হিরোপান্তি দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল কৃতি শ্যাননের। এরপর বলিউডে বেশকিছু সিনেমা করেছিলেন। ‘মিমি’ দিয়ে জিতে নিয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তবে সিনেমায় তার যাত্রা সহজ ছিল না। সিনেমা পরিবারের বাইরে থেকে এসে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে এরপর সিনেমার পাশাপাশি নিজেকে অন্যান্য ব্যবসায়িক কাজেও যুক্ত করেন। স্কিনকেয়ার, ফিটনেস সেন্টারের পাশাপাশি করেছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এসব দিয়ে তিনি তৈরি করেছেন বেশ বড় একটি ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য। তার এ ব্যবসার পরিধির মূল্যমান ১০০ কোটি রুপির বেশি।
অভিনেত্রী হওয়ার কারণেই গ্ল্যামারের সঙ্গে পরিচিত কৃতি। তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মডেলিং দিয়ে। সুতরাং মেকআপের বিষয়টি তিনি জানেন। নিজের পেশার সঙ্গে মিল রেখে তাই আরেকটি ব্যবসা শুরু করেন। হাইফেন নামে একটি স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড শুরু করেছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে শুরু করা এ ব্যবসা সম্পর্কে এনডিটিভিকে বলেছিলেন, ‘আমি ত্বকের যত্নের বিষয়টি বুঝতাম না। কভিড-১৯ থেকে বিষয়টি বুঝতে শুরু করি। তারপর এটি শুরু করি।’
পিইপি টেকনোলজিসের সঙ্গে তিনি একটি শুরু করেছিলেন। পিইপি ব্যক্তিগত যত্নের (পারসোনাল কেয়ার) একটি বড় ব্র্যান্ড। তাদের সঙ্গে কৃতির যাত্রাটা ভালো হয়েছে। ফোর্বসের দেয়া তথ্য অনুসারে, যাত্রার এক বছরের মাথায় হাইফেনের মূল্যমান ১০০ কোটি ছাড়িয়েছে। এটিকে এখন ক্যাটরিনার কে বিউটি, মীরা রাজপুতের অ্যাকাইন্ড ও আশকা গোরাদিয়ার রেনি কসমেটিকসের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
এছাড়া কৃতি শ্যাননের আছে ফিটনেস ভেঞ্চার। ২০২৩ সালে হাইফেন শুরু করার আগেই তিনি এটি শুরু করেছিলেন। ২০২২ সালে কৃতি চালু করেন ‘দ্য ট্রাইব’। স্কিনকেয়ারের মতো ফিটনেসের বিষয়টিও সিনেমা থেকেই তার মাথায় এসেছিল। তিনি মিমি সিনেমায় অভিনয় করার জন্য ওজন বাড়িয়েছিলেন। এরপর সে ওজন কমিয়ে ফিটনেস ঠিক করতে গিয়ে মনে হয়েছিল, এটিকেও কাজে লাগানো যায়।
২০২২ সালে তিনি নিজের ফিটনেস স্টুডিও শুরু করেন। মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকা জুহুতে এটি প্রথম খোলা হয়। এরপর বান্দ্রায় ২০২৪ সালে আরেকটি ফিটনেস স্টুডিও খোলেন। এ দুই ভেঞ্চার থেকে কৃতি প্রতি মাসে বেশ মোটা অংকের অর্থ আয় করেন।
এখানেই শেষ নয়। কৃতি শ্যানন একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও শুরু করেছিলেন। ব্লু বাটারফ্লাই ফিল্ম নামে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি শুরু করার পর তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যেসব বা যে ধরনের গল্প বলতে চাই, সেসবের জন্য এ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।’ ২০২৩ সালেই তিনি এটি শুরু করেন। ব্লু বাটারফ্লাই থেকে ২০২৪ সালে এসেছিল ‘দো পাত্তি’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছিলেন কাজল। দো পাত্তি সমালোচকদের প্রশংসাও পেয়েছে।
তাহলে কৃতির সম্পত্তির পাশাপাশি তার জীবনযাপনও বিলাসবহুল হওয়ার কথা। মানিকন্ট্রোলের দেয়া তথ্যানুসারে, কৃতি সম্প্রতি বান্দ্রায় একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে উঠেছেন। এর জন্য তাকে ১৭ লাখ রুপি ভাড়া গুনতে হয়। প্রতি বছর সেজন্য খরচ হয় ২ কোটি রুপি। এ বিল্ডিংয়ে বাস করেন কেএল রাহুল ও জাভেদ জাফরী।
জিকিউর দেয়া তথ্যানুসারে, ২০২৪ সালে কৃতি আলীবাগে দুই হাজার বর্গফুটের একটি প্লট কিনেছেন। এ জমির দাম প্রায় ২ কোটি রুপি। একটি বিলাসবহুল প্রজেক্টের অধীনে পড়ে প্লটটি। একই জায়গায় কিছুদিন আগে অমিতাভ বচ্চনও ১০ হাজার বর্গফুট জায়গা কিনেছিলেন।
সবকিছু মিলিয়ে কৃতি শ্যাননের দিনকাল ভালো কাটছে, তা বলাই বাহুল্য। ব্যবসার বাইরে তিনি সিনেমায়ও মনোযোগী। তার হাতে আছে ১২টি সিনেমা। দুটি এ বছর মুক্তি পাওয়ার কথা।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










