শাহরুখ খান। নামের পর আর কিছু বলতে হয় না। ৩০ বছরের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন বহুবার। নব্বইয়ের দশকে তিনি রোমান্টিক সিনেমার মধ্য দিয়ে নিজেকে জনপ্রিয় করেছিলেন। এখন নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে। বেশি নয়, কেবল ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’ এ দুই সিনেমা তাকে খ্যাতি এনে দিয়েছে। সিনেমা দুটো পুরোপুরি অ্যাকশন ঘরানার হয়েছে কিনা তা নিয়ে অনেকের ভিন্ন মত থাকলেও শাহরুখকে দেখা হচ্ছে অ্যাকশন হিরো হিসেবেই। তিনি গ্লোবাল আইকন, কিন্তু কখনো হলিউডে সিনেমা করতে আগ্রহ দেখাননি। সম্প্রতি তিনি ভ্যারাইটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জানালেন, বিদেশী সিনেমায় অভিনয় নয় বরং তিনি ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছেন সবসময়।

লোকার্নো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ক্যারিয়ার অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন শাহরুখ। এ পুরস্কার তার কাছে কী অর্থ বহন করে এমন প্রশ্নের উত্তরে খান সাহেব বলেন, ‘একটা দীর্ঘ যাত্রা। এখানে শুট করা সিনেমা থেকেই আমাকে সবাই রোমান্টিক বয় বলে জানত। তাই আজ সুইজারল্যান্ড এসে পুরস্কার নিতে বেশ ভালোই লাগছে। মনে হলো একটা চক্র পূর্ণ হলো। আমি কখনো ভাবিনি লোকার্নো থেকে পুরস্কৃত হব। তবে এখন আমি মনে করি না, এটা শুধু আমার সম্মান। আমি সবসময়ই ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছি।’

শাহরুখ খান নব্বইয়ের দশকে, এমনকি তার পরও অ্যাকশন সিনেমা করেছেন। কিন্তু তা পাঠান বা জওয়ানের মতো ছিল না। শাহরুখ জওয়ান ও পাঠানের সফলতার মধ্য দিয়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন কিনা এমন প্রশ্ন ছিল তার কাছে। উত্তরে তিনি বলেন, ‘রোমান্টিক হিরো বলার ব্যাপারটা আমাকে অবাক করে। আমি কখনো নিজেকে রোমান্টিক হিরো মনে করিনি।’ কথা প্রসঙ্গে শাহরুখ জানান, তিনি আদিত্য চোপড়ার সঙ্গে আলাপ করছিলেন বিষয়টি নিয়ে। আদিত্যর কথা ধরেই শাহরুখ বলেন, তিনি পাঁচ-ছয়টি রোমান্টিক সিনেমা করেছেন, যা ক্ল্যাসিকের মর্যাদা পেয়েছে। 

শাহরুখ নিজের মত প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে আমি কোনো জনরা ধরে চলি না। সায়েন্স ফিকশন দেখি, ডিস্টোপিয়ান গল্পের সিনেমা দেখি। কোর্টরুম ড্রামা যেমন আমার পছন্দ, তেমনি কিছু হররও পছন্দ। আবার টম ক্রুজের ‘‘মিশন ইম্পসিবল’’ দেখতে যাই। এমন সিনেমা দর্শককে কখনো হতাশ করে না বলে আমার মনে হয়। প্রতিটি সিনেমায়ই কিছু না কিছু থাকে।’

অ্যাকশন সিনেমার নায়ক বা অ্যাকশন হিরো তকমা জোটার পেছনে কাজ করেছে পাঠান ও জওয়ান। শাহরুখ জানালেন, সিদ্ধার্থ আনন্দ প্রায় ১৫-২০ বছর পাঠানের চিন্তা করেছেন। যখনই সিদ্ধার্থের সঙ্গে তার দেখা হতো তিনি বলতেন, পাঠান নামে একটি সিনেমা নির্মাণ করবেন আর তাতে অবশ্যই শাহরুখ খানকে অভিনয় করতে হবে। শাহরুখ তখনো জানতেন না, এ সিনেমার মাধ্যমেই তিনি নতুন করে ফিরবেন রাজার হালে।

বলিউডের বাদশাহখ্যাত শাহরুখ খানের কাছে হলিউডের সিনেমার প্রস্তাব আসেনি এ কথা বিশ্বাস করার মতো না। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর সঙ্গে মার্টিন স্করসেসির পরিচালনায় তার অভিনয় করার কথা ছিল, ঘটনাটি কমবেশি সবার জানা। কিন্তু তা হয়নি। ভ্যারাইটি জানতে চেয়েছিল, কোন শর্ত পূরণ হলে তিনি অভিনয় করবেন হলিউডে? স্বভাবসুলভ হিউমার রেখে শাহরুখ বলেন, ‘বিশ্বের বৃহত্তম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার জন্য শর্ত দেয়ার মতো অবস্থান আমার তৈরি হয়নি। তবে সুযোগ পেলে অবশ্যই করব। কিন্তু তার আগে ভালো করে ইংরেজি বলা শিখতে হবে।’

এর পরই তিনি যুক্ত করেন, ‘আমার স্বপ্ন হলো এমন একটা ভারতীয় সিনেমা করা, যা হলিউডের সিনেমার মতোই আগ্রহ নিয়ে সারা বিশ্বের দর্শক দেখবে।’

ভ্যারাইটি অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান