মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স বহু সিনেমা নির্মাণ করেছে। অনেকের মতে, তারা সিনেমার পরিমাণ বাড়াতে গিয়ে মানের সঙ্গে সমঝোতা করেছে। অর্থাৎ মানসম্মত সিনেমা তৈরি করেনি। এ কথা বলার নানা কারণ আছে। অ্যাভেঞ্জার্সের প্রাথমিক তারকারা চলে যাওয়ার পর মার্ভেলের সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহে যেন ভাটা পড়েছে। আগের মতো বক্স অফিসে ভালো করছে না সিনেমাগুলো। পাশাপাশি সিনেমাগুলো নিয়ে আছে দর্শকের অপ্রাপ্তি। এ নিয়ে নানাজন নানা কথা বলছেন। সম্প্রতি ম্যাথিউ ভন সরাসরিই বললেন, ‘মার্ভেলের উচিত সিনেমার মানের দিকে নজর দেয়া।’
ম্যাথিউ ভন সুপারহিরো সিনেমার পরিচিত মুখ। তিনি নির্মাণ করেছেন ‘কিক-অ্যাস’ ও ‘এক্স মেন: ফার্স্ট ক্লাস’। মার্ভেলের সুপারহিরো সিনেমা মূলধারায় জনপ্রিয় হওয়ার আগে থেকেই তিনি এ বাজারে কাজ করেছেন। ফলে সিনেমা নিয়ে তার বোঝাপড়াটা অন্য মাত্রার। তার মতে, মার্ভেল ও ডিসি এ মুহূর্তে সুপারহিরো সিনেমা নিয়ে একটা ক্লান্তিকর যাত্রার মধ্যে আছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ডিসি অবশ্যই পিছিয়ে আছে, তবে জেমস গান ও পিটার স্যাফ্রানের হাতে সুযোগ আছে এখান থেকে বের হওয়ার। পাশাপাশি কেভিন ফিজের উচিত সিনেমার সংখ্যা কমিয়ে সেগুলো আরো ভালো করার চেষ্টায় মনোযোগী হওয়া।’ কেভিন ফিজ মার্ভেল স্টুডিওসের প্রধান। আর গান-স্যাফ্রান জুটি ডিসি স্টুডিওসের সিনেমার দায়িত্বে আছেন। ম্যাথিউ ভন সরাসরি এ প্রধানদের উদ্দেশ করেই কথা বলেছেন স্ক্রিন র্যান্টের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে।
সুপারহিরো সিনেমার আরো কয়েকটি সমস্যা দেখেন ম্যাথিউ। তার মতে, এখনকার সুপারহিরো সিনেমায় অতিরিক্ত সিজিআই ব্যবহার করা হয়। এতে সিনেমার মূল সৌন্দর্য নষ্ট হয়। একে সিনেমার তুলনায় ভিডিও গেম মনে হয়। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি একটা বড় সমস্যা তৈরি করেছে, কারণ দেখতে গিয়ে মনে হয় আপনি ভিডিও গেম দেখছেন।’
ম্যাথিউ ভন আরেকটি বিষয়ে দৃষ্টি দিয়েছেন। তিনি মনে করেন সুপারহিরো জনরায় অনেক বেশি সিনেমা নির্মাণের কারণে মানুষ এক ধরনের ক্লান্তিতে ভুগছে। বিষয়টি সুপারহিরো সিনেমা দেখতে দর্শকের মধ্যে ক্লান্তি তৈরি করছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার খুবই ভালো লেগেছিল দ্য ফ্ল্যাশ। কিন্তু সিনেমাটি ভালো ব্যবসা করতে পারেনি। আমার মনে হয় দর্শক এক ধরনের ক্লান্তিতে ভুগছে। সুপারহিরোয় তাদের ক্লান্তি তৈরি হয়েছে। অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে যে একটা ভালো সিনেমা নির্মাণ করলেও সেটা বাজারে ভালো করছে না। এর একটাই কারণ এক ধরনের ক্লান্তিকর যাত্রা তৈরি হয়েছে সিনেমাগুলো নিয়ে।’
দ্য ফ্ল্যাশ নিয়ে ডিসিও অনেক আশা করেছিল। সিনেমাটি সে আশা পূরণ করতে পারেনি। বলা যায় ডিসির সাম্প্রতিক আশার প্রদীপও নিভিয়ে দিয়েছে। ম্যাথিউ তার কারণ বলেছেন। একই রকম ঘটনা ঘটছে মার্ভেলের কিছু সিনেমা নিয়েও। এখন দেখার পালা দুই স্টুডিও ম্যাথিউর কথায় গুরুত্ব দেয় কিনা।
সূত্র: স্ক্রিন র্যান্ট










