জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘ফ্রেন্ডস’ অভিনেতা ম্যাথিউ পেরি মারা গেছেন গত ২৮ অক্টোবর। নিজের বাথটাবে ডুবে মৃত্যু হয় ৫৪ বছর বয়সী এ অভিনেতার। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ওয়ার্নার ব্রোস টেলিভিশন, এমনকি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। স্কুলে পেরির সতীর্থ ছিলেন ট্রুডো। ম্যাথিউর মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত তার সহ-অভিনেতারাও। ফ্রেন্ডস সিরিজে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন জেনিফার অ্যানিস্টন, কোর্টনি কক্স, লিসা কুড্রো, ম্যাট লেব্ল্যাঙ্ক ও ডেভিড সুইমার। ম্যাথিউর মৃত্যুতে তারা পিপল ম্যাগাজিনকে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।
ফ্রেন্ডস অভিনেতারা বলেন, ‘ম্যাথিউকে হারিয়ে আমরা বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ার মতো অনুভব করছি। আমরা কেবল সহ-অভিনেতা বা সহকর্মী ছিলাম না। আমরা ছিলাম একটা পরিবার। আমাদের অনেক কিছুই বলার আছে, কিন্তু এ মুহূর্তে শোক আর বিহ্বল অবস্থার মধ্যে আছি। সময় গড়ালে আমরা আরো কিছু বলব, যতটা আমাদের পক্ষ থেকে বলা সম্ভব। আপাতত ম্যাটির (ভালোবেসে ম্যাথিউকে ম্যাটি বলে সম্বোধন করেছেন তারা) পরিবার ও ভক্তদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা।’
ম্যাথিউ পেরির অন্য সহকর্মী ও সহ-অভিনেতারাও তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। সিরিজে চ্যান্ডলারের একজন বান্ধবীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ম্যাগি হুইলার। তিনি তার ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘কী নিদারুণ ক্ষতি! পৃথিবী তোমাকে হারানোর ক্ষতি অনুভব করবে, ম্যাথিউ পেরি। ক্ষণিকের এ পার্থিব জীবনে তুমি বহু মানুষকে যে হাসিয়েছ, তার প্রভাব পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে না কখনো। আমরা একসঙ্গে যে কাজগুলো করেছি তার জন্য নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।’
ফ্রেন্ডস টেলিভিশন সিরিজ নিয়ে আলাদা করে লেখার প্রয়োজন হয় না। সিটকমের নিয়মিত দর্শকের পছন্দের তালিকায় শুরুর দিকেই থাকে ফ্রেন্ডস। ১৯৯৪ সালে শুরু হওয়া ফ্রেন্ডস চলেছে ২০০৪ পর্যন্ত, কিন্তু এখনো প্রতিদিন নতুন দর্শক তৈরি হচ্ছে এ সিরিজের। যারা সিটকম দেখেনি, তারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্রেন্ডসের ক্লিপ বা মিম দেখে অভ্যস্ত। এ সিরিজের ২৩৬টি পর্বে অভিনয় করেছেন ম্যাথিউ পেরি। তার চরিত্রের নাম চ্যান্ডলার বিং। চ্যাল্ডলার তার অভিনয় দিয়ে বহু চার্ম সৃষ্টি করেছেন, যা এখনো দর্শককে আনন্দ দেয়। সিরিজে তার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন প্যাগি ব্রিউস্টার। তিনি তার টুইটে লিখেছেন, ‘ম্যাথিউর মৃত্যুর সংবাদে আমি ব্যথিত। ফ্রেন্ডসের সেট বা তার এক দশক পর যখন ম্যাথিউর সঙ্গে দেখা হয়েছে, আমার প্রতি সে ছিল খুবই অমায়িক। আশা করি, ওপারে ভালো থাকবে ম্যাথিউ। আমি জানি, সেখানেও সবাইকে হাসাতে শুরু করেছে ম্যাথিউ।’
স্কুলে খুব অল্প সময়ের জন্য ম্যাথিউর সহপাঠী ছিলেন ট্রুডো। তিনি টুইটে লেখেন, ‘স্কুল মাঠে খেলার সময়গুলো আমি কখনো ভুলব না। আর আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের দূর-দূরান্তের মানুষের মুখে যে হাসি তুমি ফুটিয়েছ তাও মুছে যাবে না। আমাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ ম্যাথিউ। তোমাকে সবাই সবসময় ভালোবাসব আর আমরা তোমার অভাব বোধ করব।’
সূত্র: পিপল










