চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক। নির্মাতা জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘জ্বি হুজুর’ চলচ্চিত্রের অভিনয়ের মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। এরপর একই নির্মাতার ‘পোড়া মন’ ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন। ধীরে ধীরে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন এ নায়ক। বর্তমানে তার ঝুলিতে আছে হাফ ডজনেরও বেশি সিনেমা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সরকার পতনের পর এখনো নতুন কোনো সিনেমা নির্মাণের খোঁজ  না থাকায় দেশের সিনেমা অঙ্গনে নেমে এসেছে বিপর্যয়। সিনেমা সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের কাজ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে এমনই  এক অভিনয়শিল্পী চিত্রনায়ক সায়মন।

সায়মন বর্তমানে তার পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রায় দুই মাস শুটিং করতে পারিনি। দেশের যে অবস্থা, তাতে বোঝার উপায় নেই কবে শুটিং শুরু হবে। বলতে গেলে, আমি বিপাকে আছি। কারণ আমার তো অন্য কোনো পেশা নেই। সিনেমা দিয়েই চলতে হয়। শুটিং বন্ধ থাকলে জীবন চলবে কী করে?’

জমে থাকা সিনেমার শুটিং নিয়ে সায়মন বলেন, ‘হাতে বেশ কয়েকটি সিনেমা আছে। দু-তিনটি সিনেমার শুটিং মাঝপথে। এছাড়া গত মাসে দুটি সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দেশের পরিস্থিতির কারণে সেগুলো হলো না। প্রযোজকদের ফোন দিলে পাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে বাজে অবস্থা।’

এফডিসিতে শুটিং নেই, সিনেমা হল বন্ধ। এ পরিস্থিতি নিয়ে সায়মন বলেন, ‘সবাই কাজ করছিল, এখনো করছি। আমি সব সময়ই বলি, আমার একমাত্র পেশা অভিনয়। শিল্পী হিসেবেই আমার পরিচিতি। এমনিতেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রি সারা বছর টানাপড়েন অবস্থার মধ্যে চলে। তার মধ্যে অনেক দিন শুটিং নেই। যাদের ব্যাংক ব্যালেন্স নেই, এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পর তাদের বাসা ভাড়া দেয়াই মুশকিল হয়ে যাবে। ইন্ডাস্ট্রিতে হাজার হাজার শিল্পী-কলাকুশলী আছেন, যারা অন্য পেশার সঙ্গে জড়াননি, তাদেরও একই অবস্থা। সামনে কবে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেটারও নিশ্চয়তা নেই। যা হবার হয়েছে। এখন স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার। বর্তমানে রাস্তা বন্ধ করে মানুষকে কষ্ট দিয়ে অহেতুক কিছু দাবি করা হচ্ছে। আমি এটার সঙ্গে একমত নই। দরকার হলে তারা লিখিত আকারে দাবি উত্থাপন করুক। যাতে মানুষের দুর্ভোগ না হয়। আন্দোলন থেকে বের হয়ে এসে কাজের পরিবেশ ফিরে আসুক- এটাই চাই।’