কভিড-১৯ অভিঘাতে ব্যবসায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা প্রকার ধস এলেও গ্লোবাল মিউজিক মার্কেটের আয় বেড়েছে। আগের তুলনায় ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২০২১ সালে এর মূল্যমান ২ হাজার ৫৯০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। দুই দশকের মধ্যে এ আয় সর্বোচ্চ। আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোরিয়ান পপ সংগীতের ব্যান্ড বিটিএস, আমেরিকান তারকা টেইলর সুইফট ও ইংলিশ শিল্পী অ্যাডেলের অবদান সর্বাধিক। ক্যাসেট, সিডি যুগ পার করে বর্তমানে স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে আয় হচ্ছে। বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে পেইড সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৪৪ দশমিক ৩ কোটি (২০২০ সাল) থেকে বেড়ে ৫২ দশমিক ৩ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। মোট আয়ের ৬৫ শতাংশ আসছে স্ট্রিমিং থেকে এবং সিডি ও ক্যাসেট এখনো ১৯ শতাংশ অবদান রাখছে, যেখানে ডাউনলোডের অবদান মাত্র ৪ শতাংশ। বাকি ১১ শতাংশ মূলত রয়্যালটি, সিনেমা টিভি শো ও বিজ্ঞাপনে গান ব্যবহারের সম্মানী থেকে আসে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব দ্য ফটোগ্রাফিক ইন্ডাস্ট্রির (আইএফপিআই) সূত্রানুসারে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি টানা সাত বছর ধরে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখছে। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে সংস্থাটির চিফ এক্সিকিউটিভ ফ্রান্সিস মুর বলেন, ‘এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক, কেননা ১৯৯৯-এর পর ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এত খারাপ হয়েছিল যে আয় প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। আমরা ভাবতেই পারিনি যে এমন একটা পরিস্থিতিতে আসতে পারব, যেখানে ৬০-৭০টি দেশের প্রতিটিই এ খাতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে।’ এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইন্ডাস্ট্রি তুলনামূলক ধীরে মুনাফা করছে। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে দেশটির আয় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১৩০ কোটি পাউন্ডে এসে ঠেকেছে। এ আয় নিয়ে দেশটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ মিউজিক মার্কেট। প্রথম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং দ্বিতীয় স্থানে জাপান। তবে এদিকে বেশকিছু স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম রাশিয়ায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে, যেখানে রাশিয়া মূলত পঞ্চম বৃহত্তম মার্কেট। গত দুই বছরে বিশ্বের মিউজিক মার্কেটের উত্থান-পতনের চিত্রটি কৌতূহলোদ্দীপক। লকডাউনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির আয় যেখানে ২২ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে অস্ট্রেলিয়ার আয় কমেছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে বর্তমানে সংগীতের শ্রোতাদের কসমোপলিটন ব্যবহার লক্ষ করেছে আইএফপিআই। স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন দেশের, নানা ভাষার গান শুনে থাকে। 

এর বাইরে আফ্রিকার উইজকিড, কায় ও বার্না বয়ও একটি সফল বছর পার করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ার্নার মিউজিকের এমডি তেমি আন্দিজি বলেন, ‘এ মহাদেশের সংগীতশিল্পীদের জন্য বিষয়টি আনন্দের। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে এর ফলে আফ্রিকান সংগীতের উন্নতি হবে।’ মূলত কেবল আফ্রিকা নয়, পাইরেসি এবং ডাউনলোডের যুগে স্ট্রিমিং ও অন্যান্য মাধ্যমে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখলে সব অঞ্চলের সংগীতই বিকশিত হবে।

 

সূত্র: বিবিসি