ভারতের প্রবীণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে বিধু বিনোদ চোপড়া অন্যতম। প্রযোজনা ও পরিচালনা উভয় ক্ষেত্রেই সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। অবশ্য খুব বেশি চলচ্চিত্র নিজে নির্মাণ করেননি। তবে প্রযোজনা ও পরিচালনা মিলিয়ে বলিউডের বহু কালজয়ী সিনেমার সঙ্গে জুড়ে আছে তার নাম। তার সাম্প্রতিক নির্মাণ ‘টুয়েলভথ ফেইল’। সিনেমাটি বক্স অফিসেও ‘ফেইল’ করেছে, তবে সমালোচক প্রতিক্রিয়া ভালো। এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন ভিক্রান্ত ম্যাসি। সম্প্রতি এ সিনেমা নিয়ে কথা বলতে গিয়েই তিনি জানালেন, বিধু বিনোদ চোপড়া মির্জাপুর সিরিজটি একদমই পছন্দ করেননি।
মির্জাপুরের প্রথম সিজনে বাবলু পণ্ডিত চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ভিক্রান্ত। এ সিরিজ ও চরিত্র তাকে নতুন পরিচিতি দিয়েছিল। ফলে বিধু বিনোদ চোপড়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ প্রসঙ্গ এসেছে। ভিক্রান্ত জানান, তাদের আলোচনার সময় বিধু বলেছেন— মির্জাপুর তার একদমই ভালো লাগেনি। সিরিজটিকে ‘আবর্জনা’ মনে করেন তিনি।
টুয়েলভথ ফেইল নিয়ে সম্প্রতি ভিক্রান্ত কথা বলেছেন ল্যালানটপ সিনেমার সঙ্গে। সেখানে তিনি বিধুর সঙ্গে সিনেমায় যুক্ত হওয়ার স্মৃতিচারণ করেন। ম্যাসি বলেন, ‘তার অফিস থেকে ফোনকল পেয়ে আমি অবাক হয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল কেউ আমার সঙ্গে মজা করছে।’ ভিক্রান্ত জানান, শুরুতেই বিধু তাকে বলেন, ‘আমি তোমার অভিনয় তেমন একটা দেখিনি। দুই-একটা দেখেছি। গঞ্জ (ডেথ ইন দ্য গঞ্জ) না কী একটা ছিল। আমার স্ত্রী তোমার খুব প্রশংসা করেন।’
এরপর স্বাভাবিকভাবেই এসেছিল মির্জাপুরের প্রসঙ্গ। বিধু এ সিরিজ পছন্দ করেননি আর সেটা প্রকাশেও তার মধ্যে কোনো লুকোছাপা ছিল না। বিধু তাকে বলেছেন, ‘আমি ওটা দেখার চেষ্টা করেছিলাম। তবে একদমই ফালতু (বেকার)।’ এ কথা শুনে ভিক্রান্ত অবাকই হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতাম, ভারতের সবাই মির্জাপুর পছন্দ করে। সবাই আমাকে বাবু ভাইয়া বলে ডাকা শুরু করেছিল এবং এখনো ডাকে। কিন্তু বিধু বিনোদ চোপড়ার একদমই পছন্দ না সিরিজটা। তিনি আমাকে আরো বলেছেন, সিরিজের দ্বিতীয় এপিসোড দেখার চেষ্টা করেও তিনি শেষ করতে পারেননি। মাঝখানেই বন্ধ করে দিয়েছেন।’
বিধু বিনোদ চোপড়ার সিনেমার ধারা অবশ্য মির্জাপুর থেকে আলাদা। তিনি ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’, ‘মিশন কাশ্মীর’, ‘একলব্য: দ্য রয়্যাল গার্ড’ প্রভৃতি সিনেমার নির্মাতা। মির্জাপুর তার ধারার গল্প নয়। এদিকে ভিক্রান্ত ম্যাসি বিধুর এ কথা শুনে হতাশ না হয়ে বিধুর ধারার সঙ্গে মিলিয়েই অভিনয় করার চেষ্টা করেছেন। সিনেমাটি বক্স অফিসে ভালো না করলেও ভিক্রান্তের হাতে আছে আরো বেশকিছু সিনেমা। এর মধ্যে ‘হাসিন দিলরুবা’র সিকুয়াল ‘ফির আয়ি হাসিন দিলরুবা’ নিয়ে তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










