এ মাসে ৬০ বছর বয়স পূর্ণ করছে মার্ভেল কমিকসের সুপারহিরো স্পাইডার-ম্যান। কিন্তু ৬০ পূরণ করলেও স্পাইডার-ম্যান এখনো তরুণ। কমিক হোক কিংবা সিনেমা, পিটার পার্কার এখনো তার পাঠক ও দর্শকের মধ্যে একটি তরতাজা ভাব এনে দেয়। মূলত স্পাইডার-ম্যানের অল্টার ইগো পিটার পার্কারের অতি সাধারণ হওয়া এবং তরুণ হয়েও তার দায়িত্ববোধের পরিচয় তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

স্ট্যান লির হাত ধরে আরো অনেক মার্ভেল সুপারহিরোর মতো করেই স্পাইডার-ম্যানের জন্ম। কিন্তু কাজটা অতটা সহজ ছিল না। কমিকের কাজ করার সময় লির সম্পাদক তাকে বলেছিলেন ভিন্ন ধারায় নতুন কিছু করতে। স্ট্যান লি কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। এ রকম অবস্থায়ই একদিন ঘরের ভেতর একটা মাকড়সা দেখে তার মাথায় স্পাইডার-ম্যানের আইডিয়া আসে। কিন্তু সে মুহূর্তে তার সম্পাদক এ কমিক স্ট্রিপ প্রকাশে আগ্রহ দেখাননি। কয়েক মাস পর হঠাৎই কোনো কারণে তিনি স্পাইডার-ম্যান প্রকাশে আগ্রহ দেখান এবং প্রকাশ করতে না করতেই তা প্রভূত জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

স্পাইডি নামে পরিচিত স্পাইডার-ম্যানের অভিষেক হয় ১৯৬২ সালের ৫ জুন। পিটার পার্কারের ব্যক্তিগত জীবন এবং স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তা বাড়তে না বাড়তেই কার্টুন এবং লাইভ অ্যাকশন টেলিভিশন প্রোগ্রাম তৈরি শুরু হয়। সিনেমা ফ্র্যাঞ্চাইজি তৈরি হওয়ার আগে সে ‘দ্য ইলেকট্র্রিক কোম্পানি’র অংশ হিসেবে নিজস্ব প্রাইম টাইম সিরিজ লাভ করে। এতে নিকোলাস হ্যামন্ড অভিনয় করেছিলেন।

কমিক স্ট্রিপ শুরু হওয়ার পর স্পাইডার-ম্যানের শতশত এপিসোড মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে স্পাইডিকে নিয়ে নানা রকম নিরীক্ষা করেছেন এর স্রষ্টা। কস্টিউমে পরিবর্তন এসেছে, যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন খলনায়ক। কিন্তু স্পাইডার-ম্যানের মূল সুরে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। পিটারকে কখনো তার সাদামাটা মানসিকতা থেকে বের করা হয়নি।

সিনেমার ক্ষেত্রে, বিশেষত মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে ১০-১২ বছরে যে পরিবর্তন এসেছে তাতে স্পাইডার-ম্যানের কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। অ্যাভেঞ্জার্সের সঙ্গে যোগ দেয়া, স্টার্কের কোম্পানির সাহায্য পাওয়া এবং মাল্টিভার্সে স্পাইডার-ম্যানের প্রবেশ নতুন ধারার গল্প ও সিনেমার ক্ষেত্রে আলাদা সংযোজন। তবে এর আগেই নানাভাবে স্পাইডার-ম্যানের বাহ্যিক পরিবর্তন হয়েছে। যেমন ২০০০ সালের দ্য আল্টিমেট স্পাইডার-ম্যান।

২০০২ সালে স্যাম রাইমি পরিচালিত স্পাইডার-ম্যান সিনেমাটি স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তা আরো বাড়িয়ে দেয়। টোবি ম্যাগুয়েরকেই যেন তখন থেকে সবাই স্পাইডার-ম্যান ভেবে নিয়েছে। এরপর স্পাইডির স্যুটে ঢুকেছেন অ্যান্ড্রু গারফিল্ড, টম হল্যান্ড। কিন্তু যে-ই থাকুন না কেন, পিটারের সাদামাটা ভাব ও তারুণ্য ধরে রাখা হয়েছে। তাই ২০২১ সালে এসেও স্পাইডার-ম্যান সেই প্রথম দিনের মতোই তরুণ।