ইমতিয়াজ আলীর প্রশংসিত সিনেমা ‘রকস্টার’ সম্প্রতি ১০ বছর পার করল। ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিনেমার পরিচালক ইমতিয়াজ আলী, সংগীত পরিচালক এ আর রহমান ও অভিনেত্রী সানজানা সাংহি এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে যুক্ত হন। আলোচনার ভিডিওটি ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছে। আলোচনায় কথা প্রসঙ্গে অস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক এ আর রহমান জানান, সিনেমার কোনো গানই ঋষি কাপুর পছন্দ করেননি। উল্লেখ্য, ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন ঋষির পুত্র রণবীর কাপুর।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রহমান বলেন, কাশ্মীরে একটি গানের শুটিংয়ের সময় তিনি ইমতিয়াজ আলীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, গানগুলো তারা পছন্দ করেছেন কিনা। ইমতিয়াজ আলীর জবাব ছিল, গানগুলো সবাই পছন্দ করেছে। রহমান বলেন, ‘আমি তখন আবার জিজ্ঞেস করলাম, কাউকে শুনিয়েছ?’ ইমতিয়াজ বলল, ‘ঋষি কাপুরকে শুনিয়েছি, কিন্তু তিনি একটা গানও পছন্দ করেননি।’ রহমান সেটা আঁচ করেছিলেন। কেননা তিনি জানতেন গানগুলো বেশ জটিল। রহমান পুনরায় জানতে চাইলেন, ‘একটাও না?’ ইমতিয়াজ আলী জানান, ঋষি কাপুরের জবাব ছিল, ‘আমি কিছু বুঝিনি। গানগুলো ধরতে পারছি না।’

১০ বছর পার করা সিনেমাটি মূলত জর্ডান নামের এক রকস্টারের সংগীত ও ব্যক্তিগত জীবনের সম্পর্কের টানাপড়েনের গল্প। ইমতিয়াজ ও রহমান জুটি এখানে সিনেমার গল্পের সঙ্গে সংগীতের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। ‘জো ভি ম্যায়’ গানে মূল চরিত্রের চাওয়া-পাওয়ার টানাপড়েন, শৈল্পিক প্রতিবাদের ‘সাড্ডা হাক্ব’ থেকে ‘কুন ফায়া কুন’ দ্বারা সুফি ভাবে পৌঁছে যাওয়ার পাশাপাশি ‘তুম হো’র মতো বিভিন্ন ধারার ১৪টি গান নিয়ে সিনেমার অ্যালবাম সাজানো হয়েছিল। মুক্তির পর থেকে এখনো বলিউড ও বলিউডের বাইরেও রকস্টারের অ্যালবাম প্রশংসিত। কিন্তু উল্লিখিত গানগুলো যখন ঋষি কাপুর বুঝলেন না বলে জানালেন তখন কী হয়েছিল?

রহমান বলেছেন, তিনি তখনই সিদ্ধান্ত নেন, যে গানটি তৈরি করার কথা ভেবেছিলেন সে তুলনায় ভিন্ন কিছু করবেন। মূলত তুমুল জনপ্রিয় ‘নাদান পারিন্দে’ গানটি এভাবেই তৈরি হয়। রহমান বলেন, ‘মন্তব্যটা (ঋষি কাপুরের) খুবই জরুরি ছিল, যা কিনা গানটির প্রতি আমার চিন্তাধারা বদলে দেয়।’ সত্যিকার অর্থে গানটি কথার ভিন্নতা এবং সুরের ফিউশনের দিক থেকে গানটি সত্যিই অ্যালবামের অন্যান্য গান থেকে স্বতন্ত্র। বলা যায়, ‘নাদান পারিন্দে’ এ সিনেমাকে পূর্ণতা দেয়। গত বছর কভিড মহামারীর মধ্যে ঋষি কাপুর দুনিয়াকে বিদায় জানালেও রকস্টারের গানের স্মৃতিতে ফিরলেন তিনি।

 

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস