কিংবদন্তি পরিচালক বিআর চোপড়ার বাড়ি বিক্রি হয়ে গেল। বিআর হাউজ নামের বাড়িটি বিক্রি করেছেন তার পুত্রবধূ রেনু রবি চোপড়া। মুম্বাইয়ের জুহুতে অবস্থিত এ বাড়ির মোট আয়তন প্রায় ২৫ হাজার বর্গফুট। জুহুতে অন্য সেলিব্রিটিদের বাড়ির মতোই নান্দনিক এবং বিশাল আকারে সজ্জিত  বাড়িটি। স্বাভাবিকভাবেই অনেক দাম হওয়ার কথা। বাড়িটির মোট দাম হয়েছে ১৮৩ কোটি রুপি। বাংলাদেশী মুদ্রায় এ পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ১০ লাখ টাকা (প্রতি রুপি ১ টাকা ১৯ পয়সা হিসাবে)।

টাইম নাউয়ের সূত্র অনুসারে রেনু বাড়িটি একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কাছে বিক্রি করেছেন। স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ মূল দামের বাইরে কোম্পানির খরচ হয়েছে ১১ কোটি রুপি। জানা গেছে, কোম্পানিটি এ বিখ্যাত বাড়ির জায়গায় একটি উঁচুতল আবাসিক ভবন তৈরির পরিকল্পনা করেছে। তবে বাড়িটি বিআর চোপড়াদের ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার হতো। বিআর চোপড়া ২০০৮ সালে মারা যাওয়ার পর পরই বাড়িটি বিক্রি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা শুরু হয়।


বিআর চোপড়া নামে পরিচিত বলদেব রাজ চোপড়া বহু বলিউড সিনেমার নির্মাতা ও প্রযোজক। ধুল কা ফুল (১৯৫৯), ওয়াক্ত (১৯৬৫) এবং নয়া দৌড় (১৯৫৭)-এর মতো বেশকিছু কাল্ট ক্ল্যাসিক তিনি প্রযোজনা করেছেন। তার পরিচালিত সিনেমার মধ্যে কানুন (১৯৫৮), ইনসাফ কা তারাজু (১৯৮০), নিকাহ (১৯৮২) ও হামরাজ (১৯৬৭) বিখ্যাত। এছাড়া ১৯৮০ সালে তিনি এনেছিলেন দ্য বার্নিং ট্রেন। মাল্টি স্টারার সিনেমার দিক থেকে এটি অন্যতম উদাহরণ। বিআর চোপড়ার সবচেয়ে বিখ্যাত ও উচ্চাভিলাষী কাজ ছিল দূরদর্শনের মহাভারত। ১৯৮৮-৯০ পর্যন্ত চলা টিভি সিরিজের পরিচালক ছিলেন তিনি। মহাভারতের তুমুল জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এর অভিনেতারাও বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। বলা চলে বিআর চোপড়া অভিনেতা তৈরি করতেন।

কিংবদন্তি পরিচালক যশ চোপড়ার তিনি ভাই। যশ মূলত রবি চোপড়ার সহকারী পরিচালক হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর ধুল কা ফুল, ওয়াক্ত। তারপর চোপড়াদের যাত্রাটা বলিউডে স্বর্ণাক্ষরে লেখা।

 

সূত্র: ডিএনএ