গত কয়েক বছরে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে আন্তর্জাতিক কিছু পুরস্কার। উইল স্মিথের থাপ্পড়-কাণ্ড অস্কারকে প্রভাবিত করেছিল, তবে তা ছিল ব্যক্তি পর্যায়ের। কিন্তু দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগে পড়ে গোল্ডেন গ্লোব। এ কারণে পুরস্কার অনুষ্ঠানের দর্শকও কমে গেছে এ বছর। অভিযোগ আছে গ্র্যামি, বাফটা নিয়েও। তবে সম্প্রতি আরেকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্কার মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন নিয়ে। আন্দ্রেয়া রাইজেনবরো মনোনীত হয়েছেন সেরা অভিনেত্রী বিভাগে। টু লেসলি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্তু মনোনয়নপ্রাপ্ত অন্যান্য অভিনেত্রীর তুলনায় তার চরিত্রের ব্যাপ্তি বা অভিনয়গুণ কিছুটা কম থাকার কথা। এ প্রসঙ্গেই আসে প্রচারণার বিষয়। 

অস্কার বা এ ধরনের আন্তর্জাতিক পুরস্কারের ক্ষেত্রে প্রচারণা একটি বড় ভূমিকা পালন করে। হতে পারে এ প্রচারণা পরিচালক, প্রযোজনা সংস্থা কিংবা পুরস্কার পেতে চান এমন কোনো ব্যক্তির। অস্কার মনোনয়নের দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ বা তার আগে থেকেই শুরু হয় এর তোড়জোর। গত বছর কোডা নিয়ে এ রকম প্রচারণা করেছিল অ্যাপল। মূলত এ ধরনের প্রচারণা দোষের কিছু না। কোনো পরিচালক, ব্যক্তি বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চাইলে তাদের সিনেমা, অভিনেতা বা পরিচালককে নিয়ে প্রচারণা চালাতে পারে। পিআরের মাধ্যমেই মূলত প্রচারণা চালানো হয়। অনেক সময় সিনেমা মুক্তি দেয়া হয় বিভিন্ন দেশে। পাঠানো হয় বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে। সেসব জায়গা থেকে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হওয়ার পর সিনেমাগুলো অস্কার বা গোল্ডেন গ্লোবে গুরুত্ব পায়। ঠিক এ ঘটনাই ঘটেছে রাজামৌলি পরিচালিত আরআরআর সিনেমার ‘‌নাটু নাটু’ নিয়ে। অস্কারে গানটি মনোনীত হওয়ার অন্যতম কারণ রাজামৌলির ক্রমাগত লবিং।

অর্থাৎ অস্কার বা গোল্ডেন গ্লোবের মতো অন্যান্য বড় পুরস্কারের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলা বা চাপ প্রয়োগ করা হয় না। বরং প্রচারণার মাধ্যমে সিনেমাকে এগিয়ে নেয়া হয়। ‘‌টু লেসলি’ সিনেমাটির ক্ষেত্রে আন্দ্রেয়া ব্যক্তিগতভাবে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তার বন্ধুস্থানীয় ব্যক্তিরা সাহায্য করেছেন। যেমন টাইটানিক অভিনেত্রী ফ্রান্সিস ফিশার এ নিয়ে একাধিক পোস্ট করেছেন। সেখানে আন্দ্রেয়া সম্পর্কে প্রশংসাসূচক কথা ছিল। ফিশার নিজে একাডেমির একজন সদস্য। ফলে তার কথার প্রভাব মনোনয়নে কোনো না কোনোভাবে পড়ে। একটি সিনেমা ভালো লাগলে তা নিয়ে পোস্ট করা কোনোভাবেই অপরাধের কাতারে পড়ে না, কিন্তু এর ফলে কমিটি নিশ্চিতভাবেই প্রভাবিত হয়। এ কারণেই বিষয়টি একাডেমির গোচরে এলে তারা নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, আন্দ্রেয়ার প্রচারণা অস্কারের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেনি। কিন্তু এর বাইরেও প্রশ্ন উঠেছে বর্ণবাদের। 

অস্কারের সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়নে নেই কোনো কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রীর নাম। এ বছরের মনোনয়নে ‘‌দ্য ওম্যান কিং’-এর জন্য ভিওলা ডেভিস ও ‘‌টিল’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ড্যানিয়েল ডেডওয়েলার মনোনীত হবেন বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা মনোনয়ন পাননি। এখান থেকে কথা উঠেছে রাইজেনবরো বা শ্বেতাঙ্গ অভিনেত্রীদের মনোনয়ন দিতেই বাদ দেয়া হয়েছে কৃষ্ণাঙ্গদের। অস্কারের ইতিহাসেও কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রীদের জয়ের তালিকা ছোট। এর পেছনেও প্রচারের ভূমিকা রয়েছে। প্রচার করা অস্কার কমিটির কাজ নয়, কিন্তু অন্যান্য অভিনেতা অভিনেত্রীও এ কাজ করেন না। ফলে পেছনে পড়েই যান কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রীরা। তাই রাইজেনবরো বা অন্য কোনো অভিনেত্রী এর জন্য একা দায়ী নন। বহুদিন ধরে চলে আসা নিয়মের কারণেই অবহেলিত কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রীরা।

সূত্র: ভ্যারাইটি