দেশের ছোট পর্দার জনপ্রিয় নির্মাতা সঞ্জয় সমাদ্দার। ওয়েব মাধ্যমে নিয়মিত কাজ করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। নির্মাতা হিসেবে বড় পর্দায় তার অভিষেক হচ্ছে টালিউডে ‘মানুষ’ সিনেমার মাধ্যমে। ২৪ নভেম্বর ভারতে মুক্তি পাবে জিৎ ও বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত এ সিনেমা। ‘মানুষ’ প্রযোজনা করেছে জিৎ ফিল্মওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড। প্রথম সিনেমা পরিচালনা ও জিতের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাসহ নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন সঞ্জয় সমাদ্দার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী

কলকাতায় পরিচালনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাই।

আমার কলকাতার সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সূচনা মানুষ সিনেমার গল্প থেকে হয়েছিল। মানুষ সিনেমার গল্পটা অসম্ভব সুন্দর। জিতদা গল্পটা শুনেই পছন্দ করেন। তারপর লাইন আপ করতে বলেন আমাকে। আমি সিনেমার স্ক্রিপ্ট করি। এরপর জিতদা আমাকে স্ক্রিপ্ট ন্যারেশনের জন্য ডাকেন। ন্যারেশন শুনে তার ভালো লাগে। আমার আগের কাজ খেয়াল করলে দর্শক দেখবে সংলাপ আমার স্ট্রং জোন। মানুষ সিনেমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম করিনি। অবশেষে কাজটা হলো। এখন মুক্তির অপেক্ষায় আছে আমার সিনেমা মানুষ। সব মিলিয়ে নতুন এ সফর আমাকে আনন্দ দিয়েছে। এখন অপেক্ষা সিনেমা মুক্তির পর দর্শকের অভিজ্ঞতা শোনার।

জিতের সঙ্গে কাজ করার এ জার্নি কেমন ছিল?

জিতদা সুপারস্টার। কাজের বিষয়ে ভীষণ সিরিয়াস। একজন অসাধারণ অভিনেতা তিনি, এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। মুহূর্তেই চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন। দাদা আমাকে যে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছেন, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি কাজ দিয়ে তার প্রতিদান দিতে। মানুষ একটি দুর্দান্ত সিনেমা হয়েছে। এটি যারা দেখবে, তারা একটি অসাধারণ অনুভুতি নিয়ে হল থেকে বের হবে বলে আশা করি। আর সব মিলিয়ে এটা বলতে পারি, জিতদার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা দুর্দান্ত ছিল আমার জন্য। বাকিটা দর্শক বলবেন সিনেমা দেখার পর।

মানুষ সিনেমার গল্প নিয়ে বলুন...

গল্পটা এখন বলে দিলে হবে না। আমাদের সিনেমার গল্পটা হলের জন্যই তোলা থাক। তবে এতটুকু বলতে পারি, মানুষের জীবনের গল্প এটি। ইমোশন, অ্যাকশন ও থ্রিলের এক অনবদ্য জার্নি। সিনেমা মুক্তির পরই দর্শক গল্পটা জানবে। আর তো মাত্র একটা মাস। আমার বিশ্বাস গল্পটা দর্শককে আনন্দ দেবে।

দুই দেশের তারকাদের নির্দেশনা দেয়ার অভিজ্ঞতা হলো। কোনো পার্থক্য খুঁজে পান কি?

আমি ডিরেকশনের সহজাত যে স্টাইল সেভাবেই সব জায়গায় কাজ করি। এটা আমার সৌভাগ্য যে আমি নিজ দেশের পাশাপাশি কলকাতার তারকাদের সঙ্গেও কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। দুই দেশের তারকারাই অসাধারণ কাজ করেন। সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে কাজ করেন বলেই দর্শকের ভালোবাসা আসে, যখন কোনো কনটেন্ট পর্দায় মুক্তি পায়। তবে একটা কথা বলতেই হবে সেটা হচ্ছে, কলকাতায় সবাই দারুণভাবে টাইম মেইনটেইন করেন। যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই এটি খুব দরকার। দুই দেশের তারকারাই প্রতিভাবান। সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করেন।

ছোট পর্দা দিয়ে শুরু করেছিলেন। এখন বড় ক্যানভাসে কাজ করছেন। মিডিয়ায় ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন কীভাবে?

আমি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম লেখক হিসেবে। এরপর পরিচালনায় আসা। পরিচালক হিসেবে বিজ্ঞাপন, শর্টফিল্ম, নাটক, টেলিফিল্ম, টেলিভিশন ফিচার ফিল্ম, ওয়েব ফিল্ম, ওয়েব সিরিজ ইত্যাদি করেছি। আর এখন সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছি। আপনারা জানেন, শুরু থেকেই আমি বৈচিত্র্যময় গল্প বলার চেষ্টা করেছি। এটি অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সবসময়।

সামনে আপনার নতুন কোনো কাজ আসতে যাচ্ছে?

হ্যাঁ, কিছু কাজ আসবে। এর মধ্যে সামনে দুটি ওয়েব সিরিজ ও একটি বড় সিনেমা আসতে যাচ্ছে। এছাড়া একটি ওয়েব ফিল্ম শিগগিরই মুক্তি পাবে। যেহেতু প্রডাকশন হাউজ অফিশিয়ালি জানাবে, তাই এখন বিস্তারিত বলতে পারছি না। বিস্তারিত জানাব শিগগির।