চমক থামছেই না ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিনের জন্য। মার্ভেলের সিনেমাটি বক্স অফিসে আয়ের দৌড়ে এখনো অপ্রতিরোধ্য গতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। রায়ান রেনল্ডস ও হিউ জ্যাকসন অভিনীত সিনেমাটি কেবল মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহে ঝুলিতে তুলেছে ৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সেদিক থেকে হলিউড বক্স অফিসের ইতিহাসে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন। তালিকায় আগের দিকে রয়েছে কেবল স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস, অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম, ইনফিনিটি ওয়ার, ব্ল্যাক প্যান্থার, জুরাসিক ওয়ার্ল্ড, দি অ্যাভেঞ্জার্স ও ইনসাইড আউট টু।
এখন পর্যন্ত ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিনের আয় কেবল নর্থ আমেরিকা থেকেই ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বৈশ্বিকভাবে আয় ৮২ কোটি ৪০ লাখ ডলার অতিক্রম করে গেছে। আয়ের দিক থেকে ডেডপুলের বর্তমান কিস্তি আগের দুটির চেয়ে ভালো করেছে। দুই সপ্তাহ পরে ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম দুই সিনেমার আয় ছিল ৭৮ কোটি ৩০ লাখ ও ৭৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এদিকে ২০২৪ সালের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিনেমার তকমা পেয়েছে ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন। তালিকায় সিনেমাটির অবস্থান ইনসাইড আউট টুর পরেই।
ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিনের বক্স অফিস অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আধিপত্য চলতেই থাকবে। অবশ্য এখন নতুন দুটি সিনেমা প্রবেশ করেছে বক্স অফিসে। প্রথমটি ট্র্যাপ ও দ্বিতীয়টি হ্যারল্ড অ্যান্ড দ্য পার্পল ক্রেয়ন। প্রথমটি থ্রিলার ও দ্বিতীয়টি শিশুতোষ। তাতে ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিনের আয়ে খুব একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং সিনেমাসংশ্লিষ্ট অনেকেই ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিনের প্রশংসা করেছেন। চলচ্চিত্র সমালোচক ডেভিড থম্পসন বলেছেন, ‘এ দুই চরিত্র মার্ভেলের সবচেয়ে মজার ও স্বতন্ত্র। ফলে রায়ান রেনল্ডস ও হিউ জ্যাকম্যানের মতো দুই অভিনেতা চরিত্র দুটোকে আরো মজার করে উপস্থাপন করেছেন। কেবল মজার নয়, দর্শক তাদের যেমন দেখতে চান, এরা তেমন করেই উপস্থাপন করেছেন নিজেদের। রায়ান ও হিউ দুজনই অসাধারণ কাজ করেছেন।’
ডেডপুল মূলত মার্ভেলের সবচেয়ে দুরন্ত চরিত্র। এতে রায়ান রেনল্ডস অভিনয় করেছেন আরো দুবার। এবার তার সঙ্গে হিউ জ্যাকম্যান যুক্ত হয়ে আরো নতুন দর্শকের মন জয় করবেন, সেটা নির্মাতারা শুরু থেকেই জানতেন। সে কারণেই যুক্ত করেছিলেন জ্যাকম্যানকে। শন লেভির পরিচালনাও প্রশংসা পাচ্ছে। সিনেমাটিকে তিনি যেভাবে ডিজাইন করেছেন, সে কারণেই এটি প্রশংসা পাচ্ছে। দুটো চরিত্রকে পাশাপাশি উপস্থাপন করা সহজ ছিল না। সেখানেই সফল এ পরিচালক। আশা করা যাচ্ছে, মন্দার পর মার্ভেল ফিরবে নতুন করে।
এদিকে পর পর কয়েকটি ব্লকবাস্টারের মধ্য দিয়ে হলিউডের অবস্থাও এখন পোয়াবারো। জুলাইয়ে অভ্যন্তরীণ আয় ছিল ১২০ কোটি ডলার। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটাই প্রথম শতকোটি ডলার আয়ের রেকর্ড। গত বছরের জুলাইয়ে বারবি ও ওপেনহেইমার মুক্তি পাওয়ার মধ্য দিয়ে বক্স অফিসে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। চলতি বছরে সে কাজ করেছে ইনসাইড আউট টু, টুইস্টার্স, ডেসপিকেবল মি ফোর ও ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন। অবশ্য উত্তর আমেরিকার বক্স অফিস এখনো গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ পেছনে।
সূত্র: ভ্যারাইটি









