টলিউড, বলিউড পেরিয়ে দক্ষিণী সিনেমায়ও অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ১১টি ভাষায় ৩০০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ সিনেমায় তিনি ভিলেন। আর পর্দায় খল চরিত্রে অভিনয় করেই বাজিমাত করেছেন। তথাকথিত তারকাখ্যাতি না পেলেও স্বীয় অভিনয় গুণে জয় করেছেন দর্শক হৃদয়। তার নাম হয়তো অনেকেই জানেন না। তবে চেহারা দেখে চিনতে এতটুকু দেরি হয় না। পর্দায় তার সামান্যতম উপস্থিতিও দর্শক মনে ছড়িয়ে দেয় মুগ্ধতার রেশ। তিনি আশীষ বিদ্যার্থী।
অভিনয়টা তার সহজাত। এর সঙ্গে যুক্ত হলো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তবে ক্যারিয়ারের শুরুটা তেমন মসৃণ ছিল না ১৯৬২ সালের ১৯ জুন দিল্লিতে জন্ম নেয়া এ অভিনেতার। যোগ্যতা ছিল, কিন্তু যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছিলেন না। অকিঞ্চিৎকর, গৌণ সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন দীর্ঘ সময়। একটানা কখনো কোনো কাজ থাকত না। সেসব কর্মহীন দিনে বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে কাজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করত। তিনি কোনো উত্তর দিতে পারতেন না। সে সময়ের স্মৃতিaচারণ করে তিনি বলেন, ‘ল্যান্ডফোনের সে যুগে তারা আমাকে কল দিয়ে শুটিং বাতিল হয়েছে কিনা জানতে চাইত।’ হতাশ হওয়ার এমন নানাবিধ কারণ চতুর্দিকে ছড়িয়ে থাকলেও ক্যারিয়ার নির্মাণের পথে কখনই সেগুলোকে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেননি তিনি।
সেসব দিন বহু আগেই পেছনে ফেলে এসেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা আশীষ বিদ্যার্থী। ওটিটির এ সময়ে তাকে ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিরিজ যেন ভাবাই যায় না। হোক সেটি নেটফ্লিক্সের ‘ট্রায়াল বাই ফায়ার’ কিংবা আসন্ন ‘রানা নাইডু’। ৫৭ বছর বয়সে এসেও যেন চিরসবুজ এ অভিনেতা।
অভিনয়ের বাইরে বিকল্প একটি ক্যারিয়ার আছে আশীষ বিদ্যার্থীর। তিনি একজন মোটিভেশনাল স্পিকার। নিজের জীবনের দামে তৈরি করা সত্য গল্পগুলো তিনি ভাগ করে নেন শ্রোতাদের সঙ্গে। আছে গভীর দর্শন, নির্বাণ লাভ যেখানে উদ্দেশ্য। অভাব ও চাহিদা নিয়ে তার নিজস্ব বোঝাপড়া আছে। অল্পে তুষ্ট থাকেন। হ্যান্ডব্রেক যুক্ত ১৭ বছরের পুরনো টয়োটা ক্যামরি গাড়িতে এখনো স্বচ্ছন্দ তিনি। মাসের ২০ দিন ঘুরে বেড়ান। নতুন শ্রোতাদের সঙ্গে দেখা করেন। বিভিন্ন জায়গায় কর্মশালা করেন। গল্প বলেন। সঙ্গে থাকে নিজের ক্যামেরা। আর থাকে বই। কাজের ফাঁকে চোখ বুলান বইয়ের পাতায়। এভাবেই নিজের কাজ ও জীবন দিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের সংযুক্ত রাখেন আশীষ বিদ্যার্থী। দেন অপার বিনোদন।
সূত্র: ওপেন ম্যাগাজিন









