২০১৮
সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ নির্বাচিত হন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। সিনেমার পাশাপাশি
যুক্ত আছেন মডেলিংয়ে। বেশকিছু জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনে দেখা মেলে এ তারকার। মিশন
এক্সট্রিম ও রাত জাগা ফুল সিনেমা দুটিতে কাজ করে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছেন
এ অভিনেত্রী। কাজ আর ঈদের গল্প নিয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী কথা
বলেন বণিক বার্তার সঙ্গে।
সাক্ষাত্কারে সাবিহা জামান শশী।
কেমন
আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ! এখন ভালো আছি। সময় ভালো যাচ্ছে।
ঈদকে
কেন্দ্র করে নতুন কোনো কাজে দর্শক আপনাকে দেখতে পাবে কি?
না, আমি এবার ঈদে কোনো কাজ করিনি। ২১ এপ্রিল আমার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা
শেষ হয়েছে। এবার রোজার পুরো সময় পরিবারকে দিচ্ছি।
আগামীতে
আপনাকে কোন সিনেমায় দেখা যাবে?
এখনো
কোনো সিনেমার কাজ করছি না। কথাবার্তা চলছে, তবে এখনো কিছু
চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল এবারের রোজায় কোনো কাজ করব না। আমার
পরীক্ষা চলছিল আর আমি চাচ্ছিলাম পরিবারকে সময় দিতে। তবে এবার টিভির পর্দায় আমার
দুটো সিনেমা আসতে যাচ্ছে।
কোন
ধারার সিনেমায় আপনি কাজ করছে চান?
আমার
কাছে ধারা মুখ্য বিষয় নয়। সিনেমার গল্প ও চরিত্রটা আমার কাছে গুরুত্ব পায়। যে
সিনেমায় দর্শক আনন্দ পায়, তাদের কাছে কিছু মেসেজ যায় এবং
বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু তা প্রভাব পড়ে। আমি সেসব সিনেমায় কাজ করতে
চাই। সেটা আর্টধর্মী কিংবা বাণিজ্যিক সিনেমাও হতে পারে।
এবার
ঈদ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা?
এ
বছরের ঈদ আমার কাছে খুব স্পেশাল। চার বছর পর গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে এসেছি, এখানেই ঈদ করব। এমনকি আমার বাবার সঙ্গে আমার দেখা হলো দুই বছর দুই মাস পর।
কভিড-১৯ পরিস্থিতির জন্য আমি বাড়ি যাইনি। এই ভয়ে যাইনি যে
আমি যদি করোনাভাইরাস বহন করি আর এ থেকে যদি পরিবারের লোকেরা আক্রান্ত হয়। অন্যদিকে
বাবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে বাবাকেও ঢাকা আসতে বারণ করেছি। গত বছরের
নভেম্বরে আমার বড় বোনের বেবি হয়েছে। এবারে পরিবারের নতুন সদস্যকে নিয়ে ঈদ করছি
সবাই মিলে।
আমি
গ্রামের মেয়ে ঢাকায় থাকা কাজের প্রয়োজনে। অনেক দিন পর গ্রামে এসে অনেক ভালো লাগছে।
আমি আসার পর থেকেই প্রতিবেশীরা আসছেন। কথা হচ্ছে তাদের সঙ্গে, এটা তো ঢাকায় নেই।
অন্য
রকম শান্তি কাজ করছে, কারণ আমি ঢাকায় এ পরিবেশ মিস করি।
ঈদে
নিজের জন্য কেনাকাটা করেছেন?
এবার
আমি বেশ কয়েকজনের জন্য কেনাকাটা করেছি। এটাই প্রথম আমি এত মানুষের জন্য শপিং
করলাম। নিজের জন্য খুব বেশি কেনা না হলেও অন্যরা আমার জন্য কিনেছেন। উপহার পাওয়া
এবং দেয়া দুটোই আনন্দের। তবে দেয়ার আনন্দ অন্য রকম। দেয়ার তো অভ্যাস নেই। প্রথম
দিকে অনেক ইনজয় করি। মনে হয় যে বড় হয়ে গিয়েছি।
আর
১০ বছর পর যখন দেয়াটা দায়িত্ব হয়ে যাবে, তখন হয়তো এতটা উপভোগ
করব না দেয়ার আনন্দটা। পরিবারের লোকেরা আমার থেকে উপহার পেয়ে খুশি হয়। আমি
পরিবারের ছোট মেয়ে। ছোটদের থেকে তো কেউ কিছু নিতেও চায় না। তারা উপরি পাওনা হিসেবে
নেয় তো, তাই তারাও খুব খুশি হয়, এটা
আমার ভালো লাগে।
পোশাক
নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো আপনার কাছে গুরুত্ব পায়?
আমি
আরামের বিষয়টা দেখি। পোশাকটা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি কিনা সেটা নিয়েও ভাবতে
হয়। একটা পোশাকে মানুষকে তখন মানায়, যখন তিনি সেটা
কনফিডেন্টলি নিতে পারেন। জোর করে পোশাক পরা আমি পছন্দ করি না। যখন বুঝি এ পোশাকে
আমাকে মানাচ্ছে এবং আমি এটা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য, তখনই আমি
পোশাকটা নির্বাচন করি।
আপনার
প্রিয় পোশাক কোনটি?
আমি
সালোয়ার কামিজ পরতে খুব পছন্দ করি। শাড়ি আমার খুব পছন্দের।
পোশাকের
সঙ্গে কোন অনুষঙ্গটা লাগেই?
অবশ্যই
একটা ভালো জুতো বা স্যান্ডেল। এছাড়া কানের দুল, ব্রেসলেট আমার খুব
পছন্দ। স্বর্ণের চেইন। ইদানীং স্বর্ণ আমার খুব প্রিয় হয়ে উঠেছে। স্বর্ণ এমনটা
জিনিস, যেটা ওয়েস্টার্ন ও ট্রাডিশনাল পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে
যাবে যেকোনো উপলক্ষে।
তারকা
খ্যাতির জন্য ঈদ কেনাকাটায় কখনো বিড়ম্বনায় পড়েছেন?
না, এমন হয়নি। এবারেই প্রথম আমি শপিংমলে গিয়ে কেনাকাটা করলাম। তবে আমার কাছে
শপিংমলে গিয়ে কেনাকাটা করাটা ক্লান্তিকর। আমি শপিং করতে খুব পছন্দ করি, তবে সেটা অনলাইনে। শপিংমলে গিয়ে ঘুরে ঘুরে কেনার ধৈর্য্যটা আমার নেই। আমার
চোখে কিছু ভালো লাগলে আমি কিনে ফেলি।
আমি
কেনাকাটা করতে গেলে অনেক সময় দেখা যায় যেসব দোকানে ফিক্স প্রাইজের না, তারা আমাকে দেখে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয়। এটা একটা সমস্যা।
তারকা
খ্যাতির আগের ঈদ মিস করেন?
হ্যাঁ, খুব মিস করি। এ চার বছরের সবক’টা
ঈদ ঢাকায় করেছি। তবে এবারের ঈদ গ্রামে করছি সবাইকে নিয়ে, আশা করছি এটা অনেক আনন্দে কাটবে। ইনশাল্লাহ।
ছোটবেলার
ঈদের কোনো স্মৃতি, যা আপনাকে ভাবায়?
আমার
ছোটবেলার সব ঈদ গ্রামেই কাটানো। আমাদের বাড়ির সামনে প্রতি বছর ঈদের মেলা হয়। মেলায়
মুরগি বা মাছের আকৃতির বিভিন্ন মাটির ব্যাংক আসত। আমি মেলা থেকে মাটির ব্যাংক
কিনতাম। সালামির টাকা, টিফিনের টাকা সব ওই ব্যাংকে জমা করতাম।
বেশ কয়েক বছর এমন টাকা জমিয়ে বাবার কাছে রাখতাম। পরে বাবা আমার টাকার সঙ্গে নিজের
আরো টাকা দিয়ে আমাকে গ্রামে একটা জমি কিনে দিয়েছেন। আমার জমানো টাকার পরিমাণ ছিল
খুব সামান্য, তার পরও বাবা আমাকে খুশি করতে বলতেন, তোমার জমানো টাকায় কেনা তোমার জমি। ছোটবেলা থেকেই এটা শুনে আমি খুব আনন্দ পাই।










