একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দিচ্ছেন দীপিকা পাড়ুকোন। শাহরুখ খানের জওয়ানে ক্যামিও চরিত্র করেও তিনি রেখেছেন নিজের ছাপ। ২০০৭ -এ শাহরুখ খানের হাত ধরেই বলিউডে যাত্রা করেছিলেন। দীপিকা এখন বলিউডের শীর্ষ নায়িকাদের মধ্যে অন্যতম। এমনকি বলিউডের অন্যতম ধনী অভিনেত্রীও বটে। তার সম্পদের মূল্য ৫০০ কোটি রুপির বেশি।
দীপিকা এ সময়ে এসে ১২-১৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন একটি সিনেমার জন্য। তবে কেবল অভিনয়ই নয়, নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত তিনি। সিনেমার বাইরে এসব কাজ থেকেও আয় করেন প্রচুর।
এর মধ্যে তিনি প্রধানত বেশকিছু সংস্থার পণ্যদূত হিসেবে চড়া পারিশ্রমিক নেন। এক্ষেত্রে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে এশিয়ান পেইন্টস, জিও, ডাবর, তনিস্ক ও অ্যাক্সিস ব্যাংক। এছাড়া ‘শঁপা’ ও ‘লিভাইস’-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থারও পণ্যদূত দীপিকা। ২০২২ সালে তিনি বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড লুই ভিঁতো, কাতার এয়ারওয়েজ, কার্টিয়ে জুয়েলারির আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন বাবদ দীপিকা ৭-১২ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।
একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে এসে দীপিকা পাড়ুকোনের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৬৬২ কোটি টাকারও বেশি। সম্পত্তির দিক থেকে হিসাব করলে ভারতের নারী তারকাদের মধ্যে দীপিকা প্রথম স্থানে। এর আগে একটি প্রতিবেদন বলেছিল ২০২০ সালে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩০০ কোটি রুপি। অর্থাৎ তিন বছরে সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২০০ কোটি রুপি।
২০১৬ সাল থেকে ভারতের সর্বোচ্চ করদাতাদের তালিকায় প্রথম ১০ জনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন দীপিকা। তালিকায় তিনিই একমাত্র নারী। ২০১৬ সালে তিনি ১০ কোটি রুপি আয়কর দিয়েছিলেন। এমনকি সে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন তিনি। দীপিকা এখনো ভারতের নারী তারকাদের মধ্যে সর্বোচ্চ আয়করদাতা।
দীপিকাকে নানা সময় তার সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। সাফল্যের রহস্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একজন অ্যাথলিটের মতো চিন্তাভাবনা করি। আমি খেলাধুলার পরিবেশে বড় হয়েছি। তাই সুশৃঙ্খলভাবেই জীবনযাপন করতে ভালোবাসি।’
অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের জন্যও সম্মানী নেন। দীপিকা তা নেন না। কোনো সিনেমায় অতিথি চরিত্রে অভিনয়ের জন্যও পারিশ্রমিক নেন না বলে জানা গেছে। সেগুলো সম্পর্ক ও পেশাদারিত্বের খাতিরেই করে থাকেন।
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যদূত হওয়ার পাশাপাশি নিজেরও একটি ব্র্যান্ড নিয়ে এসেছেন এবং তা দিয়ে বেশ সচেতন। তার ব্র্যান্ডের নাম ‘এইটি টু ই’। এছাড়া বোন আনিশা পাড়ুকোনের সঙ্গে ‘কে এ প্রডাকশনস’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও চালু করেছেন দীপিকা। ২০২০ সালে মেঘনা গুলজারের সিনেমা ‘ছাপাক’-এ দীপিকা সহপ্রযোজক ছিলেন। ২০২১ সালে দীপিকা কবীর খানের সিনেমা ‘এইটি থ্রি’ও সহপ্রযোজনা করেছিলেন।
দীপিকার সংস্থা ‘কে এ এন্টারপ্রাইজেস’-এ তার সঙ্গে সহপরিচালক পদে রয়েছেন তার বাবা সাবেক ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় প্রকাশ পাড়ুকোন। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেশকিছু ভারতীয় স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছেন দীপিকা। এতেও তিনি বেশ সফল হয়েছেন। বলা যায় সব মিলিয়ে এ সময়টা যেন দীপিকারই।
সূত্র: জিকিউ ম্যাগাজিন










