টপ গান: ম্যাভেরিক দেখে থিয়েটার থেকে বেরোনো দর্শকদের একটাই প্রশ্ন—সত্যিই কি তারকারা বিমান চালিয়েছিলেন? এ যুগে অভিনেতারাই স্টান্ট করেন, সেটা জানা কথা। কিন্তু ফাইটার প্লেন চালানো তো মুখের কথা নয়। টপ গানের এবারের সিনেমাটির বিশেষত্ব এখানেই। টম ক্রুজ তো বরাবরই নিজের স্টান্ট করার ব্যাপারে নন্দিত, এবার তিনি চেয়েছিলেন তার সহশিল্পী মাইলস টেলার, মনিকা বারবারো ও গ্লেন পাওয়েল যেন প্লেন চালানোটা শেখেন। আর এ কাজটা সম্ভব করেছিলেন কেভিন লা রোসা জুনিয়র।
ছোট আকারের বিমানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। কেভিন বলেন, ‘আমরা সেসনা ১৭২ দিয়ে শুরু করি এবং এর মাধ্যমে টেক অফ, ল্যান্ডিং এবং কোথায় তাকানোর সঙ্গে কোথায় হাত রাখতে হবে সে প্রাথমিক শিক্ষাটা দেয়া হয়।’
তারা বুঝতে পারেন মাধ্যাকর্ষণের বিরুদ্ধে কাজ করার অনুভূতি কেমন হয়। পরবর্তী ধাপে অ্যারোবেটিক বিমান এক্সট্রা থ্রি হান্ড্রেডের সঙ্গে তাদের পরিচয় করানো হয়। এ ধরনের বিমানই সাধারণত নানা ধরনের কৌশল প্রদর্শনে ব্যবহার করা হয়। প্রশিক্ষণের একটি বিশেষ ধাপ ছিল মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে সুস্থ থাকতে শেখা।
‘এক্সট্রা থ্রি হান্ড্রেডের পর তাদের এল-৩৯ অ্যালবাট্রসের সঙ্গে পরিচয় করানো হয়। এটা তাদের ফাইটার জেটের সঙ্গে পরিচিত করানোর কাজে লাগে। এ বিমান বিষয়ে প্রশিক্ষণের পর তারা একজন বৈমানিক বলে স্বীকৃতির যোগ্যতা অর্জন করেন’—কেভিন বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। গ্লেন পাওয়েল দ্রুতই শিখে ফেলেছিলেন। এরপর এফ/এ-১৮ বিমানে তাদের আনা হলে তারা সহজেই সে বিমানের কলাকৌশল শিখতে পেরেছিলেন। কেভিন বেশ প্রশংসা করেছেন মনিকা বারবারোর। তিনি বলেন, ‘সে অসাধারণ কাজ করেছিল।’
সবার সেরা পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে টম ক্রুজের দৃঢ় ইচ্ছা এবং কেভিনের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পরিশ্রমের মাধ্যমে সত্যিকারের বৈমানিক হয়ে উঠেছেন তারকারা। তাদের নিজেদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জেট টু জেট ফটোগ্রাফি এবং এফ/এ-১৮ বিমানের বাইরে আইম্যাক্স ক্যামেরা বসানোর কারণে দৃশ্যগুলো জীবন্ত হয়ে উঠেছে। থিয়েটারে তাই দর্শকদের মনে হয়েছে তারা নিজেরাও উড়ছেন।
সূত্র: ভ্যারাইটি










