দুইবার অস্কারজয়ী ব্রিটিশ অভিনেত্রী গ্লেন্ডা জ্যাকসন আর নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) লন্ডনে মারা গেছেন তিনি। অভিনয় ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আইনপ্রণেতা হিসেবে ব্রিটিশ রাজনীতিতে অবদান রেখেছিলেন গ্লেন্ডা। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে এই অভিনেত্রীর যোগসূত্র রয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয় ‘কনসার্ট ইন সিমপ্যাথি’। ওই আয়োজনের কবিতা পাঠ করেছিলেন গ্লেন্ডা।

মৃত্যুর খবরটি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন অভিনেত্রীর সহকারী লিওনেল লার্নার। তিনি জানিয়েছেন, লন্ডনের বাড়িতে স্বল্প অসুস্থতার পর মারা যান গ্লেন্ডা।

সম্প্রতি ‘দ্য গ্রেট এস্কেপার’ ছবির শুটিং শেষ করেছিলেন তিনি। এতে সহ-অভিনেতা ছিলেন মাইকেল কেইন।

১৯৩৬ সালের ৯ মে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের বিরখেনহেডে জন্ম গ্লেন্ডা জ্যাকসনের। লন্ডনের রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ড্রামাটিক আর্ট থেকে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি। ষাট ও সত্তরের দশকের নামি ব্রিটিশ তারকাদের অন্যতম ছিলেন তিনি।

গ্লেন্ডা জ্যাকসন অল্প বিরতিতে দুটি অস্কার জিতেছিলেন। ১৯৭১ সালে ‘উইমেন ইন লাভ’ ও ১৯৭৪ সালে ‘আ টাচ অব ক্লাস’ ছবির জন্য এ পুরস্কার পান।

অভিনয়ের শীর্ষ সময়ে তিনি রাজনীতিতে আসেন। ১৯৯২ সালে সংসদ সদস্য হন। এরপর লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা হিসেবে ২৩ বছর অতিবাহিত করেন। ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের প্রথম সরকারে পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের জন্য ব্লেয়ারের সঙ্গে মতবিরোধে জড়ান গ্লেন্ডা জ্যাকসন।

২০১৫ সালে অভিনয়ে ফিরে আসেন গ্লেন্ডা। রেডিও, থিয়েটার, টিভি, সিনেমা সব মাধ্যমে কাজ করেন এ দফা। ভীষণ জনপ্রিয়তাও পান। ২০১৯ সালে ‘এলিজাবেথ ইজ মিসিং’ সিরিজের জন্য বাফটা পুরস্কার জেতেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ের টনি অ্যাওয়ার্ডস ও এমি অ্যাওয়ার্ডস লাভ করেন গ্লেন্ডা জ্যাকসন।