আগামী বছরের ১০ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। এরই মধ্যে উৎসবকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। এবারের আসরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ বাংলাদেশ প্যানোরামায় জায়গা করে নিয়েছে আটটি সিনেমা, যা নিশ্চিত করেছেন উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল।
বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে নির্বাচিত সিনেমাগুলো হলো হাবিবুল ইসলাম হাবিবের ‘যাপিত জীবন’, সোহেল রানা বয়াতীর ‘নয়া মানুষ’, জ্যাক মিরের ‘দ্য স্টোরি অব আ রক’, জোবাইদুর রহমানের ‘উড়াল’, বিপ্লব কুমার পাল বিপুর ‘ধামের গান’, অনন্য প্রতীক চৌধুরীর ‘নয়া নোট’, সুমন ধরের ‘আগন্তুক’ এবং আহমেদ হাসান সানির ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’।
বাংলাদেশ প্যানোরমাসহ মোট ১০টি বিভাগ থাকছে এ উৎসবে। অন্য বিভাগগুলো হলো এশিয়ান সিনেমা সেকশন, রেট্রোস্পেক্টিভ, ট্রিবিউট, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন ফিল্মস, উইমেন ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্ট ফিল্মস ও স্পিরিচুয়াল ফিল্মস। সব মিলিয়ে ৭৫টি দেশের পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ২৫০টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের সিনেমা রয়েছে ৬৭টি। সিনেমাগুলো দেখানো হবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তন ও আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তনে।
এছাড়া এবারের উৎসবে থাকবে ‘চায়নিজ ফিল্ম উইক’, যেখানে চীনা চলচ্চিত্রের ১২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশটির ১৫টি সিনেমা প্রদর্শন করা হবে। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে উৎসবের পূর্ণাঙ্গ সূচি ও বিস্তারিত জানাবেন আয়োজকেরা।
উৎসবসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আয়োজন হলেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এখন থেকেই। এক বছর বিরতির পর এবার চতুর্থবারের মতো যুক্ত হচ্ছে ‘ওয়েস্ট মিটস ইস্ট স্ক্রিনপ্লে ল্যাব’। চলচ্চিত্র নির্মাতা আকা রেজা গালিব ও চলচ্চিত্র সমালোচক-চিত্রনাট্যকার সাদিয়া খালিদ রীতির তত্ত্বাবধানে আট দিনব্যাপী চলবে ল্যাবটি। এশিয়ার যেকোনো চলচ্চিত্র নির্মাতা তার প্রকল্প জমা দিতে পারবেন। নির্বাচিত সেরা ১০টি প্রকল্প উৎসব চলাকালীন অনলাইনে আন্তর্জাতিক মেন্টরদের মাধ্যমে গ্রুমিংয়ের সুযোগ পাবে। শীর্ষ তিনটি প্রকল্প পাবে যথাক্রমে ৫ লাখ, ৩ লাখ ও ২ লাখ টাকা স্ক্রিনপ্লে ডেভেলপমেন্ট ফান্ড।
এ বিষয়ে উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বলেন, ‘গোটা বিশ্ব থেকে জমা পড়া অসংখ্য সিনেমার মধ্য থেকে দুই-আড়াইশ সিনেমা বাছাই করা বেশ কঠিন কাজ। এর সঙ্গে শতাধিক বিদেশী প্রতিনিধি, স্থানীয় অতিথি, সাংবাদিক ও দর্শকের আগমন—সব মিলিয়ে ভেন্যু, নিরাপত্তা, আবাসনসহ নানা প্রস্তুতি নিতে হয়। আগামী উৎসবটিকে অতীতের চেয়েও সফল ও সুন্দর করতে এখন থেকেই আমরা দিন-রাত কাজ করছি।’
রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ আয়োজিত ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৪তম আসরের পর্দা উঠবে ১০ জানুয়ারি ২০২৬।










