আব্দুন নূর সজল মডেলিংয়ের মাধ্যমে বিনোদন দুনিয়ায় পা রাখেন। এরপর নাটক, সিনেমা ও হাল আমলে ওয়েব সিরিজে নিয়মিত অভিনয় করে পেয়েছেন দর্শকের ভালোবাসা। অভিনয় ও ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন সজল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী

দ্য সাইলেন্সের জন্য নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করেছেন? 

প্রস্তুতি পর্বে শুরু থেকেই আমার সঙ্গে ছিল ভিকি জাহেদ। শিবলি কিংবা ইবলিশ যা-ই বলি না কেন, এ চরিত্রের কোনো রেফারেন্স ক্যারেক্টার নেই। তবে চরিত্রের কথা বলার ধরন, চাল-চলন ও সংলাপ কেমন হবে, এসব নিয়ে আগে থেকেই আমাদের দুজনের একটা প্রস্তুতি ছিল। শিবলি চরিত্রটার শেষ দৃশ্য ছাড়া সংলাপ কম, তাই প্রত্যেক সিকুয়েন্সেই চরিত্র অনুযায়ী ছন্দ তৈরির ব্যাপার ছিল। সেজন্য আমরা শেষের প্রায় এক সপ্তাহ অনুশীলনের মধ্যে ছিলাম, কীভাবে একে আরো ভালো করা যেতে পারে তা নিয়ে। 

দ্য সাইলেন্স ওয়েব সিরিজটির পর দর্শকের কাছে সবচেয়ে বেশি কী শুনতে হচ্ছে?

এখন ইবলিশ শব্দটা সবচেয়ে বেশি শুনছি এবং এটা আমি খুব এনজয় করছি। একটা চরিত্রকে দর্শক এভাবে নাম ধরে ডাকছে। বিভিন্ন জায়গায় পোস্টও দেখতে পাচ্ছি। আমি ও আমাদের টিম বিষয়টা নিয়ে অনুপ্রাণিত। আমি মোটেও এর জন্য কষ্ট পাচ্ছি না বরং এটা আমাদের দ্য সাইলেন্সের সফলতা। 

এমন অদ্ভুত একটি চরিত্র করার প্রস্তাব আসার পর আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

কয়েক বছর ধরেই আমি ভিন্ন ধরনের চরিত্র খুঁজছিলাম। এবার যখন এ প্রস্তাব এল, তাও আবার পছন্দের নির্মাতা ভিকি জাহেদের কাছ থেকে, প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। এরপর ভিকির সঙ্গে এ নিয়ে যখন কথা হয়, তখনই চরিত্রটা আমার খুব পছন্দ হয়ে যায়। আমি জানতাম পর্দায় এর উপস্থিতি কম, কিন্তু তবু এটি আমার ভীষণ ভালো লাগে। আমরা যারা অভিনয় করতে ভালোবাসি, যত ভিন্নধারার চরিত্র করার সুযোগ হয়, আমাদের কাজের আগ্রহ আরো বেড়ে যায়।

কাজের ক্ষেত্রে আলোচনা কিংবা সমালোচনাকে কীভাবে দেখেন?

বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। আমরা অভিনয় করি। আসলে প্রত্যেকটা কাজের ক্ষেক্রেই আলোচনা বা সমালোচনার জায়গা থাকে। মিডিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায় এ দুটো বিষয় অনেক বেশি হয়। আলোচনা ও সমালোচনা দুটোই ভালো লাগে। আমার কাছে মনে হয়, আমরা প্রতি মুহূর্তেই শিখি। ভুল করা ও শেখা এটাই আমাদের জার্নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বলব, আমার কখনো মনে হয়নি আমি সর্বোচ্চটুকু করতে পারছি। একটা কাজ করার পর ভালো করা নিয়ে আমার ভেতরে অতৃপ্তি থেকে যায়, দর্শকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পরও। সমালোচনাকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখি এবং মনে করি সমালোচনা হওয়া উচিত গঠনমূলক। যাতে করে আমরা নিজেরা নিজেদের আরো তৈরি করতে পারি। আজকের বিশ্বায়নের যুগে আমাদের কাজ বিশ্বের দরবারে পৌঁছে যাচ্ছে। তাই আমাদের নিজেদের তাগিদে একজন অন্যজনকে গাইড করা উচিত, যাতে আমরা আরো ভালো করতে পারি। এতে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিরই লাভ। 

সামনে আপনার নতুন কোনো কাজ আসছে?

আমার কয়েকটা সিনেমার কাজ শেষ হয়েছে। সেগুলো এ বছর আসতে যাচ্ছে। তবে সিনেমাগুলো কবে, কখন আসবে সেটা বলতে পারছি না। আমি চার-পাঁচ বছর ধরে খুব তাড়াহুড়া করে কোনো কাজ করছি না একেবারেই। যে কাজগুলো ভালো লাগছে, সেগুলোই করছি। যাতে করে বেশি সময় দিয়ে আরো ভালোভাবে সেটা করতে পারি। নতুন কিছু কাজের কথা হয়েছে, সামনে এসব নিয়ে বিস্তারিত জানাব। 

ইন্ডাস্ট্রির কোন পরিবর্তনগুলো আপনার চোখে পড়ে? 

বিনোদনের জায়গা থেকে না কেবল, সব ক্ষেত্রেই এখন পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে প্রযুক্তির পরিবর্তনটা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। আগে হয়তো টেকনিক্যাল জায়গাটায় এতটা পরিবর্তিত জায়গায় ছিল না। তবে আমার কাছে মনে হয়, টেকনোলজিক্যালি ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে গল্প বলার ওপর জোর থাকলে বিনোদন দুনিয়ার জন্য ভালো। দিন শেষে আমি নিজেও একজন দর্শক, আমি মৌলিক গল্প খুঁজি। গল্পই একটা কন্টেন্টের প্রাণ। সে প্রাণটা পর্দায় দেখলে বেশি আনন্দ পাই।

আর যদি বিনোদন দুনিয়ার বাইরে বলি, তবে বলতেই হয় এখন আমাদের সবার হাতে অনেক গ্যাজেট। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় অনেক বেশি সময় দিচ্ছি। এটা করতে গিয়ে যেন কাছের মানুষগুলোর সঙ্গে দূরত্ব না হয়ে যায়। 

আপনার ভক্ত, দর্শকদের উদ্দেশে কিছু বলবেন...

আমি আসলেই সৌভাগ্যবান, লম্বা সময় ধরে সবার ভালোবাসা পাচ্ছি। এবার যখন দ্য সাইলেন্স রিলিজ হলো, আমি আপ্লুত এ পরিমাণ ভালোবাসা সবার কাছ থেকে পেয়ে। দর্শকের প্রত্যেকটি শব্দে আমি ভালোবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখতে পাই। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া যে এত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমি ধন্য ও কৃতজ্ঞ আপনাদের সবার কাছে। আশা করি আমি সুস্থভাবে যতদিন বেঁচে আছি, আপনাদের যেন নিরাশ না করি এবং আমার প্রতি এ ভালোবাসা থাকুক সবসময়।