বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনে শিল্পকলা একাডেমি নিয়মিত নতুন নতুন আয়োজন করে। এবার প্রতিষ্ঠানটি আয়োজন করছে যাত্রা উৎসবের। আজ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ মাসব্যাপী চলবে এ উৎসব। ‘ত্রয়োদশ যাত্রা নিবন্ধন উৎসব–২০২৫’ আয়োজন করছে একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ। আজ থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে যাত্রাপালা। এছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৫টায় জাতীয় নাট্যশালার উন্মুক্ত প্রান্তরে অনুষ্ঠিত হবে দেশাত্মবোধক যাত্রাগানের কনসার্ট।
এ শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যকে নবজাগরণের পথে ফিরিয়ে আনতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় যাত্রা শিল্পের উন্নয়ন নীতিমালা ২০১২ প্রণয়ন করে। এ নীতিমালার আওতায় যাত্রাদলের নিবন্ধন, পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়, তা যাত্রা শিল্পকে ফিরিয়ে দেয় তার সুসংহত কাঠামো, নন্দনশৃঙ্খলা ও পেশাগত সম্মান।
এবার মাসব্যাপী উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একত্র হয়েছেন ৩১টি যাত্রাদলের শিল্পী। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে সূর্যতরুণ নাট্য সংস্থা, প্রত্যয় বাংলাদেশ যাত্রাদল, বনফুল অপেরা, বঙ্গশ্রী অপেরা, পুরবী যাত্রা ইউনিট, গীতাঞ্জলি অপেরাসহ আরো অনেক দল।
এটি হতে চলেছে বাংলার লোকনাট্যের এক বিরল মহামিলনমেলা। এখানে একই মঞ্চে মিলবে বিভিন্ন অঞ্চলের কণ্ঠ, সুর, কাহিনী, সাজসজ্জা, অভিনয় ও মঞ্চরীতির অনন্য বহুমাত্রিকতা। প্রতিটি দলের পরিবেশনায় ফুটে উঠবে শিল্পীদের সৃজনশীলতা, আবেগ ও লোকজ নন্দনে নিবিড় বিশ্বাস।
ত্রয়োদশ যাত্রা নিবন্ধন উৎসব ২০২৫ শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি মূলত শেকড়ে ফিরে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণাদায়ী আহ্বান। আয়োজনটি লোকজ নাট্যধারার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর ঐতিহ্য তুলে দেয়ার দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এ উৎসবের মাধ্যমে যাত্রা শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে, শিল্পীদের সৃষ্টিশীলতাকে এগিয়ে নিতে ও দর্শকের মনে যাত্রার সেই চিরন্তন মুগ্ধতা নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চায়। আলো, সুর ও অভিনয়ের আবেগে ডিসেম্বর হয়ে উঠতে যাচ্ছে বাংলার যাত্রাশিল্পের নবজাগরণের উৎসবমুখর প্রাঙ্গণ।










