শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে মার্টিন স্করসেসি পরিচালিত ‘কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন’। সিনেমাটি মুক্তির পর ওপেনিংয়ে আয় করেছে মাত্র ৯৪ লাখ ডলার। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারের প্রিভিউ থেকেই আয় হয়েছিল ২৪ লাখ ডলার। সে হিসেবে টেইলর সুইফটের এরাস ট্যুর ফিল্মের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে সিনেমাটি। মূলত টেইলরের সিনেমার জনপ্রিয়তাই পিছিয়ে দিয়েছে সিনেমাটিকে। ধারণা করা‌ হচ্ছে এটি প্রথম তিনদিনে ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় করে ওপেনিং উইকএন্ড শেষ করবে।

মার্টিন স্করসেসির এ সিনেমা ইতিহাসের কথা বলে। সিনেমাটি মোটেও বাণিজ্যিক সিনেমার ধারা মেনে চলে না। সেদিক থেকে হিসেব করলে এর আয় কমও হয়নি। কেননা এর বাজেট ছিল ২০ কোটি ডলার। প্রথম সপ্তাহে সিনেমাটি এর খরচের ১০ শতাংশ তুলে নিচ্ছে। কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন মুক্তি পেয়েছে ৩ হাজার ৬২৮টি থিয়েটারে। এখন অনেক বাণিজ্যিক সিনেমা আরো বেশি থিয়েটারে মুক্তি পায়। এ থেকে বোঝা যায়, সিনেমাটির কোনো বাণিজ্যিক চিন্তা নেই। তবে সিনেমার ক্ষেত্রে বাণিজ্যের হিসাব এসেই পড়ে।

স্করসেসির এ সিনেমা নির্মিত হয়েছে ওসেজ হত্যাকাণ্ডের গল্পকে কেন্দ্র করে। অভিনয় করেছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, রবার্ট ডি নিরো, লিলি গ্ল্যাডস্টোন, জেসি প্লেমন্স প্রমুখ। তারকাদের নাম দেখেও সিনেমাটি নিয়ে উচ্চাশা জাগে। এছাড়া কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়েছিল। সে থেকে সিনেমাটি পেয়েছে বছরের অন্যতম সেরা সিনেমার রিভিউ। কিন্তু রিভিউর তুলনায় দর্শক আগমন কম।

সম্প্রতি মার্টিন বলেছিলেন, ‘‌সুপারহিরো সিনেমা মূলত ভালো সিনেমার বাজার নষ্ট করছে। এ সিনেমার ক্ষেত্রেও তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সিনেমাটি দেখতে অল্পবয়সী দর্শকের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে না। এর আগে ডিক্যাপ্রিও-স্করসেসি জুটির সিনেমা দি উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট দেখতে তাদের আনাগোনা ছিল। এটি মুক্তির প্রথম তিনদিনে আয় করেছিল প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেদিক থেকেও পিছিয়ে আছে ফ্লাওয়ার মুন।’

এদিকে টেইলর সুইফটের ট্যুর ফিল্মটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ বক্স অফিসেও দেখা গেছে। সিনেমাটি অগ্রিম টিকিট থেকেই আয় করেছিল প্রায় ২০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথমদিন (শুক্রবার) সিনেমাটি আয় করেছে ১ কোটি ৪ লাখ ডলার। প্রথম সপ্তাহের তুলনায় আয় প্রায় ৭২ শতাংশ কমে গেছে। এর মধ্য দিয়ে অবশ্য সিনেমার ব্যর্থতা প্রমাণিত হয় না। কেননা ট্যুর ফিল্মকে নতুন করে জীবন দিয়েছেন টেইলর। তার এ সিনেমার পাশাপাশি বিয়ন্সের রেনেসাঁ ট্যুর নিয়েও দর্শকের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

মার্টিন স্করসেরির ফ্লাওয়ার মুন খুব বেশি আয় করবে না এ কথা সবাই জানত। কিন্তু সে হিসেবেও আয় কম হয়েছে। আয় করছে টেইলরের সিনেমা। এর মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি একটি নতুন বার্তা পাচ্ছে। সিনেমার ক্ষেত্রে দর্শকের পছন্দ দ্রুত বদলে গেছে। এর মাধ্যমে সিনেমা নির্মাতারা নতুন করে তাদের নির্মাণ নিয়ে ভাবতে বাধ্য হবেন, এ ব্যাপারে সিনেমাসংশ্লিষ্ট কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়।

সূত্র: ভ্যারাইটি