হলিউডের বক্স অফিসে নতুন মোড় এসেছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে খানিকটা চাঙ্গা হয়েছে। তিনটি সিনেমা বেশ ভালো ব্যবসা দিচ্ছে। ডিসি ও মার্ভেল একই সময় দুটো সিনেমা নিয়ে হাজির হয়েছে। ফলে বক্স অফিসে লক্ষ্মীর ভাঁড়ার ফুলে উঠছে। ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’, ‘সুপারম্যান’ ও ‘এফ ওয়ান’ দিয়ে ভালোই চলছে হলিউডের বক্স অফিস। এর মধ্যে ফ্যান্টাস্টিক ফোর প্রথম সপ্তাহে আয় করেছে ২১ কোটি ডলার। অন্যদিকে সুপারম্যান ও এফ ওয়ান আলাদাভাবে ৫০ কোটি ডলার আয় ছাড়িয়েছে।

ম্যাট শ্যাকম্যান পরিচালনা করেছেন ফ্যান্টাস্টিক ফোর। সিনেমাটি ২৫ জুলাই মুক্তি পেয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন পেদ্রো প্যাসকেল ও ভেনেসা কির্বি। এ সিনেমা নিয়ে সবারই উচ্চাশা ছিল। মার্ভেলের নিয়মিত সিনেমার মধ্যে একটি নতুন সংযোজন। সে জায়গা থেকে সিনেমাটি ভালো ব্যবসা করেছে। মুক্তির তিনদিনে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর আমেরিকা থেকে আয় করেছে প্রায় ১১ কোটি ডলার। এর বাইরে এটি প্রথম সপ্তাহে (মুক্তিসহ তিনদিন ও প্রিভিউ স্ক্রিনিং) বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আয় করেছে ১০ কোটি ডলারের মতো। সব মিলিয়ে ২১ কোটি ডলারের বড় একটি ওপেনিং উইক পেল ফ্যান্টাস্টিক ফোর।

এ মাসের শুরুতে ৮ জুলাই মুক্তি পেয়েছিল সুপারম্যান। জেমস গান পরিচালিত সিনেমাটি দিয়ে ডিসির নতুন যুগ শুরুর স্বপ্ন দেখছেন অনেকেই। এটি মুক্তি পেয়েছিল ৭৮টি মার্কেটে। এ সিনেমা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় করেছিল সাড়ে ৯ কোটি ডলার। এছাড়া উত্তর আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে মোট আয় করেছিল ২২ কোটি ডলার।

35

অন্যদিকে ফ্যান্টাস্টিক ফোর মুক্তি পায় ৫২টি বাজারে। এর মধ্যে মেক্সিকো থেকে ১ কোটি ২০ লাখ, যুক্তরাজ্য থেকে ১ কোটি ৮ লাখ, ফ্রান্স থেকে ৫৭ লাখ ও ব্রাজিল থেকে ৫১ লাখ ডলার আয় করেছে। চীন থেকে এসেছে ৪৫ লাখ ডলার। চীন থেকে সুপারম্যান আয় করেছিল ৬৬ লাখ ডলার।

এ দুই সিনেমা বাদেও আরেকটি সিনেমা বেশ ভালো করেছে বক্স অফিসে। জোসেফ কোসিনস্কি পরিচালনা করেছেন এফ ওয়ান। সিনেমায় অভিনয় করেছেন ব্র্যাড পিট। বহুদিন পর পিটকে এ ধারার সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা গেছে। সিনেমাটি আয় করে নিয়েছে ৫০ কোটি ডলারের বেশি। এছাড়া ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড রিবার্থ’ আয় করেছে ৭০ কোটি ডলার।

সুপারম্যানের ব্যবসা নিয়ে খানিকটা হতাশার জায়গা আছে। সিনেমাটি মুক্তির পর আয় প্রায় ৫৭ শতাংশ কমে গেছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে জেমস গানের একটি উক্তির কথা। তিনি সুপারম্যানের সঙ্গে অভিবাসী সমস্যার তুলনা করেছিলেন। বিষয়টি অনেকেই ভালোভাবে নেননি। এর প্রভাব পড়েছে সিনেমার আয়ে। কিন্তু সুপারম্যানের মতো সিনেমার একটা বাজার থাকে। সে কারণে সিনেমাটি ৫০ কোটি ডলার সহজেই আয় করে নিয়েছে।

এদিকে জুরাসিক ওয়ার্ল্ড রিবার্থ ৮২টি অঞ্চল থেকে আয় করেছে ২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। জুরাসিক ফ্র্যাঞ্চাইজি অনেক আগে থেকেই দর্শকের মধ্যে জনপ্রিয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ ছিল। এছাড়া এবার যুক্ত হয়েছেন স্কারলেট জোহানসন ও জোনাথন বেইলি। সব মিলিয়ে সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক কথাই ছিল। আয়েও এর প্রতিফলন দেখা গেছে।

এছাড়া এফ ওয়ান ৭৮টি বাজার থেকে আয় করেছিল ২০ কোটি ডলার। ২৫ কোটি ডলারে নির্মিত সিনেমাটি আমেরিকার বাইরে থেকে আয় করেছে ৩৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এখন পর্যন্ত এর বৈশ্বিক মোট আয় ৫০ কোটি ৯ লাখ ডলার।