বাংলাদেশের থিয়েটারের বিস্তারে এবং দক্ষ থিয়েটার কর্মী তৈরিতে সুদীর্ঘ ২৩ বছর ধরে কাজ করে চলেছে প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাক্টিং অ্যান্ড ডিজাইন। এরই মধ্যে এই স্কুলের ৪৫টি ব্যাচ সফলভাবে তাদের কোর্স সম্পন্ন করেছে। পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে ৪৬তম ব্যাচেরও। ৪৬তম ব্যাচ তাদের সমাপনী প্রযোজনা হিসেবে ফ্রানৎস কাফকা’র ‘দ্য মেটামরফোসিস’ অবলম্বনে ‘রূপান্তর’ উপস্থাপন করবে। উপস্থিত থাকবেন চলচ্চিত্র নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মুহাম্মদ কাইউম। নাট্যপ্রদর্শনী ছাড়াও ওইদিন মিলনায়তনের বাইরে থাকবে উন্মুক্ত পোস্টার প্রদর্শনী।
নাটকটি নিয়ে নির্দেশক বলেন, ‘২০২৪ সালে ফ্রানৎস কাফকা’র মৃত্যুর শততম বার্ষিকীতে তার গল্প থেকে নাটকের কাজ করার সিদ্ধান্তটা লেখকের প্রতি ট্রিবিউটের সামান্য চেষ্টা। তবে কাফকাকে নিয়ে কাজ করা সহজ নয়। বলা বাহুল্য, এটা একটা দুঃসাহস! তার লেখার যে মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা এবং ঘনত্ব, সেটিকে মঞ্চের আবহে পুরোপুরি প্রকাশ করা যায় না, হয়তো কিছুটা কাছাকাছি যাওয়া যায়। গ্রেগর সামসা ও তার বাবা-মা-বোনের মধ্যে গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে আবেগীয় ও মানসিক টানাপড়েন, মঞ্চে সেটাকে একটি প্যারালাল ফ্রেমে দেখাতে গিয়ে মস্তিষ্কে ক্রমাগত ঝড় ওঠে, তাদের গল্পটা বার বার যেন নিজেদেরই গল্প হয়ে ওঠে!’
এছাড়া ৪৬তম ব্যাচের অংশগ্রহণ নিয়ে বলেন, ‘যেহেতু শিক্ষার্থীদের কোর্স সমাপনী প্রযোজনা হিসেবে নাটকটির নির্মাণ, তাই চেষ্টা করেছি ডিরেক্টরিয়াল জায়গা থেকে নিজস্ব ইন্টারপ্রিটেশনটুকু যথাসম্ভব মিনিমালিস্টিক রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের অভিনয় ও চরিত্রায়ণকে গুরুত্ব দিয়ে নাটকের দৃশ্য নির্মাণে নেচারালিস্টিক অ্যাপ্রোচ ও ফিজিক্যাল থিয়েটারের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করতে। সেই সঙ্গে, নাটকটির নির্মাণ প্রক্রিয়ার পুরো জার্নিতে এ ভাবনা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি যে ‘সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট’-এর যুদ্ধে দ্রুত প্রবহমান সবকিছুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠা সময়ে যদি ইচ্ছা করেই একটু থেমে গিয়ে চারপাশে ‘সহমর্মিতা’র বীজ বেশি বপন করা যায় তাহলে হয়তো একদিন পৃথিবীজুড়ে সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির রঙিন ফুল ফুটবে, পৃথিবীটা সুন্দর হবে, পৃথিবীটা সবার হবে।’










