মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হৃদি হক নির্মাণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘১৯৭১: সেই সব দিন’। সিনেমাটির মূল ভাবনা প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হকের। ড. ইনামুল হকের জন্মদিন ছিল সোমবার। এ দিনে সিনেমাটির পোস্টার উন্মোচন ও ট্রেলারের প্রদর্শনী করেন নির্মাতা হৃদি হক। সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এর কলাকুশলীদের সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেনের উপস্থাপনায় এতে অতিথি ছিলেন আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লাকী ইনাম, তৌকীর আহমেদ, মুনমুন আহমেদ, সারা যাকের চিত্রনায়ক ফেরদৌস, লিটু আনাম, তানজিকা, অর্ষা, সানজিদা প্রীতি প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে হৃদি হক বলেন, ‘আমরা বেশ যত্ন নিয়ে সিনেমার কাজ শেষ করেছি। এখন দর্শকের সামনে নিয়ে আসার অপেক্ষা, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৮ আগস্ট সিনেমাটি মুক্তি পাবে।’

সিনেমার চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন হৃদি হক নিজেই। এ সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন বীথি চরিত্রে। তার বিপরীতে আছেন ফেরদৌস আহমেদ। আরো আছেন মামুনুর রশীদ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, মুনমুন আহমেদ, শিল্পী সরকার অপু, ফেরদৌস, তারিন, লিটু আনাম, সজল, সাজু খাদেম, সোনিয়া হোসেন, সানজিদা প্রীতি প্রমুখ। 

সিনেমাটি নিয়ে জানতে চাইলে হৃদি হক বলেন, ‘আব্বুর জন্মদিন ছিল ২৯ মে। আর আমাদের সিনেমা মুক্তি পাবে ১৮ আগস্ট। তাই আমরা আব্বুকে নিবেদন করেই তার জন্মদিনে সংবাদ সম্মেলনটি করেছি, যাতে অনুভবে, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় আমরা তাকে পাই। সংবাদ সম্মেলনের মূল অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে আমরা টিজার ও ট্রেলার প্রদর্শন করেছিলাম। উপস্থিত সবাই ভীষণ মুগ্ধ হয়েছেন। আমাদের মনেও সিনেমাটিকে ঘিরে অনেক আশা জেগেছে। সত্যি বলতে কি টিজার আর ট্রেলার দেখে সবার মনেই এ সিনেমা ঘিরে আশা জেগেছে যে এটি দর্শক দেখবে।’

ফেরদৌস আহমেদ অভিনয় করছেন সঞ্জু চরিত্রে, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। এটি নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী চিত্রনায়ক এ অভিনেতা। এ সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর আগেও আমি সরকারি অনুদানে কিংবা অনুদানের বাইরেও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পের সিনেমায় অভিনয় করেছি। কিন্তু মনে হচ্ছে যে ‘১৯৭১: সেই সব দিন’ আমার করা মুক্তিযুদ্ধের গল্পের সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম ভালো সিনেমা। নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের গল্প উঠে এসেছে এ সিনেমায়। আমি যতদূর জানি, হৃদি তার বাবা-মা ও আশপাশের অনেকের কাছ থেকে বিভিন্ন ঘটনা শুনে এবং সেসবের সত্যতা যাচাই করেই সিনেমাটির গল্প লিখেছেন। আমি খুবই আশাবাদী এ সিনেমা নিয়ে।’

সংবাদ সম্মেলন ও ট্রেলার উন্মোচন প্রসঙ্গে ফেরদৌস বলেন, ‘আমি কোনো সিনেমার এত চমৎকার সংবাদ সম্মেলন দেখিনি। আফজাল ভাইয়ের উপস্থাপনা, সিনিয়র শিল্পীদের অংশগ্রহণে সংবাদ সম্মেলনের নতুন এক ধারা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে হৃদি ও তার পুরো টিম দেখিয়ে দিয়েছে যে চাইলেই একটি অনুষ্ঠান অনেক বেশি নান্দনিক হতে পারে। সিনেমার হাতে আঁকা পোস্টারের মধ্য দিয়ে আমাদের সিনেমার পুরনো ঐতিহ্যকেই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। টিজার, ট্রেলার দেখে উপস্থিত দর্শকের মধ্যে সিনেমাটিকে দেখার প্রবল আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গল্পের এ সিনেমা বাংলাদেশের প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের দেখা উচিত।’ 

এ সিনেমার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর বড় পর্দায় দেখা যাবে লিটু আনামকে। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী তারিন জাহান। এ প্রসঙ্গে লিটু আনাম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সিনেমাটিতে অভিনয় করে ভালো লেগেছে। এতে আমাকে দেখা যাবে সাঈদ চরিত্রে। অভিনয়ের পাশাপাশি এ সিনেমায় আমি শিল্প নির্দেশনা দিয়েছি। পিরিয়ডিক সিনেমায় কাজ করা অনেক চ্যালেঞ্জিং। ’৭১ সালে নয় মাসের জার্নি দেখানো হবে। সবকিছু যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছি। আশা করছি, দর্শক সিনেমায় অনেক নতুনত্ব পাবেন।’

মডেল, অভিনেত্রী, উপস্থাপিকা সোনিয়াকে এ সিনেমার একটি গানে একেবারেই ভিন্ন রূপে দেখা যাবে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি হৃদি আপুর প্রতি কৃতজ্ঞ যে এত অসাধারণ একটি সিনেমায় আমাকে তিনি মন থেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। আমার অভিনয় জীবনের একটি সিগনেচার সিনেমা হয়ে থাকবে ১৯৭১: সেই সব দিন।’

২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা ও ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন লোকেশনে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে।