সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না হলিউডের। চিত্রনাট্যকারদের ধর্মঘট শেষে এখন চলছে রেডিও-টেলিভিশন অভিনেতাদের ধর্মঘট। এর কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে সিনেমার কাজ। এখানেই শেষ নয়, অভিনেতাদের কেউ কেউ অভিযুক্ত নানা অপরাধে। ফলে সিনেমা পেছাতেই হচ্ছে। কিছু সিনেমা মাঝপথে বন্ধ হয়েছে, আবার কোনোটি শুটিং শেষ করেই মুক্তি পাচ্ছে না সময়মতো। এ তালিকায় আছে জোনাথন মেজর্স অভিনীত ম্যাগাজিন ড্রিমস, ইথেন হক অভিনীত দ্য ব্ল্যাক ফোনের সিকুয়াল, র্যাচেল জেগলার অভিনীত ডিজনির স্নো হোয়াইট, এমনকি জেসন মমোয়া অভিনীত অ্যাকুয়াম্যান অ্যান্ড দ্য লস্ট কিংডম।
জোনাথন মেজর্সের সমস্যাটা গুরুতর। মার্চে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন একটি ডমিস্টিক ভায়োলেন্স মামলায়। এখনো এর শুনানি চলছে। মেজর্সের পরবর্তী শুনানি ২৯ নভেম্বর। এ অবস্থায় তার সিনেমা ‘ম্যাগাজিন ড্রিমস’ আগামী ৮ ডিসেম্বর মুক্তি দিতে চাচ্ছে না সার্চলাইট পিকচার্স, যদিও সিনেমাটি ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। আরো একটি কারণ হচ্ছে তাদের হাতে আছে সম্ভাবনাময় একটি সিনেমা। এমা স্টোন-ইয়োর্গাস ল্যান্থিমোস অভিনীত ‘পুওর থিংস’ তারা মুক্তি দিচ্ছে ওই দিনে।
এদিকে ধর্মঘটের কারণে পিছিয়েছে ডিজনির সিনেমা। ডিজনি ও পিক্সারের যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘এলিয়ো’র মুক্তি পেছানো হয়েছে এক বছর। ২০২৪ সালের মার্চে মুক্তি পাওয়ার কথা এর, কিন্তু পিছিয়ে দেয়া হয়েছে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। অন্যদিকে র্যাচেল জেগলার অভিনীত ‘স্নো হোয়াইট’ নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। সিনেমাটিতে মূল চরিত্রে আছেন র্যাচেল ও তার বিপরীতে খল চরিত্রে গাল গাদত। এ নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হয়েছেন র্যাচেল। এ সিনেমাও ২০২৪ সালের মার্চে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে ২০২৫ সালের ১৩ জুন মুক্তির কথা ভাবছে ডিজনি।
২০২২ সালে হুট করেই ভালো করেছিল ইথেন হকের দ্য ব্ল্যাক টেলিফোন। সিনেমাটির সিকুয়াল করার চিন্তা হচ্ছে, কিন্তু তা নিয়েও নানা জটিলতা। অভিনেতাদের ধর্মঘটের কারণে সিনেমাটির কাজ এগোচ্ছে না। এদিকে অ্যাকুয়াম্যান অ্যান্ড দ্য লস্ট কিংডম নিয়ে নাটক তো শেষই হচ্ছে না। অ্যাম্বার হার্ডের নানা অভিযোগ ও সিনেমার চাহিদার মধ্যে বলা হয়েছিল ২০ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে এটি। কিন্তু তা হচ্ছে না। এটিকে আবার পেছানো হয়েছে দুদিন। এখন বলা হচ্ছে অ্যাকুয়াম্যান মুক্তি পাবে ২২ ডিসেম্বর।
মুক্তি পিছিয়েছে টম ক্রুজের মিশন: ইম্পসিবল পরবর্তী পর্বেরও। প্রত্যাশা তৈরি করেও ডেড রেকনিং ব্যবসা করতে পারেনি। ২৫ কোটি ডলারে নির্মিত মিশন: ইম্পসিবল-ডেড রেকনিং আয় করেছে ৫০ কোটি ডলারের কিছু বেশি। সে কারণেই পেছানো হয়েছে পরবর্তী পর্ব।
২০২৪ সালের ২৮ জুন মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল পার্ট টুর। এখন একে অনেকেই মিশন: ইম্পসিবল এইট বলছেন। প্যারামাউন্ট এ সিনেমার মুক্তি পিছিয়ে দিয়েছে প্রায় এক বছর। নতুন পরিকল্পনা অনুসারে, ২০২৫ সালের ২৩ মে মুক্তি দেয়া হবে সিনেমাটি।
সূত্র: ডেডলাইন










