বাংলা সিনেমার সোনালি দিনের নায়ক ফারুক। সোমবার সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়। সত্তরের দশকে সিনেমাঙ্গনে এসে তিনি বাংলাদেশের সিনেমায় নিজের স্থান তৈরি করে নিয়েছিলেন নিজস্ব অভিনয় দক্ষতা ও স্বকীয়তা দিয়ে। একাধিক দর্শকপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেতা। অনেক অভিনেত্রীর সঙ্গেও জুটি হয়ে কাজ করেছিলেন তিনি, যা সে সময় দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিল। আজও দর্শক ফারুক-ববিতা জুটির কথা মনে রেখেছে। এ জুটির সুপার হিট সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘‌নয়ন মণি’ ও ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ অন্যতম। সিনেমার সূত্র ধরেই ফারুক ও ববিতার মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে কথা স্মরণ করে ববিতা বলেন, ‘‌আমরা একসঙ্গে অনেক সিনেমায় কাজ করেছি। অভিনয় করতে গিয়ে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।’ 

বর্তমানে একমাত্র ছেলে অনিকের সঙ্গে কানাডায় অবস্থান করছেন ববিতা। সেখান থেকেই মিয়া ভাইখ্যাত নায়ক ফারুককে নিয়ে তিনি বলেন, ‘ফারুক ভাইয়ের মৃত্যুতে ভীষণ কষ্ট পেয়েছি, এটা আসলে ভাষায় প্রকাশের মতো নয়। তিনি চলে গেলেন। কিন্তু এমন একটি দিনে তিনি গেছেন, যে দিনটিতে আমি কানাডায় ছেলের কাছে যাওয়ার জন্য রওনা হই। অনেকদিন আগেই টিকিট কনফার্ম করে রাখি। এ কারণে যেদিন আমার ফ্লাইট, সেদিন টিকিট বাতিলও করতে পারিনি। ফ্লাইটে থাকাকালীন পুরোটা সময়ই ফারুক ভাইয়ের কথা ভীষণ মনে পড়েছে। কত সিনেমায় আমরা একসঙ্গে অভিনয় করেছি। কত জায়গায় গিয়েছি। সবই চোখের সামনে ভাসছিল। মনে হচ্ছিল, এ তো সেদিনের কথা। অথচ জীবন আজ শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। ফারুক ভাই চলে গেলেন, রেখে গেলেন হাজারো স্মৃতি, অগণিত ভক্ত আর মানুষের ভালোবাসা। দোয়া করি, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন।’ 

ববিতা জানান, কয়েক মাস পর দেশে ফিরে তিনি ফারুকের কবরস্থান কালীগঞ্জে যাবেন। প্রিয় সহকর্মীর কবরের পাশে থেকে দোয়া করবেন। ফারুক চলচ্চিত্রে এসেছিলেন ১৯৭১ সালে। এইচ আকবর পরিচালিত ‘‌জলছবি’তে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন কবরী। ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমানের পরিচালনায় তিনি অভিনয় করেন ‘‌আবার তোরা মানুষ হ’ সিনেমায়। এরপর নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘‌আলোর মিছিল’ সিনেমায় ববিতার বিপরীতে দেখা যায় তাকে। অন্যদিকে শিশুশিল্পী হিসেবে সিনেমায় অভিষেক হয় ববিতার। প্রায় সাড়ে ৩০০ সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী। সর্বশেষ ববিতাকে নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা যায়।