স্টিভেন স্পিলবার্গকে সিনেমার দুনিয়া এক নামেই চেনে। বহু ব্যবসাসফল ও সমালোচক-প্রশংসিত সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ১৯৯৩ সালের জুনে মুক্তি পেয়েছিল জুরাসিক পার্ক। স্পিলবার্গের সেরা সিনোমগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এরপর বেশ কয়েকবার এর সিকুয়াল নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি নির্মাণ করেছিলেন স্পিলবার্গ। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে বদলেছে জুরাসিক পার্কের গল্প। কিন্তু প্রথম সিনেমাটির মতো সর্বব্যাপী জনপ্রিয়তা এর কোনো সিকুয়াল পায়নি। কিন্তু সিনেমায় কী দেখাতে চেয়েছিলেন স্পিলবার্গ? বেশকিছু বিষয়ই ছিল। এর মধ্যে লোভী ব্যক্তিদের অর্থ উপার্জনের চেষ্টার গল্পের সঙ্গে পৃথিবীতে স্পিলবার্গ দিয়েছিলেন এক ধরনের সতর্ক বার্তা।

স্পিলবার্গ কিছুদিন আগে তার সিনেমা ‘‌জওস’ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তার মতে, এ সিনেমা পরবর্তী সময়ে হাঙরের ক্ষতির কারণ হয়েছিল। তবে জুরাসিক পার্ক কোনোভাবে ডাইনোসরের ক্ষতি করেনি। কিন্তু সিনেমায় এমন কিছু বার্তা ছিল, যা স্পিলবার্গ দিয়েছিলেন জওসেও। সে সিনেমায় মেয়র কিছুতেই সৈকত বন্ধ করতে চাননি। সেই মেয়রকেই পরের সিনেমাতেও একই পদে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে জুরাসিক পার্কের অন্যতম প্রধান চরিত্র হ্যামন্ড। সে কিনা ক্লোন ডাইনোসর দিয়ে থিম পার্ক তৈরি করে। প্রাগৈতিহাসিক একটি চিড়িয়াখানার স্বপ্ন দেখে হ্যামন্ড আর সেজন্য নানা কাজ করে যায়। হ্যামন্ডের চরিত্রটি এমন না যে তাকে ক্রিমিনাল মনে হয়, কিন্তু শেষ অবধি সে এক রকমের খলনায়কই বটে। তবে ৩০ বছর পর জুরাসিক পার্ক থেকে চোখ সরিয়ে আশপাশে তাকালে দেখা যাবে এখানে হ্যামন্ড বা মেয়রের সংখ্যা বেড়েছে বৈ কমেনি।

সিনেমাটি স্পিলবার্গ নির্মাণ করেছিলেন মাইকেল ক্রিকটনের বইয়ের ওপর ভিত্তি করে। ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সায়েন্স ফিকশনটি। সেখান থেকে সিনেমায় রূপান্তর করে স্পিলবার্গ দেখালেন একটি কৃত্রিম চিড়িয়াখানা (চিড়িয়াখানা বিষয়টিই কৃত্রিম), যেখানে অন্তত ১৫ প্রজাতির ডাইনোসর দেখা যাবে। অনেকটা সাফারি ঘরানার রাইড নিয়ে ঘুরে দেখা যাবে পুরো ব্যবস্থাটি। সিনেমায় স্পিলবার্গ দেখিয়েছিলেন স্বপ্নের প্রজেক্টটির জন্য হ্যামন্ড কী কী করে। এছাড়া পার্কটি নিয়ে আইনি জটিলতা ও অন্যান্য বিষয়ও ছিল। আজকের দিনে এসে আমরা এমন নানা খবর দেখতে পাই। তাছাড়া মেটাভার্স, এআই ইত্যাদিও আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা এ রকম থিম পার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। হতে পারে সেটা আরেকটু অন্যভাবে।

নির্মাণের দিক থেকে জুরাসিক পার্ক স্পিলবার্গের অন্যান্য সিনেমার তুলনায় ভিন্ন। এছাড়া সিনেমাটিতে তিনি বেশ বিস্তৃত পরিসরে এবং কিছু বিষয় স্পিলবার্গ নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ডাইনোসরের কথাই ধরা যাক। নব্বইয়ের দশকে এ সিনেমার মধ্য দিয়েই ডাইনোসর আবার নতুন করে আসে একটি প্রজেন্মের সামনে। এরপর ডাইনোসর নিয়ে নতুন করে আবার লেখা হয়। ডাইনোসরের বিভিন্ন প্রজাতি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয় মানুষের মধ্যে। পাশাপাশি সিনেমাতেও নতুনত্ব এনেছিলেন স্পিলবার্গ।

স্টিভেন স্পিলবার্গ বরাবরই সিনেমায় নতুন নতুন নিরীক্ষা করতে পছন্দ করেন। তিনি এ সিনেমা নির্মাণের সময় অফস্ক্রিন স্পেসে বেশ জোর দিয়েছিলেন। এছাড়া নতুন আসা সিজিআইয়ের মাধ্যমেও অনেক দৃশ্য নির্মাণ করেছেন। আজকের দিনে সিজিআই খুব পরিচিত আর সাধারণ বিষয় হলেও নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তা ছিল না। স্পিলবার্গ এ সিনেমার মাধ্যমে একদিকে ‘‌থিম-পার্কে যখন বিপদ’ ধারণার পাশাপাশি সিনেমায় নতুন আসতে যাওয়া প্রযুক্তির কথাও বলেছেন। সহজ কথায় ভবিষ্যতের বার্তা দিয়েছিলেন স্পিলবার্গ।

দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে আসরার আবেদিন