ছোট ও বড় পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী রুনা খান। বেশ কয়েক বছর ধরে বেছে বেছে কাজ করছেন তিনি। সম্প্রতি এ অভিনেত্রী শেষ করেছেন ‘স্বপ্ন’ নামে একটি টেলিছবির শুটিং। তার অভিনীত মুক্তির অপেক্ষায় আছে মাসুদ পথিকের ‘বক’, কৌশিক শংকর দাসের পরিচালনায় ‘দাফন’ এবং জাহিদ হোসেনের ‘লীলা মন্থন’। সোহেল রানা বয়াতি পরিচালিত ‘নিদ্রাসুর’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমায় কাজ করেছেন। সামনে আরো দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণাঙ্গ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
নারীর প্রতি সাইবার সহিংসতার বিরুদ্ধে সবসময় সরব থাকেন রুনা। সম্প্রতি শরীরে হয়রানির সংখ্যা লিখে ছবি প্রকাশ করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ ও বিভিন্নভাবে পরিচিত নারীদের হেনস্তা করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে রুনা বলেন, ‘প্রথমে বলব অনলাইনে নারী হয়রানি বন্ধ হোক। যতই কটাক্ষ আসুক আমার পরিবারের সদস্যদের এতে কিছুই যায় আসে না। তাছাড়া আমরা এ দেশের নারীরা এর মধ্য দিয়েই জীবন যাপন করি। রাস্তায় বের হলে একজন রিকশাওয়ালাও নারীকে কটূক্তি করে। হকার, সবজিবিক্রেতা, বাস কন্ডাকটর, হেলপার প্রত্যেকে নারীদের কটূক্তি করে। সমাজের ওই চিত্রই এখন সামাজিক মাধ্যম।’
নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা পরিবার এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের সমাজে নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রে বুলিং হয়। কেউ আমার চেয়ে মোটা হলে, শুকনো হলে বুলিং করি। কেউ আমার চেয়ে কালো হলে বুলিং করি। বয়স, রঙ, উচ্চতা— প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সবাইকে বুলিংয়ের শিকার হতে হয়। এগুলো বন্ধে, অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলানো বন্ধে পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশটা কোনো জেলখানা না। এখানে প্রত্যেক মানুষ একই পোশাক পরবে, একই খাবার খাবে, একই কথা বলবে তা হতে পারে না। সমাজে বিভিন্ন চিন্তাভাবনা, দর্শন ও বিশ্বাসের মানুষ থাকবে। তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ভিন্ন হবে। তার পরও তারা একই সমাজে বাস করবে। এটাই সমাজ ও দেশের সৌন্দর্য। সেটা যতক্ষণ পর্যন্ত ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত কারো ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, অশালীন আচরণ করা যাবে না। এ বোধ তৈরি করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’










