করোনার সব বিষণ্নতা পেছনে ফেলে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে তারকা ও অতিথিদের সরাসরি উপস্থিতিতে গতকাল বসেছিল ৯৪তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের আসর। এবার উপস্থাপনা করেছেন অ্যামি শুমার, রেজিনা হল ও ওয়ান্ডা সাইকস।
বেশকিছু চমক রেখেছে ৯৪তম অস্কার। প্রায় তিন-চার মাসের নানা জল্পনা-কল্পনা ও হিসাবনিকাশ বদলে দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তনও এসেছে। যেমন স্ট্রিমিং সাইটে মুক্তি পাওয়া কোডা এবার সেরা সিনেমা হিসেবে পুরস্কৃত হলো। অ্যাপল অরিজিনাল হিসেবে অ্যাপল টিভি প্লাসে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি নেটফ্লিক্সকে এ দৌড়ে পেছনে ফেলে দিল। কেবল সেরা সিনেমাই নয়, মোট তিনটি বিভাগে অস্কার জিতেছে কোডা। এর আগে সানডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও সেরা সিনেমা হয়েছিল এটি।
সেরা সিনেমার পাশাপাশি সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্যের পুরস্কার পেয়েছে কোডা। সেই সঙ্গে ইতিহাসে দ্বিতীয় বধির অভিনেতা হিসেবে অস্কার জিতলেন ট্রয় কটসর। কটসরের ৩৫ বছর আগে বধির অভিনেত্রী মারলি মার্টিন অস্কার জিতেছিলেন। সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে ট্রয় পুরস্কার পাবেন এ কথা অনেকেই বলেছিল। পুরস্কার পেয়ে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে তিনি বলেন, ‘আমি সেসব বধির-বান্ধব থিয়েটার স্টেজকে ধন্যবাদ দিতে চাই, যাদের সহযোগিতা আমাকে আমার শিল্প উন্নত করতে সাহায্য করেছে।’
কোডা তাদের অস্কার প্রচারণার জন্য প্রায় ১ কোটি ডলার খরচ করেছে। অংকটা সিনেমার প্রি-প্রডাকশন খরচের প্রায় সমান। তবে বধিরদের নিয়ে তৈরি সিনেমাটি নিয়ে সবাই উচ্ছ্বসিত। কোডা পুরস্কৃত হওয়ার পর একটি ব্যাকস্টেজ ইন্টারভিউতে পরিচালক শন হেইডার বলেন, ‘এটি বধিরদের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত। এটি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের জন্য একটি বড় মুহূর্ত।’
কোডার সাফল্য নিয়ে অনেকেই আশাবাদী ছিলেন। তবে বেলফাস্ট কিংবা দ্য পাওয়ার অব দ্য ডগের অস্কার না পাওয়া বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। ক্যাম্পিয়নের সিনেমাটি ১২টি বিভাগে মনোনয়ন পায়, যা আর কোনো সিনেমা পায়নি। কিন্তু সেরা পরিচালক হিসেবে জেন ক্যাম্পিয়নের একটি পুরস্কার বাদে সিনেমাটি কোনো পুরস্কার পায়নি। তবে সেখানেও নারী পরিচালক হিসেবে দুবার অস্কার জিতে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন ক্যাম্পিয়ন। অন্যদিকে অ্যাডাম ম্যাকাইয়ের ডোন্ট লুক আপ, পল থমাস অ্যান্ডারসনের বাফটা-জয়ী লিকোরিস পিজ্জাকে টপকে সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য জিতেছে আটবারের অস্কার-নমিনি কেনেথ ব্রানার বেলফাস্ট।
বিদেশী ভাষার সেরা সিনেমা হিসেবে রায়ুসুকে হামাগুচির ড্রাইভ মাই কার চমক দিয়েছে। যদিও সিনেমাটি অস্কার জিতবে বলেই ধারণা করা হয়েছিল। তবে এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাপানি সিনেমা নতুন করে পরিচিত হলো। অন্যদিকে অ্যানিমেটেড ড্যানিশ ফিল্ম ফ্লি তিনটি ক্যাটাগরিতে (ডকুমেন্টরি ফিচার, অ্যানিমেটেড ফিচার, ইন্টারন্যাশনাল ফিচার) মনোনীত হয়েও কোনো পুরস্কার পায়নি।
গানের ক্ষেত্রে নো টাইম টু ডাইয়ের জন্য বিলি আইলিশের অস্কার পাওয়া চমক ছিল। ওয়েস্ট সাইড স্টোরির জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে আরিয়ানা ডিবোসও নতুন রেকর্ড করলেন।
তবে ৯৪তম অস্কারের স্পটলাইট কেড়ে নিয়েছে মূলত ডুন। দেনি ভিলেনোভের সিনেমাটি মোট ছয়টি বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে। মুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত ওয়ার্নার ব্রোসের সিনেমাটি সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে বহুদূর এগিয়ে গেল।
ভালো-মন্দ মিলিয়ে মহামারী-পরবর্তী এ আসর এক রকম ভালোই হলো বলা যেত। কিন্তু প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো দুটো ঘটনা রয়েই যায়। এ আসরে সেরা অভিনেতার পুরস্কারজয়ী উইল স্মিথের ঘটনাটির পাশাপাশি আরেকটি বিষয় বিস্ময় জাগায়। অস্কারের অনুষ্ঠানে সাধারণত বিশ্বের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণ করে সম্মান জানানো হয়। কিন্তু গত বছর প্রয়াত দিলীপ কুমার এবং এ বছর প্রয়াত লতা মঙ্গেশকরকে ৯৪তম অস্কার স্মরণ করেনি। দিলীপ কুমার ও লতা মঙ্গেশকর উভয়েই সারা বিশ্বে পরিচিত। অস্কারের মঞ্চে তাদের সম্মান না জানানোর বিষয়টিকে অনেকেই ঔপনিবেশিক উন্নাসিকতা মনে করছেন।
৯৪তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বিজয়ী
সেরা সিনেমা: কোডা
সেরা অভিনেত্রী: জেসিকা চ্যাস্টেন (দি আইজ অব ট্যামি ফায়ে)
সেরা অভিনেতা: উইল স্মিথ (কিং রিচার্ড)
সেরা পরিচালক: জেন ক্যাম্পিয়ন (দ্য পাওয়ার অব দ্য ডগ)
সেরা মৌলিক গান: নো টাইম টু ডাই (সংগীত ও কথা: বিলি আইলিশ ও ফিনিয়াস ও’কনেল)
সেরা ডকুমেন্টরি ফিচার: সামার অব সোউল
সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্য: কোডা (সিয়া হেডার)
সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য: বেলফাস্ট (কেনেথ ব্রানা)
সেরা কস্টিউম ডিজাইন: জেনি বিভান (ক্রুয়েলা)
বিদেশী ভাষার সেরা সিনেমা: ড্রাইভ মাই কার (জাপান)
সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: আরিয়ানা ডিবোস (ওয়েস্ট সাইড স্টোরি)
সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: ট্রয় কটসর (কোডা)
সেরা অ্যানিমেটেড ফিল্ম: এনকান্টো
সেরা প্রডাকশন ডিজাইন: ডুন
সেরা মৌলিক স্কোর: হ্যানস জিমার (ডুন)
সেরা সিনেমাটোগ্রাফি: গ্রেগ ফ্রেজার (ডুন)
সেরা ভিজ্যুয়াল এফেক্টস: ডুন (পল ল্যাম্বার্ট, ট্রিস্টান মাইলস, ব্রায়ান কনোর, জার্ড নেজার)
সেরা সম্পাদনা: জো ওয়াকার (ডুন)
সেরা শব্দ: ডুন
সেরা লাইভ অ্যাকশন শর্ট: দ্য লং গুডবাই
সেরা অ্যানিমেটেড শর্ট: দ্য উইন্ডশিল্ড পাইপার
সেরা ডকু শর্ট: দ্য কুইন অব বাস্কেটবল










