প্রতিবাদের একটা অন্যতম ভাষা কার্টুন। ব্যঙ্গচিত্র আঁকা হচ্ছে সারা বিশ্বে বহু বছর ধরে। তবে নানা কারণে এ দেশে গত বছরগুলোয় ব্যঙ্গচিত্র সেভাবে আঁকা হয়নি। একসময় দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতায় থাকত রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিষয়ের কার্টুন। তা হারিয়ে গিয়েছিল। অন্যতম কারণ ছিল স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা। তারা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট তৈরি করে জেল দিয়েছিল কার্টুনিস্টদেরও। ভয়ের সে শাসনের পতন ঘটেছে। আর সে জায়গা থেকে কার্টুন নিয়ে এবার শুরু হলো বিশেষ প্রদর্শনী  'কার্টুনে বিদ্রোহ'।

সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দেখা গিয়েছিল অভূতপূর্ব এক দৃশ্য। যতই ভয় চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, তা জয় করে জনতা হয়ে উঠছিল ততই দুর্দম। আর ভয়কে জয় করলে, মত প্রকাশে অসংকোচ হয়ে উঠলে কার্টুন কেমন জ্বলে উঠতে পারে, এবার দেখেছে সবাই। কার্টুন, গ্রাফিতি, ক্যারিকেচার কিছুই বাদ ছিল না। 

প্রথম আর্টওয়ার্ক এসেছে কার্টুনিস্টদের কাছ থেকেই। প্রথিতযশরা তো এঁকেছেনই, প্রাণ খুলে তাতে যোগ দিয়েছেন নবীনরা। কেউ প্রকাশ করেছেন ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়ায়, কেউ এঁকেছেন সংবাদমাধ্যমের পাতায়। কেউ নামে এঁকেছেন, কেউ বেনামে এঁকেছেন, অসংখ্য মানুষের শেয়ারে তা ছড়িয়ে গেছে অন্তর্জালে। সেই কার্টুন, ক্যারিকেচার নিয়েই আয়োজনটি করেছে বাংলাদেশ কার্টুনিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, দৃক ও ইআরকি।

আজ উদ্বোধন হলো প্রদর্শনীর। উপস্থিত ছিলেন কার্টুনিস্ট ও উন্মাদ পত্রিকার সম্পাদক আহসান হাবিব, দৃকের শহিদুল হাসান, কার্টুনিস্ট মেহেদী হক, ইআরকির শিমু নাসের ও অন্যরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। আয়োজন নিয়ে শিমু নাসের বলেন, ‘একটা সময় কার্টুনের মাধ্যমে বার্তা দেয়া হতো, প্রতিবাদ করা হতো। স্যাটায়ার ছিল আগেই। নতুন এসেছিল মিম। কিন্তু এ আন্দোলনের সময় দেখা গেল, আমাদের পুরনো ধারার কার্টুন আবার ফিরে এসেছে। সরাসরি প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।’ আহসান হাবিব বলেন, ‘কার্টুনের মধ্যে স্যাটায়ার, আয়রনি, হিউমার সবটাই আমি খুঁজে পেয়েছি। হিউমার খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভুল হতে পারে। তবে আমাদের তরুণ কার্টুনিস্টরা সে ভুলগুলো করেনি।’ ছাত্র আন্দোলন থেকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করেন উমামা ফাতেমা। সেই সঙ্গে তিনি শহিদুল হাসান, মেহেদী হকসহ সব কার্টুনিস্টকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য। সাহস দেয়ার জন্য।’

শুধু ডিজিটাল মাধ্যমেই নয়, শহরের দেয়ালে দেয়ালে তারুণ্যের ঝংকার তুলে ছড়িয়ে গেছে গ্রাফিতি। তার কিছু উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, আর রয়ে গেছে পথচলতি মানুষের স্মৃতির মণিকোঠায়।

এ অমূল্য সৃষ্টিকর্মগুলোকে একসঙ্গে করেই আমাদের এ প্রদর্শনী। সব তুলে আনা অবশ্যই এ পরিসরে সম্ভব নয়। তবে যতটুকু আছে, আবার আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ছাত্র আন্দোলনের এ জ্বলজ্বলে সময়টায়।