ভিজুয়াল ইফেক্টের জন্য তুমুল প্রশংসিত হয়েছে ডুন। বলা হচ্ছে, দেনি ভিলেনোভ ফ্র্যাঙ্ক হারবার্টের কল্পনাকে বাস্তব করে এনেছেন। অসাধারণ ভিজুয়াল ইফেক্টের কারণে একাডেমি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছে সিনেমাটি। হলিউডের এ সাফল্যের পেছনে আছেন একজন ভারতীয় ব্যক্তি। তিনি লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিনেগের সিইও নমিত মালহোত্রা। ডুনের ভিজুয়াল ইফেক্ট নিয়ে কাজ করেছে এ প্রতিষ্ঠান। সিনেমার ১ হাজার ৭০০ ভিজুয়াল ইফেক্ট শটের মধ্যে ১ হাজার ২০০টি করেছে ডিনেগ। মজার ব্যাপার নমিত মালহোত্রা বলিউড থেকে তার যাত্রা করেছিলেন।

সিনেমার সঙ্গে নমিতের সম্পর্ক বহু পুরনো। তার দাদা ছিলেন বলিউডের একজন সিনেম্যাটোগ্রাফার। ভারতের অন্যতম প্রথম রঙিন সিনেমা ঝাঁসি কি রানিতে কাজ করেছিলেন তিনি। নমিতের বাবা বহু বলিউড সিনেমা প্রযোজনা করেন, যার মধ্যে অমিতাভের শাহেনশাহ্ (১৯৮৮) অন্যতম। নমিত প্রথম জীবনে একজন পরিচালক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সিনেমার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তার বাবা জানতেন ভবিষ্যতে প্রযুক্তিই মূল হাতিয়ার হয়ে উঠবে। নমিতকে তিনি বলেছিলেন, ‘সিনেমা তুমি যেকোনো সময় পরিচালনা করতে পারবে। তার চেয়ে বরং শিল্প ও সিনেমার কারিগরি দিক নিয়ে কাজ করার কথা ভাবো। বিশেষত প্রযুক্তির দিকটা।’

নমিত তার বাবার কথায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে তিনি প্রাইম ফোকাস নামে একটি কোম্পানি শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটি সিনেমার সম্পাদনা সম্পর্কিত কাজের উদ্দেশ্যে তৈরি হয়। মূলত পোস্ট প্রডাকশন নিয়ে কাজ হতো। সূচনার কথা বলতে গিয়ে বিবিসিকে মালহোত্রা বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা নতুন কিছু করার চেষ্টা করতাম, যা কিছু আমরা করেছি, ভারতে তা ছিল প্রথম।’ ২০০৪ সালে বিশেষ ধরনের ভিজুয়াল ইফেক্টের জন্য প্রতিষ্ঠানটি একটি মোশন কন্ট্রোল রোবট ক্রেন ব্যবহার করে। সে সময় অভিনেতা, পরিচালক কেউই এ ধরনের কাজ দেখে অভ্যস্ত ছিলেন না। নমিত জানান, সে সময় প্রাইম ফোকাস হলিউডের মাপে ভারতে কাজ করতে সক্ষম ছিল। কিন্তু ভারতীয় পরিচালক ও প্রযোজকরা তখনো ততটা অগ্রসর হননি।

২০০৬ সালে প্রাইম ফোকাস যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে একটি ছোট প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা করে। ২০১০ সালে প্রথম তারা একটি হলিউড সিনেমা টুডি থেকে থ্রিডিতে পরিবর্তন করে। সিনেমাটি ছিল ক্ল্যাশ অব দ্য টাইট্যানস। ২০১৪ সাল নাগাদ তারা লন্ডনভিত্তিক ডাবল নেগেটিভ (ডিনেগ) কিনে নেয়। প্রতিষ্ঠানটি ক্রিস্টোফার নোলানের ইনসেপশন সিনেমার ভিজুয়াল ইফেক্টের জন্য অস্কার পেয়েছিল। এর পরও কোম্পানিটি টেনেট ও ইন্টেস্টেলারের ভিজুয়াল ইফেক্টের জন্য ছয়টি অস্কার পায়।

ডুনের ভিজুয়ালে কাজ করার ক্ষেত্রে দেনি ভিলেনোভের কল্পনা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। মালহোত্রা বলেন, ‘এখানে আপনি যা দেখেন তা আসলে প্রডাকশন ডিজাইন, মিউজিক, সিনেম্যাটোগ্রাফি এবং আরো নানা বিষয়কে একত্র করে এনে তৈরি করা একটি নতুন জগৎ।’

মাত্র ১৯ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের একটি গ্যারেজে প্রাইম ফোকাস শুরু করা মালহোত্রা প্রতিনিয়ত কল্পনার জগৎ তৈরি করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সাফল্য পাওয়ার পরও তিনি দেশকে ভুলে যাননি। ৪৬ বছর বয়সী নমিত আসন্ন বলিউড সিনেমা ব্রহ্মাস্ত্র প্রযোজকদের একজন। ভারতীর সিনেমার নতুন ধারায় হতে থাকা ভিজুয়াল ইফেক্ট নিয়ে তিনি আশাবাদী।

 

সূত্র: বিবিসি