সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট থেকে নৌকায় বুড়িগঙ্গা পার হয়ে কেরাণীগঞ্জের রহমান সাহেবের ডকইয়ার্ড, এর পরই শুঁটকিতলার ঘাট। ডিঙি নৌকার ভিড়, মাঠে ছড়িয়ে থাকা শত বছরের পুরনো লোহার নোঙর আর জাহাজের অংশ—এ বৈচিত্র্যময় জায়গাটিই গতকাল শনিবার পরিণত হয় এক উন্মুক্ত শিল্পভূমিতে।

এদিন অনুষ্ঠিত হয় ‘পট চারুকলা একাডেমি’ আয়োজিত দ্বিতীয় আর্ট ক্যাম্প ‘রঙে রঙে সম্প্রীতি’। অংশ নেয় একাডেমির অর্ধশতাধিক খুদে আঁকিয়ে। তাদের তুলির টানে ক্যানভাসে ফুটে ওঠে নদীমাতৃক জীবনের রঙিন গল্প, নদীর পাড়ের ব্যস্ততা, মাঝিদের সংগ্রাম, অলস নৌকা, ডকইয়ার্ডের কর্মচাঞ্চল্য, আর নদী জীবনের মায়াময় সম্প্রীতি।

পট চারুকলা একাডেমির পরিচালক আল মামুন খান এমিল বলেন, ‘শিল্পচর্চা শুধু রঙে নয়, হৃদয়ে সম্প্রীতির বীজ বপন করে। শিশুরা তাদের চারপাশের জীবনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে তা শিল্পে রূপ দিয়েছে। নদীর পাড়ের এ খোলামেলা পরিবেশ শিল্পের আরো কাছাকাছি এনেছে তাদের।’

ক্যাম্প দেখতে আসা শখের ফটোগ্রাফার আহসানুল কবির বলেন, ‘এমন পরিবেশে এ ধরনের আয়োজন কল্পনাতীত। শিশুরা লঞ্চের ডেক, নৌকার গলুইয়ের মতো জায়গায় ঘুরছে, হাসছে, আনন্দে ছবি আঁকছে—দারুণ দৃশ্য।’

সদরঘাটের লালকুঠি থেকে মাত্র ১০ মিনিটের নৌযাত্রায় পৌঁছানো যায় ক্যাম্প এলাকায়। দিনভর সেখানে ছিল দর্শনার্থীদের পদচারণা। অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিল্পানুরাগীরা শিশুদের কাজ দেখে মুগ্ধ হন। নদীর ঢেউ, নৌকার শব্দ আর মনোযোগী শিশুশিল্পীদের মুখ মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক অনন্য পরিবেশের।

জীবনজয়ীর সার্বিক সহযোগিতা ও গুজ লিমিটেডের শুভেচ্ছায় আয়োজিত এ ক্যাম্প চলে সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত। সমাপ্তিতে আয়োজিত হয় একটি ক্ষুদ্র প্রদর্শনী, যেখানে দর্শনার্থীরা শিশুশিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ও তাদের সৃষ্টিশীল কাজের প্রশংসা করেন।