ভিক্টর ব্যানার্জির কাছে তার বাঙালি পরিচয় অন্য সবকিছুর তুলনায় বড়। পরিচয়টাকে ছড়িয়ে দিতেও তিনি সর্বদা সচেষ্ট। এর অংশ হিসেবেই তার সর্বশেষ কাজ ‘থিংকিং অব হিম’
প্রমোট করছেন ভিক্টর ব্যানার্জি। সিনেমাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সম্পর্ক নিয়ে নির্মিত। ইন্দো-আর্জেন্টাইন এ সিনেমার পরিচালক পাবলো সিজার।
গীতাঞ্জলি অনূদিত হয়ে পৃথিবীর কোণে কোণে পৌঁছলে রবীন্দ্রনাথ বাস্তবিকই বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠেন। সে সময় লাতিন আমেরিকার বুদ্ধিজীবী মহলে রবীন্দ্র সাহিত্যের প্রভাব পড়ে। ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো ছিলেন তার অন্যতম ভক্ত। ১৯২০ সালে খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তাদের দেখা হলেও একাধিক চিঠি ও উপহারের মধ্য দিয়ে তাদের সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছিল। দুজনের সম্পর্ক ছিল প্লেটোনিক। ভিক্টর ব্যানার্জি বলেন, ‘সম্পর্কটা পবিত্র। রবীন্দ্রনাথকে যে গুরুদেব বলা হয় সেটা শুরু করেছিলেন ওকাম্পো। রবীন্দ্রনাথকে তিনি গুরু মনে করতেন এবং তার কাছ থেকে বেদান্ত, উপনিষদ শেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।’
ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো তার মানসিক টানাপড়েনের সময় ঈশ্বরকে খুঁজছিলেন। এ সময় রবীন্দ্রনাথের কাব্য অনূদিত হয়ে তার কাছে পৌঁছে। ভিক্টোরিয়ার ধারণাও ছিল না, কবির সঙ্গে তার কখনো দেখা হবে। কিন্তু বুয়েনস এইরেসে রবীন্দ্রনাথ এলেন। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ভিক্টোরিয়া তার মিরালরিয়োর বাড়িতে কবিকে আমন্ত্রণ করেন। এ বাস্তবের নিরিখেই সিনেমাটি তৈরি; কল্পনার আশ্রয় নেয়া হয়নি।
সিনেমার জন্য ভিক্টর ব্যানার্জি সে সময়ের খবরের কাগজ থেকে শুরু করে নানা সূত্র নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওকাম্পোর বাস্তব জীবন আমার কাছে রবীন্দ্রনাথের মতোই আগ্রহোদ্দীপক। তিনি একটি সাহিত্য সাময়িকী চালাতেন। রবীন্দ্রনাথকে তিনি সত্যিই ভক্তি করতেন। সেখানে কোনো খাদ ছিল না। রবীন্দ্রনাথের পায়ের কাছে বসার ব্যপারটিও তাই গুরুর প্রতি সম্মান থেকেই এসেছে।’
কিন্তু রবীন্দ্রনাথ এভাবে পূজিত হওয়ার ব্যাপারে অভ্যস্ত ছিলেন না। ভিক্টরের ভাষায়, ‘সামাজিকতা রক্ষা করে একটু লাজুক হাসির বাইরে তার (ওকাম্পোর) ব্যবহারের জবাব দেয়ার মতো কিছু রবীন্দ্রনাথের কাছে ছিল না। ওকাম্পোই নারী-পুরুষ সম্পর্কের বিষয়টা তার কাছে সহজ করে তোলেন। ওকাম্পো রবীন্দ্রনাথের বিপরীত মেরুর মানুষ ছিলেন। সিনেমায় বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে এসেছে।’
‘থিংকিং অব হিম’
সিনেমার গল্পটি ১৯২৪ থেকে শুরু হয়ে ১৯৪১ সালে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু পর্যন্ত সময়কে ধারণ করে। ভিক্টর ব্যানার্জি ওকাম্পো-রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কটি গভীরভাবে বুঝতে চাইতেন। রবীন্দ্রনাথের ওপর নির্মিত এটিই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ফিচার ফিল্ম হতে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের জীবনীভিত্তিক সিনেমা কেন হয় না, এ প্রশ্ন করলে ভিক্টর ব্যানার্জি বলেন, ‘কেননা আমরা তাদের দেবতার আসনে বসাতে এবং পূজা করতে অভ্যস্ত। বিখ্যাত ব্যক্তিদের সমালোচনা করা বা তাদের দুর্বলতা নিয়ে কথা বলতে ভয় পাই। দর্শকরা তাদের বিশ্বাসের বাইরে কোনো কিছু দেখার বিষয়ে অসহিষ্ণু।’
এ সময়ে এসে রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক হওয়া সত্ত্বেও বৈশ্বিকভাবে স্বল্প আলোচিত। এর কারণ হিসেবে ভিক্টর মনে করেন, জনপ্রিয় ধারায় রবীন্দ্রনাথকে উপস্থাপন করা হয়নি। ‘থিংকিং অব হিম’
রবীন্দ্রনাথের গভীরতা ধরে রেখেই সে কাজটি করতে চায়।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










