টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা আফজাল শরীফ। বাংলা সিনেমার দর্শকের মুখে হাসি ফোটাতে তার অভিনয় অনবদ্য। তিনি ২০১০ সালে ‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’ ও ২০১৮ সালে ‘পবিত্র ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা’ হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। আফজাল ১৯৮৪ সালে ‘আরামবাগ গ্রুপ’ থিয়েটারে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে তার অভিনয়জীবন শুরু করেন। অভিনেতা আহসানুল হক মিনুর মাধ্যমে তিনি মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে হুমায়ূন আহমেদ রচিত ও পরিচালিত টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘বহুব্রীহি’র মাধ্যমে প্রথম ছোট পর্দায় অভিনয় করেন।

গৌতম ঘোষ পরিচালিত ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। তবে পদ্মা নদীর মাঝি মুক্তির আগে তিনি চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘দাঙ্গা ফ্যাসাদ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন।

১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত মঞ্চনাটকে অভিনয় করেছেন। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রে অভিনয়ে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন।

তিনি জনপ্রিয় টেলিভিশন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির ‘মামা-ভাগ্নে’ পর্বে নিয়মিত ভাগ্নে চরিত্রে অভিনয় করেন, যাতে মামা চরিত্রে ছিলেন আব্দুল কাদের। তিনি আশির দশকের মধ্যভাগে তাহমিনা শরীফের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। আফজালের পিতার নাম আলিম মিয়া, যিনি একজন ডাক্তার ছিলেন। জনপ্রিয় এ কৌতুক অভিনেতার আজ জন্মদিন। তিনি ১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ (১৯৯৩), ‘দাঙ্গা ফ্যাসাদ’, ‘আবদার’, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ (২০০১), ‘ঠেকাও মাস্তান’ (২০০১), ‘বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না’ (২০১২), ‘মাখন মিয়া’, ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ (২০১৫), ‘বেলায়েত’, ‘বাংলার বউ’সহ অনেক নাটক ও সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।