পর্দা নামল কান চলচ্চিত্র উৎসবের। এবার সেরা সিনেমা হিসেবে পাম ডি’অর (স্বর্ণপাম) লাভ করল রুবেন অস্টলান্ডের সিনেমা দ্য ট্রায়াঙ্গল অব স্যাডনেস। রুবেনের এটি দ্বিতীয় স্বর্ণপাম। এর আগে ২০১৭ সালে দ্য স্কয়ার সিনেমার জন্য স্বর্ণপাম পেয়েছিলেন এ সুইডিশ পরিচালক। স্বর্ণপাম সুইডেনে যাওয়ার সঙ্গে গ্র্যাঁ পিঁ এবার যৌথভাবে পেয়েছেন ফ্রান্সের ক্লেয়ার ডেনি (স্টারস অ্যাট নুন) ও বেলজিয়ামের লুকাস ডোন্ট (ক্লোজ)। ডিসিশন টু লিভ সিনেমার জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কারটি পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পার্ক-চ্যান উক। ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ওল্ড বয়ের জন্য তিনি বিখ্যাত। আঁ সার্তে রিগায় জুরি প্রাইজ পেয়েছে পাকিস্তানের সিনেমা জয়ল্যান্ড এবং সেরা চিত্রনাট্য নির্বাচিত হয়েছে ফিলিস্তিনের মেডিটেরানিয়ান ফিভার। উৎসবের নানা বিভাগে নানা দেশ ও ভাষার সিনেমা পুরস্কৃত হওয়া কান উৎসবের মূল সুরকে ধারণ করে।
প্রতি পাঁচ বছরে কান উৎসবে একটি বিশেষ পুরস্কার দেয়া হয়। এবার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে টোরি অ্যান্ড লোকিটার জন্য বেলজিয়ামের জ্যঁ পিয়েরে দারদেন ও লুক দারদেনকে বিশেষ পুরস্কারটি দেয়া হয়। স্বর্ণপাম পাওয়া রুবেনকে নাম দেয়া হয়েছে ‘কিং অব ক্রিঞ্জ’। তবে রুবেন বলেছেন তার সিনেমাটিতে হাস্যরস যেমন আছে, তেমনি আছে ভাবনার নানা বিষয়।
এবারের আসরে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন ড্যানিশ-ইরানি পরিচালক আলী আব্বাসী। তার হোলি স্পাইডার ইরানি সিনেমার বাঁক বদল করবে বলে অনেকে মনে করেন। নয়্যার ঘরানার সিনেমাটি প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নিয়েছেন জার-আমীর এব্রাহীমি। তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক পথ পাড়ি দিয়ে আমি এ মঞ্চে পৌঁছতে পেরেছি। অনেক অপমান ও অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিনেমা আমাকে মুক্তি দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যতে আরো জীবন রক্ষা করবে।’
বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কৃত ব্যক্তি ও সিনেমা
মূল প্রতিযোগিতা
স্বর্ণপাম: ট্রায়াঙ্গল অব স্যাডনেস (রুবেন অস্টলান্ড, সুইডেন)
গ্র্যাঁ পিঁ (যৌথভাবে): স্টারস
অ্যাট নুন (ক্লেয়ার ডেনি, ফ্রান্স) ও ক্লোজ (লুকাস ডোন্ট, বেলজিয়াম)
সেরা পরিচালক: ডিসিশন টু লিভ (পার্ক চ্যান-উক, দক্ষিণ কোরিয়া)
কান উৎসবের ৭৫ বছর পূর্তি পুরস্কার: জ্যঁ-পিয়েরে দারদেন ও লুক দারদেন (টরি অ্যান্ড লকিটা, বেলজিয়াম)
সেরা চিত্রনাট্যকার: তারিক সালেহ (ছবি: বয় ফ্রম হ্যাভেন, সুইডেন)
সেরা অভিনেতা: সং কাং হো (ছবি: ব্রোকার, দক্ষিণ কোরিয়া)
সেরা অভিনেত্রী: জার আমির এব্রাহীমি (ছবি: হলি স্পাইডার, ইরান)
জুরি প্রাইজ (যৌথভাবে): দি
এইট মাউন্টেন (ফেলিক্স ফন খ্রোনিনেন ও শার্লোট ফান্দারমিয়ার্স, বেলজিয়াম) এবং ইও (ইয়াজি স্কলিমোস্কি, পোল্যান্ড)
অন্যান্য পুরস্কার
ক্যামেরা দ’র: জিনা গামেল ও রাইলি কিয়াও (ছবি: ওয়ার পনি, যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র)
ক্যামেরা দ’র (বিশেষ সম্মান): হায়াকাওয়া
চিয়ে (ছবি: প্ল্যান সেভেনটি ফাইভ, জাপান)
সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি: দ্য ওয়াটার মারমার্স (জিয়ানিং চেন, চীন)
স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি (বিশেষ সম্মান): মেলানকলি
অব মাই মাদার’স লুলাবিইস (অবিনাশ বিক্রম শাহ, নেপাল)
কুইয়ার পাম: জয়ল্যান্ড (পরিচালক: সায়েম সাদিক, পাকিস্তান)
আঁ সার্তে রিগা
সেরা চলচ্চিত্র: দ্য ওর্স্ট ওয়ানস (পরিচালক: লিজ আকোকা ও রোমান গিউরে, ফ্রান্স)
জুরি প্রাইজ: জয়ল্যান্ড (পরিচালক: সায়েম সাদিক, পাকিস্তান)
সেরা পরিচালক: আলেকসান্দ্রু বেল্ক (সিনেমা: মেট্রোনম, রোমানিয়া)
সেরা চিত্রনাট্য: মেডিটেরানিয়ান ফিভার (পরিচালক: মাহা হাজ, ফিলিস্তিন)
সেরা অভিনয়: ভিকি ক্রিপস (সিনেমা: করসেজ) এবং আদম বেসা (সিনেমা: হারকা)
জুরি ফেভারিট অ্যাওয়ার্ড: রোডিও (পরিচালক: লোলা কিভোরন)










