শর্মিলা ঠাকুর ও মনসুর আলী খান পতৌদি ওরফে টাইগার পতৌদি ১৯৬৮ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্ব স্ব ক্ষেত্রে এ দুই তারকার বিয়ে নিয়ে সে সময় বিতর্ক হয়েছিল। ভিন্ন ধর্মের দুজন মানুষের বিয়ের প্রতিবাদ করেছিল অনেক মানুষ। ব্যাপারটি অনেক দূর গড়িয়েছিল। বিয়ে যেন না হয় এ মর্মে কলকাতায় বসবাসরত শর্মিলার বাবা-মাকে অনেক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিল। টেলিগ্রামের মাধ্যমে এসব হুমকি দেয়া হতো। তেমনই একটি টেলিগ্রামে লেখা ছিল ‘বুলেট কথা বলবে’!
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন শর্মিলা ঠাকুর। ভারতীয় টিভি সাংবাদিক ও লেখক বারখা দত্তের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘আমার বিয়ের সময় কলকাতায় আমার বাবা-মাকে টেলিগ্রাম পাঠানো হতো। সেখানে লেখা থাকত, বুলেট কথা বলবে। টাইগারের পরিবারও এমন টেলিগ্রাম পেত...। এ নিয়ে তারা খানিক উদ্বিগ্নও ছিল। তার পরও বিয়ে ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটেনি।’
শর্মিলা জানান, এসব উড়ো হুমকিতে তিনি ও মনসুর আলী খান পতৌদি মোটেও বিব্রত ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের জানিয়েছিলাম, আমরা বিয়ে করতে চাই। আর সেটাই চূড়ান্ত। সে তার ক্রিকেট নিয়ে ছিল। আমি সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।’
তার স্মৃতিচারণে জানা যায়, মুম্বাইতে তাদের বিয়ে নিয়ে কোনো উত্তাপ তারা টের পাননি। কিন্তু দিল্লি তাদের নিয়ে চিন্তিত ছিল। একদিন দুইজন আগন্তুক এসে জানান, দিল্লি থেকে তাদের পাঠানো হয়েছে। তারা সিবিআই বা এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের সদস্য। তারা শর্মিলা-পতৌদি দম্পতির নিকট জানতে চেয়েছিলেন, তাদের কোনো নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে কিনা। প্রত্যুত্তরে এ দম্পতি জানিয়েছিলেন, তারা ভালো আছেন।
শর্মিলা ঠাকুর ও মনসুর আলী খান পতৌদির বিয়ে সে সময় বেশ আলোচিত হয়েছিল। দাম্পত্য জীবনে বেশ সুখী ছিলেন তারা। যদিও বিয়ের পর সংসার সামলাতে গিয়ে অভিনয় ক্যারিয়ারে ছাড় দিয়েছিলেন শর্মিলা, এ নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই। সম্প্রতি ‘গুলমোহর’ সিনেমা দিয়ে ওটিটিতে প্রত্যাবর্তন করেছেন তিনি। ২০১১ সালে মৃত্যুবরণ করেন মনসুর আলী খান পতৌদি। আদর্শ দাম্পত্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে তাদের ৪৩ বছরের সংসার।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










