গত বছরের অক্টোবরে মাদক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বড় ছেলে আরিয়ান খানকে। সে সময়ে মামলার জের ধরে প্রায় এক মাস জেলে থাকতে হয় আরিয়ানকে। তবে অভিযোগের উপযুক্ত প্রমাণ না পাওয়ায় জামিন দেয়া হয় তাকে। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে আটক অবস্থায় আরিয়ান খানের সঙ্গে একজন এনসিবি (নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরো) কর্মকর্তার কথোপকথন।
ইন্ডিয়া টুডে ম্যাগাজিনের কভার স্টোরি ‘লেসন ফ্রম দি আরিয়ান খান কেস’-এ মাদক মামলা নিয়ে কথা বলেছেন এনসিবির তদন্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় সিং। তিনি জানান, ‘আমি আরিয়ানকে বলেছিলাম তোমার সব কথা শুনব, আমাকে বলো।’
এরপর আরিয়ান তাকে প্রশ্ন করে বলেছিল, ‘স্যার আমাকে একজন আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী বলা হচ্ছে। আমি মাদক ব্যবসার টাকা জোগাই! এই অভিযোগ কি অযৌক্তিক নয়? আমার কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি, তার পরও আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপনারা আমার সঙ্গে অন্যায় করেছেন। এতে আমার সম্মানহানি ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেন আমাকে এতগুলো সপ্তাহ জেলে থাকতে হলো? আমি কি সত্যি এসবের যোগ্য ছিলাম?’
সঞ্জয় সিং বলেন, ‘মামলা নিয়ে শাহরুখের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। ছেলের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন শাহরুখ। শাহরুখ খান আমাকে একবার বলেছিলেন, আমাদের এমনভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে যেন আমরা বড় অপরাধী কিংবা রাক্ষস যারা সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রতিদিন কাজে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
মাদক পাচার ও আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার মতো নানা অভিযোগ তোলা হয়েছিল আরিয়ানের বিরুদ্ধে। এনডিপিএস আইন ১৯৮৫ অনুসারে এর শাস্তি ছয় মাস থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। গত বছর নভেম্বরে এনসিবির মুম্বাই জোনাল ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে ঘুস নেয়ার অভিযোগ ওঠে। ফলে আরিয়ানের মামলার তদন্ত ভার পড়ে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের কাছে। আর এ দায়িত্ব পান এনসিবির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জয় সিং। ২০২২ সালের ২৮ মে কোনো উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে আরিয়ান খানের মামলা খারিজ করে দেয় এনসিবি।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










