বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত আন্দোলনের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ডস্টার মাকসুদুল হক। দেশের ব্যান্ড সংগীত চর্চার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে তিনি। ১৯৭৮ সালে পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন মাকসুদ। এ জীবনের ৪৫ বছর তিনি পূর্ণ করেছেন। এ উপলক্ষে আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মাকসুদ-৪৫ ইয়ার্স ইন মিউজিক কনসার্ট’। রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের আয়োজনে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কনসার্টটি। এ আয়োজনে আরো থাকছে ব্যান্ডদল মাইলস, ফিডব্যাক, দলছুট ও পেন্টাগন। মাকসুদ-৪৫ ইয়ার্স ইন মিউজিক কনসার্ট-এর প্রধান উদ্যোক্তা এবং ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী। 

এ আয়োজন নিয়ে জীবনের ব্যান্ড তারকা মাকসুদ বলেন, ‘একজন শিল্পীর জীবনে তার কর্মজীবনের ৪৫ বছর খুব সহজে আসে না। কিন্তু আমার জীবনে এসেছে। ৭৮ সালে আমি ফিডব্যাকে যোগ দিয়েছিলাম। সে হিসেবে এ বছর আমার ৪৫ বছর হয়েছে। ডা. আশীষের সঙ্গে আমার পরিচয় তিন দশকেরও বেশি। তার কাছে আমার গানের ক্যারিয়ার নিয়ে এমন একটি আয়োজনের ইচ্ছেটা প্রকাশ করেছিলাম। আশীষ একজন সংগীতপ্রিয়, সংগীত পাগল ডাক্তার। তাকে বলার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি লুফে নিয়ে এ কনসার্টের দায়িত্ব নিল আশীষ এবং তার ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ। আমার বিশ্বাস সংগীতে আমার পথচলাকে ঘিরে এ আয়োজন বেশ সফলতার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে।’

কনসার্ট নিয়ে ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘‌বাংলা গানে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে এবং বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে মুক্তি পেতে এ কনসার্ট অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি। একজন সংগীতশিল্পীর জীবনে ৪৫ বছর একটি বড় সময়, আমরা এ গুণী শিল্পীর বর্ণাঢ্য জীবনকে আলোকিত করতে চাই। ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা এবং শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা থেকেই এ ব্যতিক্রমী আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাকসুদুল হককে সম্মাননা প্রদান করব আমরা।’

বাংলা গানের বড় একটি অংশজুড়েই আছে ব্যান্ড। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে ব্যান্ড ছিল তুমুল জনপ্রিয়। তরুণ শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায় ছিল বাংলা ব্যান্ড আর পছন্দের তারকাদের একজন ছিলেন মাকসুদ। বর্তমান সময়েও তার গানের কদর আলাদা। মাকসুদ তার সংগীতজীবনের শুরু থেকেই সেরা গান উপহার দিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘মেলায় যাই রে’, ‘মৌসুমী-কারে ভালোবাসো তুমি’, ‘তোমার ওই নিটোল অধরে যে হাসি আমি দেখেছি’, ‘তোমাকে দেখলেই একবার মরিতে পারি শতবার’, ‘বাংলাদেশ’, ‘মনে পড়ে তোমায়’, ‘টেলিফোনে ফিসফিস’, ‘এমনই করে সবাই যাবে যেতে হবে’ ইত্যাদি।