বলিউডের সেরা কিছু সিনেমার তালিকা করা হলে ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ থাকবে সবার ওপরে। ১৯৯৪ সালে সুরাজ বারজাতিয়া নির্মিত এটি একটি রোমান্টিক ড্রামা সিনেমা। সিনেমাটি মুক্তির আগে ট্রেলার দেখে অনেকে মনে করেছিলেন বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই এর গল্প। তবে মুক্তির পর দর্শক খুব ভালোভাবেই এটিকে গ্রহণ করেছিল। এ বছর সুপারহিট সিনেমাটি মুক্তির ৩০ বছর পেরিয়েছে। সিনেমা সমালোচকরা মনে করেন, এটি দর্শকের বলিউড সিনেমা সম্পর্কে ধারণা পাল্টে দিয়েছে। সেই সঙ্গে অভিনেতা সালমান খান, মাধুরী দিক্ষীতসহ বাকি সবারই ক্যারিয়ারে যোগ হয়েছিল বিশেষ ধারা। কেবল নির্মাতা বা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নয়, এর সাফল্য বয়ে এনেছিল সিনেমা হল মালিক, এমনকি যারা ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রি করেছিল তাদের জন্যও।

যে বছর সিনেমার ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন হয়, তখন সিনেমাটি নিয়ে নানা মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন নির্মাতা সুরাজসহ সিনেমার পুরো টিম। জানান, সিনেমাটি ১৯৯৪ সালে প্রথমে মুক্তি পেয়েছিল ভারতের মুম্বাই শহরের আইকনিক লিবার্টি সিনেমা হলে। তবে এ সিনেমার আগে লিবার্টিতে ভালো মানের কোনো চলচ্চিত্র দেখানো হতো না। সেখানে চলত বি-গ্রেড সিনেমাগুলো। সে কারণেই পরিবার নিয়ে যারা সিনেমা দেখে তাদের মতো দর্শক পাওয়া বন্ধ হয়ে যায় এ ধরনের হলগুলোর।

নির্মাতা জানান, সে সময় এ সিনেমা হলের কাছে অন্য যে হল ছিল, তারা না করে দেন সুরাজকে। তবে লিবার্টির মালিক নাজির হোসেন দরজা খুলে দিয়েছিলেন। এছাড়া সিনেমাটির প্রযোজনা সংস্থা রাজশ্রী প্রডাকশনের সব শর্তই মেনে নিয়েছিলেন। সেখান থেকেই হলটির অবস্থানেরও উন্নতি ঘটেছিল বলে নির্মাতা সুরাজ মনে করেন। সিনেমাটির প্রযোজক কমল কুমার জানিয়েছেন, বর্তমানে লিবার্টি সিনেমা হলে কেউ সিনেমা মুক্তি দিতে পারবেন না। কারণ তারা আগামী এক বছরের জন্য বুকড আছে।

অর্থাৎ একটা ভালো সিনেমা কীভাবে সিনেমা হলগুলোয় দর্শক ফিরিয়ে আনতে পারে তারই প্রমাণ হাম আপকে হ্যায় কৌন। এছাড়া নির্মাতা সুরাজ বলেন, ‘আমি খুবই বিস্মিত হয়েছিলাম যখন জেনেছি, একজন ব্যক্তি ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রি করে সেই টাকায় দুটি প্লটও কিনেছিলেন। আমি খুব হেসেছি এটি জেনে।’

লিবার্টি সিনেমা হলের মতো বেশকিছু হল হাম আপকে হ্যায় কৌন  সিনেমার সাফল্যের একটি বড় অংশ হয়ে থেকে গেছে। ফলে নাম চরিত্রে থাকা অভিনেতারা ছাড়াও রেনুকা শাহিন ও মনীষা বাহলের মতো অভিনেত্রীরাও নিজেদের ক্যারিয়ারে এগিয়ে গেছেন সাফল্যের সঙ্গে।

সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা