আফগানিস্তানের কাবুলের আরিয়ানা হল সেখানকার চারটি সিনেমা হলের একটি। কয়েক দশক ধরেই সিনেমা হলটি আফগানদের বিনোদন দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে আফগানদের যুদ্ধ, আশা ও সংস্কৃতির সাক্ষী হয়েও রয়েছে এটি।
তবে গত জুলাইয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালেবানরা আরিয়ানা ও অন্য সিনেমা হলগুলোকে বন্ধের নির্দেশ দেয়। সশস্ত্র গেরিলা গোষ্ঠী থেকে শাসক হয়ে ওঠা তালেবানরা জানিয়েছে, আফগানিস্তানে সিনেমা প্রদর্শনের অনুমতি দেবে কিনা সে বিষয়ে এখনো তারা সিদ্ধান্ত নেয়নি। হলের দেয়াল থেকে তুলে ফেলা হয়েছে বলিউড ও হলিউডের সিনেমার পোস্টার। আরিয়ানায় এখন সুনসান নীরবতা।
আফগানিস্তানের অনেক কিছুই এখন ঝুলে আছে তালেবানদের সিদ্ধান্তের ওপর। তারা কীভাবে দেশ চালাবে, সে নীতির ওপর নির্ভর করে আছে দেশটির সিনেমা হলগুলোর ভাগ্য।
সিনেমা হলটিতে ২০ জন কর্মী আছেন। তারা প্রতিদিনই নিজেদের কর্মক্ষেত্রে হাজির হচ্ছেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন। আশায় আছেন হয়তো বেতনটা পাবেন। এখানকার কর্মচারীরা সবাই পুরুষ। হলটি কাবুল পৌরসভার মালিকানায়। তাই এর কর্মীরা সরকারি কর্মচারী। নীরব টিকেট বুথে আড্ডা দিয়ে ও করিডোরে পায়চারি করে কাটছে কর্মচারীদের সময়। হলে অন্ধকারে শূন্য পড়ে রয়েছে সারি সারি লাল রঙের আসন।
অন্যদিকে পুরুষদের সঙ্গে যাতে নারীরা মিশতে না পারে সেজন্য নারী কর্মচারীদের তাদের কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে তালেবানরা। আরিয়ানার পরিচালক আসিতা ফেরদৌস। তিনি এ পদে কাজ করা দেশটির প্রথম নারী। অবস্থা এমন যে নারী বলে আসিতা নিজেই হলে ঢুকতে পারছেন না।
২৬ বছর বয়সী ফেরদৌস, যিনি ২০০১ সালের পরবর্তী প্রজন্মের আফগান তরুণীদের একজন। তিনি নারী অধিকার আদায়ের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ একজন নারী। তবে তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পর তার সেই আশা আঁধারে ডুবে গেছে। তিনি একই সঙ্গে একজন চিত্রকর ও ভাস্কর। তালেবানরা ক্ষমতা নেয়ার পর এখন তাকে ঘরেই থাকতে হচ্ছে।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সময়ে তালেবানরা সিনেমা হল, সিনেমা, গান ও অন্যান্য শিল্প বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আছে তালেবানরা। তারা এখন বলছে, তাদের নীতি অনেক বদলেছে। এসব বিষয়ে তারা আগের অবস্থানে ফিরে যাবে কিনা তা এখনো অস্পষ্ট।
১৯৬৩ সালে চালু হয় আরিয়ানা সিনেমা হল। হলটির ডিজাইন গোঁড়া সমাজে আধুনিকতা আনার যে চেষ্টা সে সময়ের শাসকরা করেছিলেন তার সাক্ষী হয়ে আছে। কাবুলের বাসিন্দা জিবা নিয়াজাই ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে নিয়মিত আরিয়ানায় সিনেমা দেখেছেন। কিন্তু এখন সবকিছু আবার বদলে যেতে শুরু করেছে।
সূত্র: এপি










