বাংলাদেশের সিনেমায় প্রথম সফল রহমান-শবনম জুটি। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সিনেমায় জুটি প্রথা বিশেষভাবে বিবেচিত হয়ে আসছে। রহমান-শবনম জুটির পর বাংলাদেশের সিনেমায় ‘রাজ্জাক-কবরী’, ‘আলমগীর-শাবানা’, ‘জাফর ইকবাল-ববিতা’, ‘সালমান শাহ-শাবনূর’, ‘মৌসুমী-ওমর সানী’, ‘শাকিব-অপু বিশ্বাস’ জুটিও দর্শকের ভালোবাসায় সিক্ত হয়।

১৯৬০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এহতেশাম পরিচালিত ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমায় ‘আমি রূপ নগরের রাজকন্যা, রূপের জাদু এনেছি’ গানটিতেই শুধু পারফর্ম করে প্রথম আলোচনায় আসেন শবনম। তার পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হয়েছিল দর্শক। যে কারণে এহতেশামের প্রযোজনায় তার ভাই মুস্তাফিজ ‘হারানো দিন’ সিনেমায়  রহমান ও শবনমকে জুটি হিসেবে নিয়ে কাজ শুরু করেন। 

সিনেমাটি ১৯৬১ সালের ৪ আগস্ট মুক্তি পায়। প্রথম সিনেমাতেই রহমান-শবনমের অভিনয়ে মুগ্ধ হয় দর্শক। এরপর তারা দুজন বাংলা-উর্দু সিনেমায় জুটি হিসেবে অভিনয় করেন ‘জোয়ার ভাটা’, ‘চান্দা’, ‘তালাশ’, ‘দর্শন’, ‘চলো মান গায়ে’, ‘চাহাত’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমা।

 একটা সময় শবনম পাকিস্তানের সিনেমায় অভিনয়ে তুমুল ব্যস্ত হয়ে ওঠায় বাংলাদেশে খুব বেশি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ হয়ে ওঠেনি। অশোক ঘোষের ‘নাচের পুতুল’ সিনেমায় অভিনয় করে আবারো সাড়া ফেলেন শবনম। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ৮ জানুয়ারি সিনেমাটি মুক্তি পায়। এ সিনেমারই গান ‘আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন’ এখনো শ্রোতা-দর্শকের ভীষণ প্রিয় একটি গান। 

এর পরও শবনম ‘শর্ত’, ‘সন্ধান’, ‘জুলি’, ‘কারণ’, ‘যোগাযোগ’, ‘সন্দেহ’ সিনেমায় অভিনয় করেন। ১৯৯৯ সালের ২৫ জুন দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশে শবনম অভিনীত সিনেমা মুক্তি পায়। সিনেমাটির নাম ছিল ‘আম্মাজান’, এটি নির্মাণ করেছিলেন কাজী হায়াৎ। এ সিনেমায় তিনি নায়ক মান্নার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। অনবদ্য অভিনয়ের কারণে এখনো দর্শকের কাছে তিনি ‘আম্মাজান’ হিসেবেই সমাদৃত হয়ে আছেন।