বলিউডে বহু গান লিখেছেন জাভেদ আখতার। এর মধ্যে অনেক গান কালজয়ী হয়েছে। আবার কিছু গান হারিয়েও গেছে। জাভেদ পরিচিত তার অসাধারণ শব্দচয়নের জন্য। কিন্তু চাইলে তিনি সিনেমার সিচুয়েশন অনুসারে মজার গানও লিখতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, ‘ওম শান্তি ওম’ সিনেমার ‘দার্দ-এ-ডিস্কো’র কথা। দার্দ শব্দটির সঙ্গে ডিস্কো বসবে এমনটা অনেকের চিন্তা করারও কথা নয়। কিন্তু জাভেদ চিন্তা করেছিলেন। ফারাহ খান জানালেন, মাত্র ৫ মিনিটে গানটি লিখেছিলেন জাভেদ।

ফারাহ খানের ২০০৭ সালের ব্লকবাস্টার ওম শান্তি ওম আজও দর্শকের মনে অমলিন। সিনেমার গানগুলোও জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে মুক্তির ১৮ বছর পরও। ‘ধুম তা না’, ‘আঁখোঁ মেঁ তেরি’, ‘দিওয়াঙ্গি দিওয়াঙ্গি’ থেকে শুরু করে ‘দাস্তান-এ-ওম শান্তি ওম’—সবই এখনো শ্রোতারা শোনেন। তবে যে গানটি আলাদা জায়গা করে নিয়েছে, তা হলো দার্দ-এ-ডিস্কো—যেটি কাওয়ালি, ডিস্কো আর আইটেম গানের অনন্য মিশ্রণ।

গানটি গেয়েছেন সুখবিন্দর সিং, সুর দিয়েছেন বিশাল-শেখর, কোরিওগ্রাফি করেছেন ফারাহ খান আর গানের কথা লিখেছেন কিংবদন্তি কবি ও গীতিকার জাভেদ আখতার। সম্প্রতি টেক টু পডকাস্টে ফারাহ জানালেন, ‘জাভেদ আঙ্কেল ভীষণ সময় নিয়ে কাজ করেন। দুই লাইন লিখতে দিন কেটে যেত। কিন্তু দার্দ-এ-ডিস্কো লিখলেন মাত্র ৫ মিনিটে!’

ফারাহর দেয়া ব্রিফটিও ছিল অনন্য। ফারাহ বলেছিলেন, ‘গুলজার স্যারের মতো লিখুন।’ জাভেদ আখতার হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ‘আচ্ছা, এখনই লিখছি’ এবং ফলাফল—দার্দ-এ-ডিস্কো। এর আগেও ফারাহর জীবনে এসেছিল ‘গুলজার মুহূর্ত’। ‘দিল সে..’ সিনেমার ‘সাতরঙ্গি রে’ নাচের সময় তিনি বুঝতেই পারছিলেন না, ‘হালকা হালকা উন্স হুয়া’—এই ‘উন্স’ মানে কী! তখন তিনি ফোন করেছিলেন জাভেদ আখতারকে জিজ্ঞেস করতে।

জাভেদ আখতারও মজার ছলে বলেছিলেন, ‘ফারাহ আমাকে বলেছিল, এমন গান চাই, যার কোনো মানে নেই। তখন বুঝলাম, অর্থহীন লেখা কত কঠিন! কিন্তু খুশি যে গানটা যথেষ্ট অর্থহীন হয়েছিল।’

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস