বিদ্যা বালানের প্রিয় পরিচালক সত্যজিৎ রায়। প্রথম কৈশোরে তাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন বিদ্যা। কিন্তু কৈশোরের স্বাভাবিক শঙ্কা থেকে চিঠিটি পোস্ট করেননি। হয়তো ভেবেছিলেন অজ্ঞাত কিশোরী ভক্তের চিঠি পড়ার সময় ব্যস্ত সত্যজিতের হবে না। সেদিনের পর বহু বছর কেটে গিয়েছে। বিদ্যা বালান এখন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। স্টারডমের পাশাপাশি অভিনয় গুণের জন্য প্রশংসিত। কিন্তু এখনো তিনি ছেলেবেলার সে স্মৃতি স্মরণ করেন। বিদ্যা বলেন, “আজও তাকে চিঠি লিখলে সেখানে বলতাম ‘আপনি দীর্ঘায়ু হোন’। সত্যি বলতে, আমি আজও তার সঙ্গে কাজ করার স্বপ্ন দেখি।’’
সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যুর এক দশক পর বিদ্যার অভিনয় জীবন শুরু । তবে তা হয়েছিল একটি বাংলা সিনেমা দিয়ে। ২০০৩ সালে গৌতম হালদারের ‘ভালো থেকো’
দিয়ে বিদ্যার অভিষেক। তার প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘পরিণীতা’
শরত্চন্দ্রের গল্প থেকে তৈরি। এমনকি বিদ্যাকে বহু লোকে বাঙালিই মনে করে। বাঙালি সংস্কৃতি ও সিনেমার প্রতি বিদ্যার ভালোবাসা রয়েছে এবং এর পেছনে সত্যজিৎ রায়ের প্রভাব অনেক। বিদ্যা বলেন, ‘সবার কাছে পথের পাঁচালি ও চারুলতা তার সেরা সিনেমা কিন্তু মহানগর আমার প্রিয়। সিনেমাটি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।’
ইন্দো এশিয়ান নিউজ এজেন্সির সঙ্গে কথোপকথনে তিনি আরো জানান, অনেকে বলে বিদ্যার সাইড প্রোফাইল মাধবী মুখার্জির সঙ্গে মিলে যায়। চারুলতার নায়িকার সঙ্গে এ মিলের কথায় বিদ্যা বেশ খুশিও হন। এসব কথার মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের প্রসঙ্গ আবার উঠে আসে। বিদ্যা বলেন, ‘আমার সংগ্রহে সত্যজিতের মহানগর ও অন্যান্য সিনেমার পোস্টার আছে। একটা ক্যানভাস আছে তার সিনেমার চরিত্রদের নিয়ে আঁকা। আমার ঘর ভর্তি সত্যজিৎ রায়ের কাজ সম্পর্কিত নানা জিনিসে। আসলে বলা যায় আমার ঘরটাই সত্যজিত্ময়।’
একালে চারুলতা কিংবা মহানগর নির্মাণ করা হলে সত্যজিৎ রায়ও হয়তো বিদ্যা বালানকেই বেছে নিতেন। কেননা এ সময়ে এসে চারু বা আরতি (মহানগর) চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিদ্যার চেয়ে যোগ্য অভিনেত্রী দুর্লভ। বিদ্যা ক্রমেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি অ্যামাজনের প্রাইম ভিডিওতে শেফালি শাহ ও বিদ্যা বালান অভিনীত ‘জলসা’
মুক্তি পেয়েছে। বিদ্যা এ সিনেমায় মায়া মেনন নামে এক উচ্চাভিলাষী করপোরেট নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। গত বছর শেরনির পর এবার জলসায় অভিনয়ের জন্যও দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছেন বিদ্যা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া










