বাংলাদেশের শিল্পানুরাগী ব্যক্তিদের প্রদর্শনী দেখতে ও পছন্দের শিল্পকর্মটি কিনতে আহ্বান জানিয়েছেন সামিরা।










