গ্র্যামির সর্বকালের সবচেয়ে বেশি পুরস্কার জয়ের রেকর্ড করেছেন বিয়ন্সে। ২০২৩ সালের আসরে চারটি পুরস্কার পেয়ে তার মোট পুরস্কারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২টিতে। এ বছর তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন তার অ্যালবাম রেনেসাঁর জন্য। মঞ্চে উঠে পুরস্কার হাতে বিয়ন্সে বলেন, আমি অনেক বেশি আবেগী হওয়া থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছি। আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, কেননা তিনি আমাকে রক্ষা করেছেন।

২০২৩ সালের গ্র্যামির আগে ৩১টি গ্র্যামির রেকর্ড ছিল ক্ল্যাসিক্যাল শিল্পী জর্জ সল্টির হাতে। ১৯৯৭ সালে তিনি এ রেকর্ড গড়েছিলেন। তিনি অপেরা রেকর্ডের জন্য তার শেষ পুরস্কারটি পান। এদিকে বিয়ন্সের রেনেসাঁ মুক্তি পায় গত বছর। অ্যালবামটি নামের মতোই বিয়ন্সে ক্যারিয়ারের জন্যও নব উত্থানের কাজ করেছে। ছয় বছর পর তিনি ফিরেছিলেন এটি নিয়ে। রেনেসাঁর আগে ২০১৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল তার অ্যালবাম ‘‌ লেমোনেড’।

এবারের আসরটি ছিল গ্র্যামির ৬৫তম আসর। এ আসরে সঙ অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পেয়েছে বনি রাইটের ‘জাস্ট লাইক দ্যাট’। রেকর্ড অব দ্য ইয়ার পুরস্কার জিতেছে লিজ্জোর ‘অ্যাবাউট ড্যাম টাইম’। এছাড়া অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পেয়েছে হ্যারি স্টাইলসের ‘হ্যারিজ হাউজ’। নতুন অ্যালবামের জন্য সেরা হয়েছেন সামারা জয়। স্যাম স্মিথ ও কিম পেত্রাস পুরস্কৃত হয়েছেন সেরা দ্বৈত পপ গানের জন্য। বেস্ট ট্রেডিশনাল পপ ভোকাল অ্যালবামের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন মাইকেল বুইবেল। বেস্ট পপ সোলো আর্টিস্ট ক্যাটাগরিতে ‘ইজি অন মি’ গানের জন্য পুরস্কার জিতেছেন অ্যাডেল। কনটেমপোরারি ইনস্ট্রুমেন্টাল বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে এম্পায়ার সেন্ট্রাল। সেরা রক পারফরম্যান্সের পুরস্কার জিতেছে ব্র্যান্ডি চার্লির ব্রোকেন হর্সেস।

সেরা রক অ্যালবামের জন্য পুরস্কার পেয়েছে ওজি অসবর্নের পেশেন্ট নাম্বার নাইন। সেরা রক গানও নির্বাচিত হয়েছে পেশেন্ট নাম্বার নাইন। বেস্ট ট্রেডিশনাল আরঅ্যান্ডবিতে পুরস্কার পেয়েছেন বিয়ন্সে। প্লাস্টিক অব দ্য সোফার জন্য এ পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সেরা আরঅ্যান্ডবি নির্বাচিত হয়েছে কাফ ইট। উইলি নেলসনের লিভ ফরএভার নির্বাচিত হয়েছে সেরা কান্ট্রি সঙ হিসেবে। একই বিভাগে দ্বৈত গানের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন কার্লি পিয়ার্স ও অ্যাশলি ম্যাকব্রাইড। সেরা কান্ট্রি অ্যালবাম নির্বাচিত হয়েছে উইলি নেলসনের এ বিউটিফুল টাইম।

এ আসরে হ্যারি স্টাইলস তার পুরস্কারটি নেন জেনিফার লোপেজের হাত থেকে। হ্যারি বলেন, এ অ্যালবাম আমার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। ২০১৫ সালের পর গ্র্যামি পেলেন স্যাম স্মিথ। তার সঙ্গে যুগ্মভাবে পুরস্কারটি পেয়েছেন কিম পেত্রাস। জার্মাস বংশোদ্ভূত শিল্পী কিম পেত্রাস বলেন, আমি এটি পাব বলে আশা করেছিলাম। পুরস্কারটি আমি আমার মাকে উৎসর্গ করছি।

অন্যান্য পুরস্কারের পাশে এবার একটি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আত্মজীবনী ‘ফাইন্ডিং মি’-এর অডিও বুকের জন্য গ্র্যামি জেতেন মার্কিন অভিনেত্রী ও প্রযোজক ভায়োলা ডেভিস। এর মাধ্যমে অ্যামি, গ্র্যামি, অস্কার ও টনি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ভায়োলা ডেভিস। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৬টায় শুরু হয় গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের এ আসরের মূল অনুষ্ঠান। তৃতীয়বারের মতো গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন কমেডিয়ান ট্রেভর নোয়াহ।

সূত্র: ভ্যারাইটি