দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বালাম। তার একাধিক গান পেয়েছে শ্রোতাদের ভালোবাসা। তবে হুট করেই তিন বছর বিরতি নেন এ শিল্পী। নতুন করে আবারো ফিরছেন তিনি। ফিরে আসার গল্প ও ব্যক্তি জীবনের নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন বালাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুর রহমান।
শিল্পী তার কাজের মাধ্যমে সবসময়ই মানুষের মাঝে থাকেন। তবু কখনো কখনো বিরতি নেন ও তারপর ফিরে আসেন। আপনার ক্ষেত্রে ফেরাটা কেমন?
সহজ করে যদি বলি ভক্ত-শ্রোতারাই আমাকে ফিরিয়ে এনেছেন। মাঝে মাঝে গান করেছি, যেমন ২০১৯ সালে একটা, ২০২১ সালেও একটা গান এসেছিল। কিন্তু একটা সময় তো নিয়মিত ছিলাম। সলো ক্যারিয়ার যদি ধরি, ২০০৭-২০১৩ বা ২০১৪ পর্যন্ত যে ধারাবাহিকতা ছিল, সেটা পরে আর থাকেনি। গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তবে প্রকাশ করা হয়নি।
এ নীরবতার কারণ কী?
প্রথমত ছেদ পড়ার কারণটা পারিবারিক। এরপর চাইলে গান প্রকাশ করতে পারতাম, কিন্তু ততদিনে আমাদের গান প্রকাশের মিডিয়াগুলোও বদলে গেছে। ক্যাসেটের যুগ আমি দেখিনি, কিন্তু সিডির যুগ দেখেছি। তখনো পোস্টার হতো। দেয়ালে সেসব পোস্টার দেখা যেত। এরপর তো সে সময়টা চলে গিয়ে ডিজিটাল প্লাটফর্ম এল। আমি আসলে সেখানে খুব একটা কমফোর্টেবল কখনই ছিলাম না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব কম সময় দিতাম। তাই ওভাবে অ্যাকাউন্ট বা চ্যানেলের প্রচার হয়নি। এরপর নিজের সঙ্গে নিজেই একটা সমঝোতা করি, আমি যখন মনে করব যে নিয়মিত সবকিছু মেইনটেইন করে গান প্রকাশ করা সম্ভব, তখনই ফিরব। আর ততদিন নিজের মতো গানের সঙ্গেই থাকব।
নিজের মতো গানের সঙ্গে থাকা। আমার মনে হচ্ছে আপনি গান নিয়ে নিরীক্ষা করেছেন। তাই কি?
বিভিন্ন জনরার মিউজিক নিয়ে কাজ করেছি। একসময় রক থেকে পপে এসেছিলাম। আসলে সংগীতের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। সংগীত অনেক বিস্তৃত। আমার মনে হয়েছিল, তাই আরেকটু রিসার্চ করি। সারা বিশ্বে এ সময় কোন ধরনের গান হচ্ছে, তা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেছি। আমার সিগনেচার স্টাইল তো আছেই। এর সঙ্গে একটু আরঅ্যান্ডবি বা হিপহপ বিট মিলিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছি আমার হোম স্টুডিওতে।
রক থেকে পপে এসেছিলেন। এ যাত্রার গল্পটা জানতে চাই।
আমার নিজের ব্যান্ড ছিল একটা। রেইনিগেটস নামে। স্কুল লাইফ থেকে আসলে ১৯৯১-১৯৯৫ পর্যন্ত আমরা এ ব্যান্ডটার সঙ্গে ছিলাম। এরপর বিভিন্ন স্টুডিওতে আসা-যাওয়া, সিনিয়র আর্টিষ্টদের সঙ্গে পরিচয় হয়। সে সূত্রেই ওয়ারফেজে জয়েন করি। এখানে ছিলাম প্রায় আট-নয় বছরের মতো। এ সময়ের মধ্যে আরো কিছু এক্সপেরিমেন্ট করছিলাম। তখন মনে হচ্ছিল সলো ক্যারিয়ার বা অন্যান্য কিছু করা যায়।
সলো ক্যারিয়ারে গানের পাশাপাশি আরো তো কাজ করেছেন?
হ্যাঁ, তখন টিভি কমার্শিয়ালে কাজ করছিলাম। জিঙ্গেল করেছি। টেলিভিশন নাটকের থিম সং। ফিল্মের কাজও ছিল।
আপনি তো অভিনয়ও করেছেন...
না, ঠিক অভিনয় নয়। আমার ক্যারেক্টার ধরে গল্পটা তৈরি হয়েছিল। আমি, অপূর্ব ও শ্রাবন্তী। নাটকটার নামই ছিল ‘তোমার জন্য’। আমার গানের লিরিকে ছিল তোমার জন্য সিন্ধুর নীল। ওই গান বা কনসেপ্টকে নিয়েই নাটকটা। আরেকটা করেছিলাম পরে।
অভিনয়টা আপনার কেমন লেগেছিল?
ভালো লেগেছিল। কিন্তু আমি আসলে তৈরি ছিলাম না। অভিনয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী এক্সপ্রেশন দিতে হয়। আমার মনে হয়েছে গানের তুলনায় অনেক বেশি অ্যাফোর্ট লাগে। এমনিতে আমরা মিউজিক ভিডিও করি, সেটা গানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে অভিনয়ের তুলনায় সহজ বলে মনে হয় আমার। তবে অভিনয় করে আনন্দ পেয়েছি।
গানেই ফিরি আবার। বালামের সঙ্গে আমরা জুলিকে পেয়েছিলাম। আপনার বোন। তিনি কি এখনো গানের সঙ্গে আছেন? বা তিনিও কি ফিরবেন?
আমি যেহেতু ফিরেছি, চেষ্টা করব ওকেও নিয়ে আসার। আসলে ওর জগৎটা ভিন্ন। জুলি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে হয়। নানা ব্যস্ততা থাকে। তবু আমার ইচ্ছা আছে জুলিকে নিয়ে আসার। আমার বোন বলে নয়, ওর কণ্ঠ মিষ্টি আর মিউজিক সেন্সও ভালো।
বালামের পরের অধ্যায়ে আমরা কী পেতে যাচ্ছি?
বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্ট করার ইচ্ছা আছে। জুলির কথা জিজ্ঞেস করলেন সে সূত্রে বলি, নতুন করে আর্টিস্টদের ফিচার করার ইচ্ছা আছে। অ্যালবামের কমিটমেন্ট এখনই দিতে চাচ্ছি না, কারণ অ্যালবামের যে জনপ্রিয়তা একসময় ছিল, এখন তেমনটা নেই। আপাতত ইচ্ছেটা হচ্ছে নিয়মিত আমার চ্যানেল থেকে গানগুলো আসবে। কখনো হয়তো একটু দেরি হতে পারে। কিন্তু ভক্তরা যেহেতু আমার এ নতুন যাত্রা নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, আমি নিয়মিত বিরতিতে গান প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সত্যি বলতে তাদের এ সাড়ায় আমি অভিভূত ও কৃতজ্ঞ।










